জামাল নাকি হামজা কে হচ্ছে আফ্রিদি-নাসিমদের সঙ্গী?

ছবি: সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
গত জানুয়ারির পর পাকিস্তান আর কোনো টেস্ট খেলতে নামেনি। সেই দীর্ঘ বিরতি এবার শেষ হচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। দেশের মাটিতে পাকিস্তান দল সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ফলে বলে দেয়াই যাচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই আবার ঘরের মাঠে টেস্ট খেলার স্বাদ পেতে চলেছে পাকিস্তান।
এই সিরিজের আগে অনেক জল্পনা কল্পনা চলছে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ আসলে কেমন হতে চলছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ২১ আগস্ট থেকে। এই ম্যাচের ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়াম। এই মাঠের উইকেট বরাবরই পেস বান্ধব। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাকিস্তানও নিজেদের শক্তিশালী পেস আক্রমণ দিয়ে বাংলাদেশকে বিদ্ধ করতে চাইবে।
বাংলাদেশ সিরিজের জন্য ঘোষিত পাকিস্তান দলে বোলিং আক্রমণে আছেন আমের জামাল, আবরার আহমেদ, খুররম শেহজাদ, মির হামজা, মোহাম্মদ আলী, নাসিম শাহ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। দলের প্রয়োজনে বল হাতে তুলে নিতে পারেন আগা সালমান, সাইম আইয়ুব ও সৌদ শাকিলও।

ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে ছিলেন নাসিম, হামজা ও হাসান আলী। একমাত্র স্পিনার হিসেবে খেলেছিলেন আবরার। চোটের কারণে শাহীন আফ্রিদি না থাকলেও অলরাউন্ড হিসেবে খেলেছিলেন সালমান। এই সিরিজের দলে শাহীন ফিরলেও বোলিং আক্রমণে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।
আফ্রিদির দলে ফেরা মানে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন তিনিই। অস্ট্রেলিয়া সফরে ইনজুরির কারণে না খেলতে পারা নাসিম এই সিরিজ দিয়ে আবারও ফিরছেন লাল বলের ক্রিকেটে। তার ফেরা বাড়তি শক্তি যোগ করবে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে।
আবরার ছাড়া পাকিস্তান দলে আর কোনো স্বীকৃত স্পিনার নেই। তাকে সঙ্গ দেবেন সালমান। তবে কঠিন প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তান দলের তৃতীয় পেসার কে হবেন। মোহাম্মদ আলী সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে জায়গা পাওয়া শেহজাদ খেলেছেন মাত্র একটি টেস্ট। তৃতীয় পেসার হিসেবে তাদের কাউকে দেখা যেতে নাও পারে।
ফলে জায়গা পেতে পারেন জামাল ও হামজার মধ্যে কেউ একজন। জামাল ৩ টেস্টেই নিয়েছেন ১৮ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পর তার একাদশের বাইরে রাখার চিন্তাও হয়তো করবে না পাকিস্তান। সেই সঙ্গে তার ব্যাটিংটাও বড় সুবিধা হতে পারে পাকিস্তানের জন্য। সিডনিতে অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরে নেমে ৮২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
কোনো কারণে তাকে একাদশের বাইরে রাখলে সে ক্ষেত্রে সুযোগ পেতে পারেন হামজা। তিনি বাংলাদেশ 'এ' দলের বিপক্ষে খেলছেন পাকিস্তান শাহীন্সের বিপক্ষে। প্রথম ইনিংসে এই পেসার নিয়েছেন ৩টি উইকেট। পাকিস্তানের হয়ে খেলা ৫ টেস্টে তার দখলে রয়েছে ৯টি উইকেট। বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার হওয়ার তাকে এগিয়ে রাখা হতে পারে জামালের চেয়ে। এখন দেখার বিষয় পাকিস্তান কোন পরিকল্পনায় নিজের একাদশ সাজায়।