নিউজিল্যান্ডের ঘূর্ণি সামলে বাংলাদেশের তিনশ পার

ছবি: ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকেট করেসপন্ডেন্ট, সিলেট থেকে ||
শুধু ওয়ানডে না, আমি টি-টোয়েন্টিতেও নিয়মিত নই: মেহেদী
১৬ ডিসেম্বর ২৪
সিলেট টেস্টে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন এটা হওয়ারই ছিল। সময় যত বাড়বে স্পিনাররা তত বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন সিলেটের উইকেটে। সেটা ভেবেই হয়ত টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। একটা সময় মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হকদের ব্যাটে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। তবে কিউই স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ধস নামে টাইগার শিবিরে। দ্রুত উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনেই অল আউট হওয়ার খুব কাছে ছিল তারা। গ্লেন ফিলিপস ও এজাজ প্যাটেলদের ৭ উইকেট দিলেও প্রথম দিনে তিনশ পেরিয়েছে শান্তর দল। ৯ উইকেটে ৩১০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন তাইজুল ইসলাম এবং শরিফুল ইসলাম।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে টিম সাউদির প্রথম ওভারের শেষ বলে চার মেরে বাংলাদেশের রানের খাতা খুললেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে পরের ওভারেই বিপদে পড়তে পারতো বাংলাদেশ। কাইল জেমিসনের মিডল স্টাম্পে করা ডেলিভারিতে ক্রস ব্যাটে খেলতে চেয়েছিলেন জাকির হাসান। প্যাডে লাগার বল খানিকটা ছুঁয়ে যায় জাকিরের ব্যাট। নিউজিল্যান্ড জোরালো আবেদন করলেও তাতে সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। খানিকটা ভেবে রিভিউ নিলে রিপ্লেতে দেখা যায় বল জাকিরের প্যাডে লাগার লাগে তার ব্যাট ছুঁয়েছে। তাতে দিনের শুরুতেই রিভিউ হারাতে হয়েছে কিউইদের।
এদিন শুরু থেকেই জাকির ছিলেন খানিকটা নড়বড়ে। এরপর আরও একবার আবেদন হয়েছে তার বিপক্ষে। তবে সাড়া মেলেনি অনফিল্ড আম্পায়ারের। এরপর অবশ্য নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। পেসাররা সাফল্য এনে দিতে না পারায় ইনিংসের সপ্তম ওভারেই আক্রমণে স্পিনার এইজাজ প্যাটেলকে ডেকে আনেন টিম সাউদি। সাফল্য পেতেও খুব বেশি সময় নেননি প্যাটেল। বাঁহাতি এই স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে টার্ন করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে জায়গা বানিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন জাকির।
যদিও ব্যাটে-বলে করতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ফলে বোল্ড হয়ে ফিরে যেতে হয় ৪১ বলে ১২ রান করা জাকিরকে। বাঁহাতি এই ব্যাটার ফেরার পর শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করছিলেন শান্ত। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক যখন আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন একেবারে সাবধানী জয়। প্যাটেলের বলে ছক্কা মেরে রানের খাতা খোলা শান্ত বিদায়ও নেন ছক্কা মারতে গিয়ে। ফিলিপসের একটি ফুল টস ডেলিভারি উইকেটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে কেন উইলিয়ামসনের তালুবন্দী হন শান্ত।

ফেরার আগে দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৩৫ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে জয়ের সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি। বাকি ব্যাটাররা খানিকটা তাড়াহুড়ো করলেও জয় ছিলেন একেবারে টেস্ট মেজাজে। সাবধানী ব্যাটিংয়ের ফলও পেয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। প্যাটেলের ওভারপিচড ডেলিভারিতে দারুণ এক চার মেরে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন জয়। পঞ্চাশ ছুঁতে জয়কে খেলতে হয়েছে ৯৩ বল। এদিকে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মুমিনুল হক। তাদের দুজনের ব্যাটে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ।
মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সমালোচনায় ওয়াসিম জাফর
২৫ ফেব্রুয়ারি ২৫
