পাঁচ বছর চলার ক্ষমতা আছে বিসিবিরঃ নিজামউদ্দিন

ছবি: ছবি- ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
করোনাভাইরাসের কারণে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে দেউলিয়া হওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এমনটাই।
পত্রিকাটির রিপোর্টে বলা হয়েছে শুধু বিসিবিই নয়, বরং ইংল্যান্ড এবং ভারত ছাড়া বাকি সব দেশই দেউলিয়া হতে পারে এই বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাবে। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল দেখছেন না বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী। নিজামউদ্দিনের দাবি সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকলে বিনা আয়ে আগামী পাঁচ বছর চলার সামর্থ্য রয়েছে বিসিবির।
একটি বাংলা দৈনিককে তিনি বলেন, 'আইপিএলকে মডেল হিসেবে নিয়ে হয়তো রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রেক্ষাপট, এফটিপি অনুযায়ী বিসিবির আর্থিক ক্ষতির কোনো কারণ দেখি না। বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে হয়তো ভবিষ্যৎ সিরিজ বিক্রিতে প্রভাব পড়বে। সে ক্ষেত্রে আমরা সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে দেউলিয়া হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং আমি বলব, আগামী পাঁচ বছর চলার মতো আর্থিক সক্ষমতা আছে বিসিবির।'

চলতি বছর ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সিরিজ দুটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে এতে তেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না বিসিবির বলে জানিয়েছেন নিজামউদ্দিন।
তাঁর ভাষ্যমতে, 'অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজ রেভিনিউ জেনারেট সিরিজ নয়। ভারত, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে হোম সিরিজ থাকলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। কারণ এ তিনটি দলের বিপক্ষে খেলা থাকলে লাভ বেশি আসে। সুতরাং এফটিপি কমিটমেন্টের দিক থেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না।'
বিসিবির খরচ কমানোর একটি প্রক্রিয়াও দেখিয়ে দিয়েছেন নিজামউদ্দিন। বোর্ডের বার্ষিক খরচ ১০০ কোটি টাকার মধ্যে আনতে পারলে তেমন সমস্যার মুখে পড়তে হবে না বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সেক্ষেত্রে আগামী ৫ বছর নির্বিঘ্নে চলতে পারবে বিসিবি।
বোর্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, 'বার্ষিক খরচ ১০০ কোটি টাকার মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে কোনো সমস্যা হবে না। আমার ৫০০ কোটি টাকা এফডিআর আছে- এ হিসাবে শূন্য উপার্জন থেকেও পাঁচ বছর বিসিবি ভালোভাবে চলতে পারবে। এখন কথা হচ্ছে, করোনাভাইরাস থেকে বিশ্ব উত্তরণ ঘটার পর নিশ্চয়ই পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। আমি উঁচু গলায় বলব না, আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো। তবে আমরা করোনাভাইরাস-উত্তর সময়েও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চলতে পারব।'
লাইফবয়ের সঙ্গে স্পন্সরশীপের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে কোনো কোম্পানির সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি হয়নি বিসিবির। আগামী মে মাসে টিভি সত্ত্ব বিক্রির মেয়াদও শেষ হবে বোর্ডের। সেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বিসিবি বলে মনে করছেন অনেকেই। কিন্তু নিজামউদ্দিন এক্ষেত্রেও তেমন সমস্যা দেখছেন না। যতটা সম্ভব ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
প্রধান নির্বাহীর ভাষ্যমতে, 'স্বত্ব থাকলে যেটা হতো টিভি কোম্পানি ও স্পন্সর কোম্পানিকে ছাড় দিতে হতো। আমাদের সে সমস্যা নেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটা প্রভাব তো পড়বে। আমরা সিরিজ ধরে ধরে গেলে সুবিধা হবে। তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ভালো সময় ফিরলে দীর্ঘমেয়াদে জন্য টিভি স্বত্ব বিক্রি করা যাবে।'