করোনাভাইরাস এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
বর্তমান বিশ্বে আতঙ্কের অপর নাম হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে করোনাভাইরাস। যার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। আর এই স্থবিরতা বিরাজ করছে গোটা দুই-এক সপ্তাহ আগে থেকে। ধারণা করা হচ্ছে সপ্তাহখানেক পর্যন্ত বজায় থাকবে ক্রিকেট বিশ্বের এই অবস্থা।
করোনা আতঙ্কে টুর্নামেন্ট পিছিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সিরিজ বাতিল হওয়া পর্যন্ত বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি ক্রিকেট খেলাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে কয়েকটি দেশে।
এই বছর যদি বল ২২ গজে আর না গড়ায় সেক্ষেত্রে কেমন প্রভাব পড়বে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে চলুন এক নজরে সেগুলো দেখে আসি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)
ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। প্রতিবছরের মতো এই বছরও বসার কথা ছিল আইপিএলের আসর। সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল প্লেয়ার ড্রাফটও। চলতি বছরের ২৯ মার্চ শুরু হবার কথা ছিল এর ১৩তম আসরটির। কিন্তু বিধিবাম। করোনার প্রভাবে টুর্নামেন্টটি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়া হলেও করোনার প্রাদুর্ভাবে এবারের আসরটির শুরু নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে আয়োজকদের মনে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ
করোনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও। রোগটির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ সিরিজগুলো চলুন এক নজরে দেখে নেই-

মার্চঃ শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড (২ টেস্ট)
জুনঃ ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩ টেস্ট)
জুলাইঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২ টেস্ট)
জুলাইঃ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (৩ টেস্ট)
জুলাই-আগস্টঃ ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান (৩ টেস্ট)
আগস্টঃ বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড (২ টেস্ট)
নভেম্বর-ডিসেম্বরঃ নিউজিল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩ টেস্ট)
ওয়ানডে লিগ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চলতি বছরের মে থেকে ওয়ানডে লিগ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেখানে অংশ নিবে ১৩টি দেশ। প্রায় এক বছর লম্বা টুর্নামেন্টটি শেষ হবার কথা ২০২২ সালের ৩১ মার্চ। কিন্তু করোনার প্রভাবে সংশয় দেখা দিয়েছে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়েও।
দ্যা হান্ড্রেড
ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নতুন এক ফরম্যাটের ক্রিকেটের সাথে বিশ্বের পরিচয় করিয়ে দেবার কথা আগামী জুলাইয়ে। ক্রিকেটের নতুন এই সংস্করণের নাম দেয়া হয়েছিল দ্যা হান্ড্রেড। ১০০ বলের ইনিংসের এই টুর্নামেন্টে ৮টি পুরুষ দল এবং ৮টি নারী দলের অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু করোনা আতঙ্কে ইসিবির সেই আশায় ভাটা পড়েছে কিছুটা। শঙ্কা জেগেছে আয়োজন নিয়েও।
এশিয়া কাপ
৬ দেশের অংশগ্রহণে সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের এশিয়া কাপের আসর। আয়োজক পাকিস্তান হবার কথা থাকলেও ভারতের সাথে আন্তঃকোন্দল থাকায় নিশ্চিত করা যায়নি টুর্নামেন্টের ভেন্যু। ভেন্যুর সঙ্গে সঙ্গে টুর্নামেন্টের আয়োজনও করোনার প্রভাবে বর্তমানে কিছুটা অনিশ্চিত। কেননা করোনার প্রভাবে চলতি বছর ক্রিকেট বন্ধ থাকলে বাতিল হবে এবারের আসরটি।
টি-২০ বিশ্বকাপ
নারীদের ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্নের পর চলতি বছরের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়াতে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরু হতে যাচ্ছে। গেল নভেম্বরে, নেদারল্যান্ডস, পাপুয়া নিউগিনি, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড এবং ওমান - ছয়টি দল বাছাইয়ের শীর্ষ ছয়টিতে জায়গা করে নিয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পাশাপাশি এই ছয় দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর থেকে শীর্ষ চারটি দল সুপার ১২ এর মঞ্চে প্রতিযোগিতার শীর্ষ-আট দলের সাথে যোগ দেবে, যেখানে দলগুলি দুটি গ্রুপে বিভক্ত হবে।
করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এই ইভেন্টিও। যদিও আইসিসি এবং আয়োজক দেশ উভয়ই বেশ আশাবাদী ঠিক সময়েই টুর্নামেন্টটি শুরু করার বিষয়ে।
নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ
২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে চলতি বছরেই। টুর্নামেন্টের শেষদিকে এসে এতে থাবা মেরেছে করোনা। যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের মধ্যকার সিরিজ। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা এবং ভারত-পাকিস্তান সিরিজটি। যদিও এই সিরিজ দুটির তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।