মুমিনুল ও জয়ের জমে উঠা জুটি ভাঙেন গ্লেন ফিলিপস। ডানহাতি এই স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট শট খেলেছিলেন মুমিনুল। পর্যাপ্ত শট ডেলিভারি না হওয়ায় ব্যাটের কানায় লেগে বল পাড়ি জমায় উইকেটকিপারের গ্লাভসে। টম ব্লান্ডেল সহজেই লুফে নিলে ৩৭ রানে ফিরতে হয় মুমিনুলকে। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে সেঞ্চুরির পথে থাকা জয়কে বিদায় করেছেন সৌধি। ডানহাতি এই লেগ স্পিনারের ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে ডিফেন্স করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন জয়।
টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বল জয়ের ব্যাটে লেগে স্লিপে থাকা ড্যারিল মিচেলের হাতে চলে যায়। মিচেল অনায়াসে লুফে নিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন জয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় সহজেই বল তালু বন্দি করেছেন মিচেল। তাতে ৫ বলের ব্যবধানে মুমিনুলকে ও জয়কে হারায় বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির পথে হাঁটতে থাকা জয় ফিরে গেছেন ৮৬ রানের ইনিংস খেলে। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে ৫ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে স্বাগতিকদের টেনে তোলার দায়িত্বটা ছিল মুশফিকুর রহিমের উপর কাঁধে। তবে নিজের কাজটা করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
চা বিরতি থেকে ফেরার কিছুক্ষণ পর উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফিরে গেলেন মুশফিক। প্যাটেলের বলে ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে লং অফে থাকা ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যেতে হয় মুশফিককে। ডানহাতি এই ব্যাটার এদিন আউট হয়েছেন ১২ রানে। এদিকে শুরু থেকেই কাইল জেমিসনের শর্ট বলে ধুঁকছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই শর্ট বলেই শেষ পর্যন্ত ড্রেসিং রুমের পথ ধরতে হয় তাকে। ডানহাতি এই পেসারের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন মিরাজ।
যতটা বাউন্স আশা করেছিলেন ততটা পাননি তিনি। তাতে শেষ মূহূর্তে বিপাকে পড়তে হয় ডানহাতি এই ব্যাটারকে। বল থেকে নিজেকে বাঁচাতে ব্যাটটা সোজা করে রেখেছিলেন মিরাজ। ব্যাটের কানায় লেগে বল উপরে উঠে গেলে সহেজেই লুফে নেন মিচেল। ২০ রানের বেশি করা হয়নি তার। মিরাজ ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি শাহাদাত হোসেন দিপু। নিজের অভিষেক ম্যাচে ২৪ রান করে ফিরেছেন তিনি। ফিলিপসের বলে শর্ট মিড উইকেটে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন তরুণ এই ব্যাটার। তবে বল ফিলিপসের নাগালে থাকায় সেটা লুফে নিয়েছেন অনায়াসেই।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিপক্ষে বেশ সফল ছিলেন ফিলিপস। তবে নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিংই করছিলেন নুরুল হাসান সোহান। শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলায় মনোযোগী ছিলেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার ব্যাটার। যদিও তাকে ইনিংস বড় করতে দেননি ফিলিপস। ডানহাতি এই স্পিনারের লেগ স্টাম্পের বাইরের গ্ল্যান্স করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ২৯ রান করা সোহান। বেশ ভালোই ব্যাটিং করছিলেন নাঈম হাসান। তিন চারে ১৬ রান করা নাঈমকে ফিরিয়েছেন জেমিসন।
অনেকটা সময় ধরেই অফ স্টাম্পের বাইরে আউট সুইং ডেলিভারি করছিলেন ডানহাতি এই পেসার। সাফল্যও পেলেন নাঈমকে ফিরিয়ে। জেমিসনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে দ্বিতীয় স্লিপে থাকা টম লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশকে অল আউট করতে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ উইকেট। তবে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে যাননি তাইজুল ও শরিফুল। আলোকস্বল্পতার কারণে ৫ ওভার বাকি থাকতেই শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এদিন ফিলিপস চারটি, জেমিসন ও প্যাটেল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে):
বাংলাদেশ- ৩১০/৯ (৮৫ ওভার) (জয় ৮৬, জাকির ১২, মুমিনুল ৩৭, মুশফিক ১২, মিরাজ ২০, দিপু ২৪, সোহান ২৯; ফিলিপস ৪/৫৩)