স্পিন বোলিং মেশিনটি ইংল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে, তবে অন্য সব মেশিনের তুলনায় এটা ভিন্ন ও ওজনে বেশী হওয়ার বিমান পথে আনার উপায় ছিল না। তাই বিসিবি সমুদ্র পথে মেশিনটি এনেছে, রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম পোর্টে এসে পৌছায় স্পিন বোলিং মেশিনটি।
মেশিনটির মূল্য ১০ হাজার পাউন্ডের (১৬ লাখ টাকা) কাছাকাছি। এই বোলিং মেশিনের খুঁটিনাটি মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস।
তিনি বলেন, 'উপমহাদেশের এই বোলিং মেশিনটা খুব একটা বেশি ব্যবহৃত হয় না কারণ আমরা জানি পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশে স্পিন বোলারের সংখ্যা অনেক বেশি। মূলত এটা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড- এসব দেশে ব্যবহৃত হয় যেখানে উইকেট বা কন্ডিশন স্পিন বোলিং বান্ধব না, ওখানে ওরা অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করে।'
'আমাদের অনুশীলনের যে যন্ত্রগুলো আছে, তার মধ্যে বোলিং মেশিনটা একটা নতুন সংযোজন। বোলিং মেশিনে তিন ধরনের বল খেলা যায়, লেন্থ চেঞ্জ করা যায়। বলের পেস, মানে ধরেন স্পিনারের মধ্যে কিছু স্পিনার আছে জোরে বোলিং করে, কিছু স্পিনার আছে আস্তে বোলিং করে, সেই পেসটাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।'
সোমবারই হোম অফ ক্রিকেটের একাডেমী মাঠে এ নিয়ে অনুশীলনে নেমে যান শামীম পাটোয়ারিরা। মেশিনটি চালু করার সময় সেখানে শুরু থেকেই ছিলেন নাফিস ও হেড কোচ ফিল সিমন্স। আর প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার হিসেবে এই মেশিনের ছোড়া বলটি খেলেন শামীম পাটোয়ারি।
এর আগে দুটি গ্রানাইডের স্ল্যাব পাশাপাশি বসিয়ে দুই পাশ উঁচু করে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং অনুশীলন করতেন শান্ত-লিটনরা। স্ল্যাবের সাহায্যে এই ধরনের অনুশীলন করেই স্পিন বল বুঝতে বা খেলতে চেষ্টা করতেন তারা। কয়েকবছর ধরেই এভাবেই অনুশীলন করে আসছিলেন জাতীয় দলের ব্যাটাররা।
তাই মাস পাঁচেক আগে ক্রিকেটারদের অনুশীলন সহজ করতেই স্পিন বোলিং মেশিন আনার পরিকল্পনা করেছিল বোর্ড। অবশেষে সোমবার সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখা গেল মিরপুরের একাডেমী মাঠে।
নাফিস আরো বলেন, 'এই বোলিং মেশিনটা নিয়ে অনেক দিন ধরেই কথা হচ্ছিল। বোলিং মেশিনটার নাম 'মার্লিন বাই বোলা'। এটা স্পিন বোলিংয়ের জন্য কাজ করে। নরমালি যে বোলিং মেশিনগুলো আমরা ব্যবহার করি, এগুলোতে তো ফাস্ট বোলিং আসে, বল সুইং করে, বাউন্স করে। এটার মেকানিজমটা একটু আলাদা।'