টেস্টেও ফ্রি হিটের প্রস্তাব

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
টি-টুয়েন্টি, ওয়ানডে এবং টেস্টের পর এবার টেস্ট ক্রিকেটেও ফ্রি হিট অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সেই সঙ্গে ক্রিকেটে সময় বাঁচানোর জন্য কাউন্টডাউন ঘড়িও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে তাঁরা।
গত সপ্তাহে ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এমসিসির প্রধান মাইক গ্যাটিং অন্য সদস্যদের সাথে নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন। যে প্রস্তাবনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি বিষয়।
ক্রিকফ্রেঞ্জির পাঠকদের জন্য এমসিসির প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরা হলঃ
লঙ্গার ভার্সনে ফ্রি হিট অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসি। টেস্টে ফ্রি হিট দর্শকের মাঝেও বেশ উত্তেজনা আনবে বলে বিশ্বাস করেন এমসিসির সদস্য শেন ওয়ার্ন। তিনি জানিয়েছেন,

‘ধরেন আমি এটা নো বল করলাম, সেটায় ব্যাটসম্যান আউট হলো। কিন্তু এরপর দেখা গেলো যে সেটা নো বল ছিল। ব্যাটসম্যান প্রথমে ভাববে সে আউট, পরে সে দেখবে এটা ফ্রি হিট। দর্শকরাও প্রথমে ভাববে তাদের প্রিয় ক্রিকেটার আউট, এরপর তাঁরা ফ্রি হিট দেখে উচ্ছ্বসিত হবে।
'এই উত্তেজনাটা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আছে, টেস্টে কেন থাকবে না? শুধু তাই নয়, এটা নো বলের পরিমাণও কমাবে। ফ্রি হিটের জন্য ইংল্যান্ড তিন বছর পর নো বল করেছিল ওয়ানডেতে। আশা করি আইসিসি এই প্রস্তাবটা গ্রহণ করবে।’
সময়ের অপচয় রোধে কাউন্টডাউন ঘড়ির অন্তর্ভুক্তিঃ
বিগত কয়েক বছর ধরেই ম্যাচের সময় নষ্ট কিভাবে রোধ করা যায় সেটা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিল আইসিসি, তাঁদের সঙ্গে কাজ করছিল এমসিসিও।
১। সময় বাঁচাতে স্কোরবোর্ডে বিশেষ ধরনের একটি ঘড়ি বসাতে চায় এমসিসি। বোলারদের নতুন ওভার শুরু করার জন্য এই ঘড়ি দেখাবে ৪০ সেকেন্ড সময়। যদি নতুন ব্যাটসম্যান স্ট্রাইক নেয়, তাহলে সেটা বেড়ে দাঁড়াবে ৬০ সেকেন্ডে। আর যদি অন্য প্রান্তে বোলার পরিবর্তন হয়, তাহলে সময় দেওয়া হবে ৮০ সেকেন্ড। এর মাঝে যদি নতুন ওভার শুরু না হয়, তাহলে আম্পায়ার ফিল্ডিং করা দলের অধিনায়ককে সতর্ক করবেন।
২। কোন ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর আরেক ব্যাটসম্যানকে একটা নির্দিষ্ট একটি সময়ের মাঠে প্রবেশ করতে হবে, যে সময়টা দেখা যাবে স্কোরবোর্ডের সেই ঘড়িতে। এছাড়া পানি পানের বিরতির জন্যও থাকবে নির্ধারিত সময়, স্কোরবোর্ডে ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই খেলা শুরু করতে হবে।
৩। সেই সঙ্গে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এলবিডব্লিউয়ের রিভিউতে সময় নষ্ট করা হয় বল ব্যাটে লেগেছে কিনা সেটা দেখতে। এখন থেকে যত দ্রুত সম্ভব বল ট্র্যাকিং ডাটা লোড করে দেখতে হবে বল স্টাম্প মিস করছে কিনা। এরপর সাথে সাথেই এটা তৃতীয় আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারকে জানিয়ে দেবেন নট আউটের সিদ্ধান্ত। যেন অতিরিক্ত সময় নষ্ট না হয়।
রেড ডিউক বলে ক্রিকেটঃ
টেস্ট বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রকমের বল। যেমন কোকাবুরা বা রেড ডিউক। যেহেতু সামনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে তাই এমসিসির চাওয়া একটা নির্দিষ্ট বলেই হক টেস্ট ক্রিকেট। সে জন্য ‘রেড ডিউক’ বলই পছন্দ গ্যাটিংয়ের। তিনি বলেন,
‘বিরাট কোহলি গত বছর এটা নিয়ে কথা বলেছিলেন। অন্যরাও ডিউক বলকে 'স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে মানেন। এই বলটা ব্যাটসম্যান ও বোলারের লড়াইয়ে ভারসাম্য আনে। আমাদের উচিত ক্রিকেটারদের মতামত নেওয়া। তাঁরাই শেষ পর্যন্ত মাঠে খেলবে, তাই তাদের মতামত জরুরী।’
চলতি বছর অগাস্টের ১১ এবং ১২ তারিখ এমসিসির পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। সেখানে এসব প্রস্তাবনার বিষয়ে আরও আলাপআলোচনা করা হবে।