‘শামীম নন, রিয়াদ ভাইয়ের জায়গায় হৃদয় খেলছে’

ছবি:

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
অসুস্থ তামিমকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন সাকিবের বাবা-মা
২৫ মার্চ ২৫
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের টানা ব্যাটিং বিপর্যয়ের সমালোচনা চলছে। সুপার ফোরে এক ম্যাচ হাতে রেখেই আসর থেকে ছিটকে যাওয়া বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কেন নেই সেটা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। নিউজিল্যান্ড সিরিজ এবং বিশ্বকাপে চোখ রাখছেন তিনি। আর এ সকল টুর্নামেন্টে দলের অভিজ্ঞ এবং তরুণ ক্রিকেটারকে আবারও বাজিয়ে দেখা হবে বলেই বিশ্বাস তার।
গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে জিগ্যেস করা হয়েছিল, মাহমুদউল্লাহকে তিনি মিস করেছেন কিনা এবং তার বদলে জায়গা করে নেয়া শামীম পাটোয়ারির পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুস্ত কিনা। জবাবে সাকিব মনে করিয়ে দিলেন লম্বা সময় ধরেই মাহমুদউল্লাহ জাতীয় দলে নেই এবং তার জায়গায় শামিম নন, খেলছেন তাওহীদ হৃদয়।
সাকিব বলেন, 'দেখেন, প্রথম শেষ তিন সিরিজে রিয়াদ ভাই ছিল না। তখন এসব কথা আপনারা বলেছেন কিনা আমি জানি না। এখন বলছেন (হাসি)। আমার কাছে মনে প্রশ্নটা খুবই অপ্রাসঙ্গিক। এই বিষয়টা। দেখুন, আপনি আরেকটা ভুল প্রশ্ন করলেন। রিয়াদ ভাইয়ের জায়গায় যখন কাউকে আনা হয়েছিল দলে, সেটা ছিল তাওহীদ হৃদয়।'

কয়েকমাস আগেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল মাহমুদউল্লাহকে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল তরুণদের তৈরি করতেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে জলঘোলাও হয়েছে অনেক। এর কয়েকদিন পর আয়ারল্যান্ডের মাটিতে আবারও ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ।
পরের প্রজন্মের জন্য ট্রফি জিততে চান মিরাজ
১৫ মার্চ ২৫
যথারীতি এবারও বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়নি মাহমুদউল্লাহর। তারপর ঘরের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলা হয়নি মাহমুদউল্লাহর। তারপর বাদ পড়েন এশিয়া কাপের স্কোয়াড থেকেও। ১৭ সদস্যের দলেও জায়গা হয়নি তার। যদিও মাহমুদউল্লাহ অথবা স্কোয়াডের বাইরে থাকা ক্রি???েটাররা আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে বিবেচিত হতে পারেন বলেই মনে করেন সাকিব।
তিনি বলেন, 'সবারই সুযোগ আছে। কারণ আমাদের বেশীরভাগ ক্রিকেটারই এশিয়া কাপ খেলছে। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম থাকতে হবে। যারা বিশ্বকাপের দলে নিশ্চিত, আমি মনে করি তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। কারণ সামনে অনেক দিন খেলা, বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচ, প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি, অনেক ভ্রমণও করতে হবে।'
'আর ইনজুরি আমরা নিতে পারব না। আমাদের বেঞ্চে এমন শক্তিশালী কেউ নেই যে কেউ ইনজুরিতে পড়লে তার জায়গায় সহজেই আরেকজনকে নিতে পারব। তাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদের সবাই যেন ফিট থাকে, সুস্থ থাকে; তাহলে যেন আমরা এভেইলঅ্যাবল ক্রিকেটারদের থেকে সেরা একাদশ বাছাই করতে পারি।'
নেতৃত্ব ছাড়ার পর টি-টোয়েন্টি দল থেকে জায়গা হারিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা ঘরের মাঠ ইংল্যান্ড সিরিজ, কোথাও জায়গা হয়নি তার। বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল তার ওয়ানডে ক্রিকেটের পারফরম্যান্স নিয়ে। রানে থাকলেও স্ট্রাইক রেটের প্রত্যাশা মেটাতে পারছে না তার ফিনিশার ভূমিকার।
মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে যে বয়সের ছাপ পড়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক সময় বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ভরসা ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতেন আবার কখনও ম্যাচ বের করে নিয়ে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসাতেন। অথচ সেই মাহমুদউল্লাহই যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটারদের তালিকায় অবশ্য তিনে রয়েছেন তিনি।
এই সময়ে ৩৬ ম্যাচে ৯৭৪ রান করেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। প্রায় চল্লিশ গড়ে রান তোলা মাহমুদউল্লাহর স্ট্রাইক রেট ৭৪.০১। মাহমুদউল্লাহ যেখানে ব্যাটিং করেন সেখানে এমন স্ট্রাইক রেট খানিকটা বেমানানই বটে। দ্রুত রান তুলতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সি এই ব্যাটারকে।