চতুর্থ ডিভিশন থেকে আইপিএলের ইয়র্কার স্পেশালিস্ট

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
বাবা কাজ করতেন তাঁতের কারখানায়। মা রাস্তার ধারে ছোট দোকান দিয়েছিলেন। থাকতেন তামিলনাড়ুর এক ছোট্ট গ্রামে। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত হাতে নিয়ে দেখেননি ক্রিকেট বলও। যখন ক্রিকেট বল হাতে নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেন, তখনো বাধার শেষ নেই।
কখনো বোলিং অ্যাকশনে সমস্যার কারণে নিষেধাজ্ঞা তো কখনো ইনজুরি। থাঙ্গারাসু নাটারাজানের জীবন জুড়ে কেবল লড়াইয়ের গল্প। তবে সব ছাপিয়ে তিনি এখন ভারতীয় পেস বোলিংয়ের নতুন সেনসেশন।
চেন্নাইয়ের চতুর্থ ডিভিশন থেকে আইপিএল সবখানেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন নাটারাজান। এবারের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন তিনি। এর আগে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে।

সানরাইজার্সের ইউটিউবে চ্যানেলে নাটারাজান শুনিয়েছেন নিজের জীবনের গল্প, 'আমি পঞ্চম শ্রেণিতে থাকতেই টেনিস বলে ক্রিকেট খেলা শুরু করি। যখন আমার ২০ বছর বয়স, তখন আমি প্রথম ক্রিকেট বল হাতে নেই। আর তখনই আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়। তারপর আমার ভাইয়ের বন্ধু আমাকে চেন্নাইয়ের চতুর্থ ডিভিশনে খেলার সুযোগ করে দেয়।'
একটা সময় জুতা কেনার মতো সামর্থ্যও ছিল না নাটারাজানের। অনুশীলনে যাওয়ার মতো ভাড়াও যোগাড় করতে পারতেন না। চেন্নাই ঘুরে ঘুরে ক্রিকেট খেলতেন। সেখান থেকেই টাকা জমিয়ে নিজের খরচ যোগাতেন ২৯ বছর বয়সী এই পেসার।
নাটারাজান বলেন, 'যদি আপনাকে পেশাদারভাবে ক্রিকেট খেলতে হয়। তাহলে আপনার জুতা ও ভালো পোশাক দরকার। আমার ট্রেনিংয়ে যাওয়ার টাকাও ছিল না। তো, আমি লোকাল ক্রিকেটে যা টাকা পেতাম তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতাম এবং কোথাও য???ওয়ার জন্য টাকা রাখতাম। এমন অনেক কষ্টই ছিল।'
তাঁর বিশেষত্ব যে ইয়র্কার, তা দিয়েই তিনি বোকা বানাচ্ছেন ব্যাটসম্যানদের। এক ওভারের সবগুলো বলই ইয়র্কার করার সামর্থ্য আছে তাঁর। একসময় জুতাকে লক্ষ্য করে ইয়র্কার শুরু করেছিলেন নাটারাজান। ইয়র্কার করার রহস্যের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এই পেসার বলেন, 'যখন আমি ক্রিকেট বলে ইয়র্কার অনুশীলন শুরু করি, আমি সেটা শুধু ব্যাটসম্যানের সামনেই পারতাম। জুতার সামনে সব বলে পারতাম না। যদি সামনে ব্যাটসম্যান থাকে, তাহলে আমি ছয় বলে ছয়টাই ইয়র্কার করতে পারবো।'