হেরেও সুপার সিক্সের দ্বারপ্রান্তে প্রাইম ব্যাংক

ছবি: ছবি-ফেসবুক

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
শক্তিশালী প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে আজ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের ম্যাচে ৪৮ রানের জয় পেয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। তবে এই জয়ের পরও টুর্নামেন্টের সুপার সিক্স নিশ্চিত হয়নি তাদের। কেননা বর্তমানে ৩টি জয় নিয়ে সপ্তমে অবস্থান করছে তারা। অপরদিকে প্রাইম ব্যাংক এই ম্যাচে হারলেও তৃতীয়তে অবস্থান তাদের। সুপার সিক্স নিশ্চিত করতে হলে আর একটি মাত্র ম্যাচে জিততে হবে তাদের।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আজকের ম্যাচটির শুরুতে ব্যাটিং করে প্রাইম ব্যাংকের সামনে ২৪৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিলো শাইনপুকুর। এরপর ইনিংস বিরতির সময় ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় খেলা বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।
এরপর ওভার এবং রান কমিয়ে প্রাইম ব্যাংকের সামনে নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২০ ওভারে ১৪৯ রান। কিন্তু এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়তে হয়েছে আনামুল হক বিজয়ের দলটিকে।
স্কোরবোর্ডে কোনও রান যোগ করার আগেই শরিফুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে ফিরেছেন দলপতি বিজয়। এরপর ৪ রানের মাথায় আরেক ওপেনার জাকির হাসানকে সাব্বির হোসেনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন।
পরবর্তীতে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে ফিরতে হয় চার নম্বরে খেলতে নামা মোহাম্মদ আল-আমিনকেও। সোহরাওয়ার্দি শুভর হাতে ক্যাচ বানিয়ে তাঁকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন দেলোয়ার। ৯ রানে তিন উইকেট খুইয়ে ফেলা দলটির হাল ধরতে ক্রিজে এসেছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অলোক কাপালি। কিন্তু মাত্র ৩ রান করে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন তিনি।

এরপর ভারতীয় রিক্রুট অভিমন্যু এসওয়ারানের ৩৯ রানে ভর করে কিছুটা আশার আলো দেখছিলো বিজয়ের নেতৃত্বাধীন প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু দলীয় ৭০ রানের মাথায় তাঁকে উন্মুক্ত চাঁদের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আশার প্রদীপ নিভিয়ে দেন সোহরাওয়ার্দি শুভ। পরবর্তীতে আর বেশিদূর যেতে পারেনি দলটি। অলআউট না হলেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানে থেমেছে তারা।
শাইনপুকুরের পক্ষে মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন। আর ১১ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন সাব্বির হোসেন। এছাড়াও ১টি করে উইকেট শিকার করতে সক্ষম হয়েছেন শরিফুল ইসলাম, সোহরাওয়ার্দি শুভ এবং আফিফ হোসেন।
এর আগে ম্যাচটির শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শাইনপুকুরের অধিনায়ক সোহরাওয়ার্দি শুভ। পরবর্তীতে ব্যাটিং করতে নেমে প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হৃদয়, সাদমান এবং শুভাগত ছাড়া আর কোনও ব্যাটসম্যান সেভাবে রান করতে পারেননি। ফলে ২৪৬ রানের পুঁজি নিয়ে থামতে হয়েছিলো শাইনপুকুরকে।
তবে এই পুঁজির পেছনে অনেকটাই কৃতিত্ব ব্যাটিং অলরাউন্ডার শুভাগত হোমের। কেননা ২২৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর খেলতে নেমে মাত্র ২৮ বলে ৪৪ রানের একটি ক্যমিও ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাঁর অপরাজিত এই ইনিংসটিতে ছিলো ৬টি চার।
অবশ্য শুধু শুভাগতই নন, দারুণ খেলেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা তৌহিদ হৃদয়। দুইজনই পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরির দেখা। ৯৪ বলে ৭৮ রান করেছেন সাদমান। অপরদিকে হৃদয় খেলেছেন ১১৭ বলে ৮৩ রানের আরেকটি ঝলমলে ইনিংস। আরিফুল হকের বলে বোল্ড না হলে সেঞ্চুরিও তুলে নিতে পারতেন তিনি।
প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সবথেকে সফল বোলার ছিলেন আরিফুল হক। মাত্র ৩৭ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। অপরদিকে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন আল-আমিন এবং মনির হোসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবঃ ২৪৫/৮ (৫০ ওভার) (শুভাগত- ৪৪*, হৃদয়-৮৩; আরিফুল- ৩/৩৭, মনির-২/২০)
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবঃ ১০০/৯ (২০ ওভার) (ইয়াসওয়ারান-৩৯, নাইম-১৬*; দেলোয়ার- ৩/১৬, শরিফুল- ১/৯)