বদলে যাওয়া মাশরাফির পথিকৃৎ ম্যাকগ্রা

ছবি:

এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে (ডিপিএল) সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় এসেও নিজেকে দুর্দান্তভাবে প্রমাণ করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
তাঁর ক্ষুরধার বোলিংয়ের সামনে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানকেই। বোলিংয়ের লাইন এবং লেন্থ বলা যায় পুরো টুর্নামেন্টেই নিখুঁত ছিলো মাশরাফির। সম্প্রতি বিডি নিউজ ২৪ কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নিজের বোলিং সাফল্যের রহস্য উন্মোচন করেছেন টাইগার দলপতি।
এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী পেসার গ্ল্যান ম্যাকগ্রার কথা উল্লেখ করেছেন মাশরাফি। একদা নাকি ম্যাকগ্রা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন গতির কথা মাথায় না রেখে বোলিংয়ের লেন্থ ঠিক রাখতে। এরপর থেকে অজি পেসারের পরামর্শই অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছেন ম্যাশ। আর সাফল্যও পাচ্ছেন নিয়মিত। বিডি নিউজকে মাশরাফি বলেছেন,
'লেংথটাই সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গতি দেড়শ কিলোমিটার হোক বা একশ, লেংথ ছাড়া সব অচল। গ্লেন ম্যাকগ্রা আমাকে একটা কথা বলেছিল একবার, “লাইন ভালো না থাকলেও তোমার যদি শুধু লেংথ ঠিক থাকে, তাহলে খুব বাজে দিন হলেই কেবল তুমি মার খাবে। নইলে বেশিরভাগ সময়ই পার পাবে।'

মাশরাফি আরো বলেন, 'লেংথ ভালো হলে ব্যাটসম্যানকে কিছুটা হলেও ঝুঁকি নিয়ে মারতে হবে। বোলার হিসেবে এটাই চাওয়া যেন ব্যাটসম্যান ঝুঁকি নেয়। আর লেংথ ভালো থাকা মানেই একজন বোলারের ৭০ ভাগ এগিয়ে থাকা। লাইন পরে। বেশির ভাগ বোলার যারা অধারাবাহিক বা ঠিকমতো পারছে না, তাদের ওই লেংথই মূল সমস্যা।'
মাশরাফিকে এই টিপসটি ম্যাকগ্রা দিয়েছিলেন ২০০৩ সালে বলে নিজেই জানিয়েছেন তিনি। সেবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার পর মাশরাফি নিজেই ম্যাকগ্রার কাছে টিপস চেয়েছিলেন। এরপর কি বলেছিলেন অজি পেসার? মাশরাফির ভাষায়, '২০০৩ সালে আমরা যখন সফরে গেলাম। আমি তার কাছে টিপস চেয়েছিলাম। সে বলেছিল, “তুমি আগে একদিন আমাকে ফলো করো। এরপর কথা বলব।''
ম্যাকগ্রার এই কথার পর তাঁকে ফলো করা শুরু করেন মাশরাফি। তাঁর দিনের রুটিন থেকে শুরু করে বোলিং পর্যন্ত সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন,
'টেস্ট ম্যাচ চলছিল তখন। তার পর দিনের রুটিন জেনে নিলাম। সকাল সাতটায় সুইমিং সেশন। দেখলাম বসে। পরে স্ট্রেচিং। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট। কি কি খায়, সেসব দেখলাম। এরপর মাঠে গিয়েও দেখলাম। সেদিন তার বোলিং ছিল। কিভাবে গা গরম করছে, প্রস্তুত হচ্ছে, সবই দেখলাম। তার পর টেস্ট ম্যাচ শেষে অনেক কথা বলল। তার রুটিনের প্রতিটি অংশ বোলিংয়ের জন্য কতটা জরুরি, সেসব বুঝিয়ে বলল।'
সেসময় নাকি হাবিবুল বাশার সুমন ব্রেট লির সাথে কথা বলতে বলেছিলেন। পরবর্তীতে বাশারের কথা অনুযায়ী অজি ফ্রন্ট লাইন পেসারের সাথে কথা বলেন মাশরাফি। মূলত নিজের গতি ভালো ছিলো বলেই লির পরামর্শ নিতে বলা হয়েছিলো টাইগারদের বর্তমান দলপতিকে। তবে লির থেকে ম্যাকগ্রার বোলিং বেশি ভালো লাগতো মাশরাফির। তিনি বলছিলেন,
'সুমন (হাবিবুল বাশার) ভাই, সুজন (খালেদ মাহমুদ) ভাইরা বলেছিল আমাকে ব্রেট লির সঙ্গে কথা বলতে। যেহেতু আমার গতি তখন ভালো ছিল। ওই সিরিজেও ১৪৩-১৪৪ কিলোমিটারে বল করেছি। লির সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। এমনকি জেসন গিলেস্পির সঙ্গেও বলেছিলাম। তবে সত্যি বলতে, নিজে বেশি আগ্রহী ছিলাম ম্যাকগ্রার ব্যাপারে। তার ধরনটাই বেশি ভালো লাগত আমার।'