দর্শকদের সতর্কবার্তা দিলেন মুশফিক

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। একটা প্রচলিত রীতি ছিল যে, ক্রিকেটে ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়রা পরস্পর করমর্দন করতো পরাজিত দলের খেলোয়াড়দের সাথে, এমনকি প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে গিয়েও বলে আসতো নানা সৌজন্যমূলক কথা। কিন্তু সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে শিকেয় উঠেছে ক্রিকেটের এই সব রীতিনীতি।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কডিভ-১৯ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে বাদ দিতে হয়েছে এইসব সৌজন্যবোধ। সমগ্র বিশ্বজুড়ে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সিরিজ, পিছিয়ে যাচ্ছে টুর্নামেন্ট। আর যাও খেলা চলছে সেগুলোও দর্শকশূন্য রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে। আবার অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট খেলাও। এমনই এক পরিস্থিতিতে রবিবার (১৫ মার্চ) শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ৭ম আসর।
এবারের আসরটি দর্শকশুন্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আশঙ্কা প্রমাণিত হয়েছেও কিছুটা। মিরপুর হোম অফ ক্রিকেটে ডিপিএলের উদ্বোধনী দিনে মাঠে দর্শকের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায়নি।

তবে নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি সতর্ক হয়ে মাঠে খেলা দেখতে আসবেন দর্শকেরা এমনটাই মনে করেন আবাহনীর তারকা খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে জয় এনে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে দর্শকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, 'এখানে বাংলাদেশের সবাই তো ক্রিকেট পাগল। তাই তাদেরকেও আমি একটা বার্তা দেব যেন তাঁরা নিজেদের প্রতি সচেতন থাকে।'
ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান আরও বলেন, 'যদি গ্যালারিতে বসেও তাহলে যেন একটু দূরত্ব বজায় রাখে কিংবা মাস্ক পড়ে থাকে। যতটা করা যায়। কারণ একজন আক্রান্ত হলে অবশ্যই আরেকজনের হতেও পারে। আমি মনে করি তাদের অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। এখন তারা যদি আমাদেরকে ভালোবাসে তাহলে আমাদেরও তাদেরকে ভালোবাসতে হবে। তাদেরকে সেই সতর্কতা দেয়া উচিৎ। আমার একটা অনুরোধ থাকবে যে তারা যেন সচেতন থাকে।'
ফাঁকা গ্যালারীতে গেল শুক্রবার (১৩ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম ও???ানডেটি। ধারণা করা হচ্ছিল ডিপিএলের এবারের আসরে এমনই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
ব্যাপারটি বেশ অদ্ভুত বলে মনে করছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সেই ঘটনার উদাহরণ টেনে মুশি বলেন, 'আসলে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডেটি দেখে খুব অদ্ভুত লেগেছে। মাঠে কেউ নেই। বল যখন বাউন্ডারিতে যাচ্ছে তখন লকি ফার্গুসন যেয়ে উঠিয়ে নিয়ে আসছে। এটা আসলে কঠিন।'
করোনা ঝুঁকি কমাতে ডিপিএলে কোন কোন পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে সেটা বিষয়ে মুশফিক বলেন, 'আমাদের বলে থুতু লাগানো যাবে না। হ্যান্ডশেকও করা যাবে না। বলা হয়েছে আমরা যেন একটু দূরে থাকি। পানি পানের বিরতির সময় হেক্সিসল, স্যানিটাইজার সবকিছুই ছিল। পানির বোতল প্রত্যেকের জন্য আলাদা ছিল। সবাই চেষ্টা করেছে সব কিছু মেনে চলার, যতটা নিরাপদে থাকা যায় আর কি।'