যেভাবে শুরু হলো বিশ্বসেরা লিগ আইপিএল

ছবি: ছবি- সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
আজ থেকে ১২ বছর আগে শুরু হয়েছিলো বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)। শুরুর সময়ে আইপিএলের এত সাফল্য হয়তো স্বয়ং বিসিসিআইও ঠাওর করতে পারেনি। কারণ বিশ্বসেরা এ ক্রিকেট লীগ শুরুর পরিকল্পনাই যে ছিল না তাদের।
২০০০ সাল থেকেই বিসিসিআইয়ের ব্রডকাস্টিং রাইট কিনতে আগ্রহী ছিল এসএল গ্রুপ তথা জি গ্রুপ। প্রত্যেকবার নিলামে বেশি দাম দিয়েও তারা ব্রডকাস্টিং সত্ত্ব পাচ্ছিলো না। এর কারণ হিসেবে মার্কেটিং অভিজ্ঞতায় ঘাটতির কথা জানিয়েছিল ভারতের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই।
অনেকবার আদালতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলো এসএল গ্রুপ। ২০০৫ সালে জি স্পোর্টস নামে নতুন চ্যানেলো খোলে এসএল গ্রুপ। একই সঙ্গে টেন স্পোর্টসের অর্ধেক মালিকানাও কিনে নেয় সংস্থাটি। কিন্তু হঠাৎ বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ঝামেলা বাধে তাদের।
তাই ২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ (আইসিএল) নামে নতুন একটি লীগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় এসএল গ্রুপ। তবে শুরু থেকেই এ লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বিসিসিআই। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তারা।

কপিল দেব, সন্দীপ প্যাটেলসহ অনেক বড় বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আইসিএলের সঙ্গে যুক্ত হন। এই লিগে ঢাকা ওয়ারিওর্স নামেও একটি দল ছিল যেখানে খেলেছেন হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ রফিক, আফতাব আহমেদ, অলক কাপালি, ফরহাদ রেজা, শাহরিয়ার নাফিসদের মতো বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটাররা।
আইসিএল বন্ধের জন্য ঘরোয়া লীগে ম্যাচ ফি বাড়ানো , ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করা সহ নানা পদক্ষেপ নেয় বিসিসিআই। আর বলা যায় আইপিএলের জন্মের কারণ এই বন্ধের প্রক্রিয়াই । বিসিসিআইয়ের সহায়তা পেতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিসিও সমর্থন দেয়নি আইসিএলকে। শেষমেশ দুইটি আসর মাঠে গড়ানোর পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় টুর্নামেন্টটি।
২০০৭ সালের নভেম্বরে আইসিএল শুরুর কথা ঘোষণা করা হয়। নতুন এই লীগ নিয়ে দর্শকদেরও যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। কিন্তু এ নিয়ে চিন্তিত ছিল বিসিসিআই। সেই কারণেই আইসিএল বন্ধের তোরজোড় শুরু করে তারা। ২০০৭ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলো ভারত। সে সিরিজ শেষে ভারতের একটি হোটেলে ঘোষণা করা হয় আইপিএল আয়োজনের কথা।
এ ঘোষণা হঠাৎ করে এলেও পরিকল্পনা অনেক বছর ধরেই করছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার অরুন লাল ও লোলিত মোদি। কিন্ত তাদের এসব কাজ তেমন গুরুত্ব পায়নি বিসিসিআইয়ের কাছে। মূলত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেই গুরুত্ব সহকারে দেখেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
এমনকি ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও তেমন আগ্রহ ছিল না ভারতের। আর তাই অনভিজ্ঞ একটি নতুন দল পাঠিয়েছিল তারা সেই আসরে। এরপর ২০০৮ সালে সিবি সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ভারত। সেই সিরিজ চলাকালীন আইপিএলের দলগুলোর নিলাম হয়।
শাহরুখ খান, মুকেশ আম্বানি, প্রীতি জিন্তা, বিজয় মালিয়ারা আইপিএলের প্রতি আগ্রহী হন। স্পন্সর, বড় বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তিসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়। শুধু বাকি ছিল আইপিএলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত জিতলে এই ফরম্যাটের ক্রিকেট নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আগ্রহ জাগে। তাই আইপিএলের প্রতিও আগ্রহী হয় তারা। কিন্তু আকস্মিকভাবেই টিভি চ্যানেলগুলোকে নিউজ কভারেজের জন্য ফুটেজ দিতে মানা করে বিসিসিআই। এতে সবগুলো টিভি চ্যানেলও বয়কট করে আইপিএলকে।
২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল ছিল আইপিএলের প্রথম ম্যাচ। এর আগের রাত পর্যন্তও বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল চ্যানেলগুলো। হঠাৎ করেই ১৮ এপ্রিল ভোরে ফুটেজ দিতে রাজি হয়ে যায় বিসিসিআই। এরপর তো প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত কি হয়েছে, তা তো সবারই জানা!