ভারতের কাছে ২২৮ রানে হারল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
এশিয়া কাপ সেপ্টেম্বরে, ভারত-পাকিস্তান লড়াই দেখা যেতে পারে ৩ বার
২৭ ফেব্রুয়ারি ২৫
শুভমান গিল ও রোহিত শর্মার উড়ন্ত শুরুর পর কলম্বোতে বৃষ্টির দাপট। তাতে করে বাধ্য হয়েই ম্যাচ নিয়ে আসা হয় রিজার্ভ ডেতে। এদিন পুরোটা সময় তাণ্ডব চলেছে কেবল বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের। তাদের দুজনের সেঞ্চুরিতে ৩৫৬ রানের পুঁজি পায় ভারত। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটাররা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারেননি বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। পাকিস্তান অল আউট হয়েছে মাত্র ১২৮ রানে। ফলে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভারতের কাছে ২২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে পাকিস্তান।
কলম্বোতে ৩৫৭ রান তাড়া করতে নামা পাকিস্তানকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন হার্দিক পান্ডিয়া-জসপ্রিত বুমরাহরা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে উইকেটের দেখা পায় ভারত। বুমরাহর ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে সোজা ব্যাটে খেলতে চেয়েছিলেন ইমাম উল হক। তবে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় আউট সাইড এজ হয়ে গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় ৯ রান করা এই ওপেনারকে।
তিনে নামা বাবরকে রীতিমতো বোকা বানিয়েছেন হার্দিক। ডানহাতি এই পেসারের অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বল বাঁক খেয়ে ভেতরে ঢুকলে সেটা বুঝেই উঠতে পারেননি পাকিস্তানের অধিনায়ক। ১০ রানে করে বোল্ড হয়ে ফিরে যেতে হয় বাবরকে। সুবিধা করতে পারেননি রিজওয়ানও। ৫ বলে ২ রান করা পাকিস্তানের উইকেটকিপার ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর।
আঘা সালমান ও ফখর জামান মিলে খানিকটা চেষ্টা করলেও তাদের দুজনের জুটি বড় হতে দেননি কুলদীপ যাদব। বাঁহাতি এই স্পিনারের ঝুঁলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন ফখর। বাঁহাতি এই ওপেনার করেছেন ২৭ রান। কয়েক ওভারের ব্যবধানে ২৩ রান করা সালমানকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেছেন কুলদীপ। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান।

ইফতিখার আহেমেদের ২৩ রান কেবল পাকিস্তানের হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন। ব্যাটিং করতে পারেননি নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। ফলে ১২৮ রানে থামতে হয় পাকিস্তানকে। ভারতের হয়ে ২৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন বুমরাহ, হার্দিক ও শার্দুল।
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে কনস্টাসসহ তিন নতুন মুখ
১ এপ্রিল ২৫
২ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান নিয়ে রিজার্ভ ডেতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল ভারত। বিরাট কোহলি ৮ ও লোকেশ রাহুল ১৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিন ভারতের এই জুটিই ভাঙতে পারেননি শাহীন শাহ আফ্রিদি-নাসিম শাহরা।
রিজার্ভ ডের দিনেও বৃষ্টি হানা দিয়েছে কলম্বোতে। খানিক বাদে বৃষ্টি থেমে গেলেও ভেজা মাঠের কারণে ম্যাচ শুরু হতে পারেনি নির্ধারিত সময়ে। অবশেষে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে শুরু হয় ম্যাচটি। অবশ্য মাঠে নামার আগেই দুঃসংবাদ পেয়েছে পাকিস্তান। এই ম্যাচে আর বোলিং করতে পারবেন না পাকিস্তানের তারকা পেসার হারিস রউফ। তিনি সাইড স্ট্রেইনের চোটে ছিটকে গেছেন।
এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল। দলের তারকা এই পেসারের শূন্যতা ইনিংস জুড়েই অনুভব করেছে পাকিস্তান। অনভিন্ন ফাহিম আশরাফ ও পার্টটাইম বোলার ইফতিখার আহমেদরা দলের ত্রাতা হতে পারেননি।
মাঠে নেমে দ্বিতীয় দিন পাকিস্তানের বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি রাহুল ও কোহলি। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রাহুল ৬০ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। খানিক বাদে কোহলিও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ৫৫ বলে। সেঞ্চুরি পর্যন্ত পৌঁছাতে আর মাত্র ৪০টি বল খেলেন রাহুল।
আর কোহলি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭৭তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বলে ৮৪ বলে। সেঞ্চুরি করার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩ হাজার রানের মাইলফলকেও পৌঁছেছেন কোহলি। কোহলি ৯৪ বলে ১২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তার ইনিংস জুড়ে ছিল ৩টি বিশাল ছক্কা ও ৯টি চারের মার। রাহুল ১০৬ বলে ১১১ রান করে মাঠ ছেড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটারের নামের পাশে ছিল ২টি ছক্কা ও ১২টি চার।
আগের দিন ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। এই দুজনে পাওয়ার প্লেতে যোগ করেন ৬১ রান। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের বোলারদের উপর চড়াও হতে থাকেন রোহিত। বিশেষ করে শাদাব খানের বলে দ্রুত রান তুলেছেন ভারতের অধিনায়ক।
২ ছক্কা ও এক চারে শাদাবের প্রথম ওভারেই ১৯ রান তুলেছে ভারত। এদিকে ৩৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পান গিল। পরের ওভারে শাদাবের প্রথম বলে ছক্কা মেরে রোহিত পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৪২ বলে। তারা দুজনে মিলে ভারতকে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। রোহিত ও গিলের জুটি ভাঙেন শাদাব।
ডানহাতি এই স্পিনারের ঝুঁলিয়ে দেয়া বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন রোহিত। তবে লং অফে গিয়ে ধরা পড়তে হয় ৫৬ রান করা এই ব্যাটারকে। ৮ বলের ব্যবধানে আউট হয়ে যান গিলও। আফ্রিদির গুড লেংথ ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে আঘা সালমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তরুণ এই ওপেনার। গিল আউট হয়েছেন ৫৮ রানের ইনিংস খেলে। এরপর বৃষ্টির আগ পর্যন্ত ভারতকে টেনেছিলেন কোহলি ও রাহুল।