করোনার চেয়েও কঠিন সময় কাটিয়েছিঃ আশরাফুল

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। জনজীবনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এর চাইতে খারাপ সময়ও পার করেছেন বলে মনে করছেন মোহাম্মদ আশরাফুল! সম্প্রতি 'নট আউট নোমান' লাইভ অনুষ্ঠানে এমনটা বলেছেন তিনি।
ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ধরা পড়ার পর পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলেন আশরাফুল। ওই সময়টা তাঁর চোখে করোনার চাইতেও ভয়ঙ্কর।
আশরাফুল বলেন, ‘একজন আমাকে বলছিলেন, এখন করোনার ভেতরে আমরা সবাই ঘরবন্দী। আপনার কেমন লাগছে? আমি বললাম আমার খুব আহামরি খারাপ লাগছে না। তিনি একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, বলেন কি এমন অস্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে খারাপ আর কি হতে পারে? এতেও আপনার খুব খারাপ লাগছে না? আমি বললাম- ভাইরে, আমি আমার জীবনে করোনার চেয়েও কঠিন সময় কাটিয়েছি।

যখন ম্যাচ গড়াপেটায় অভিযুক্ত হয়ে আমাকে নিষিদ্ধ করা হলো, আমি নিজে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং করার কথা স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলাম, তখনকার অবস্থা ছিল এর চেয়ে খারাপ।’
২০১৩ সালের বিপিএলে ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের হয়ে খেলার সময় চিটাগং কিংস এবং বরিশাল বার্নাসের বিপক্ষে ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করেন আশরাফুল। আলোচনায় আসে তাঁর জাতীয় দলের ফিক্সিংও।
২০১৬ সালে আশরাফুলকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অনুমতি দেয়া হয়। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় তাঁর। লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকায় দুর্বিষহ হয়ে পড়ে তাঁর জীবন।
আশরাফুল আরও বলেন, ‘এখনো মনে আছে কি মানসিক উৎপীড়ন ছিল সেটা। সবাই জানছে আমি অপরাধ করেছি। অন্যায় কাজ করেছি। ম্যাচ পাতিয়েছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি তখন সবার চোখে অপরাধী। সবাই বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করলো। অনেক কাছের মানুষও দূরে সরে গেলেন। প্রিয়জনদের কেউ কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমার প্রতিনিয়ত মনে হতো এরকম একটা অবস্থায় আমি কি করে বেঁচে থাকবো? আমি কি করে জনসম্মুখে মুখ দেখাবো? আমার পরিবারের কাছে কি বলবো?
তাদের কি অবস্থা হবে? সামাজিকভাবে আমি ও আমার পরিবার যে হেয় প্রতিপন্ন হবে, এটা ঢাকবো কি করে? তখন এক সময় আমার মনে হয়েছিল এ জীবন আর রেখে কি লাভ, তার চেয়ে বরং আত্মহত্যা করি। তারপর আমি হজে যাই। হজে গিয়ে আমার মন মানসিকতা পরিবর্তন ঘটে।’