রান বন্যার ম্যাচে ওয়ানডের প্রস্তুতি

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছে বিসিবি একাদশের। বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজের আগে স্কোয়াডে থাকা তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারদের প্রস্তুতি শতভাগ হয়েছে বলা চলে। তামিমের ৭৩ বলে ১০৭ ও পরবর্তীতে সৌম্য সরকারের ৮৩ বলে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস বিসিবি একাদশকে ডিএল মেথডে ৫১ রানের জয় এনে দিয়েছে। তামিম ও সৌম্য ছাড়া ইমরুল, আরিফুল ও মাশরাফি বিশ ছাড়ানো ইনিংস খেলেছেন।
উইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে একমাত্র রস্টন চেইজ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের থামিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া বাকি বোলাররা, বিশেষ করে পেসারদের বিপক্ষে বেশ সহজেই সহজাত ব্যাটিং করেছেন তামিম-সৌম্যরা।
৩৩২ রানের টার্গেটে ইনিংসের শুরুতে তামিম আগ্রাসী ব্যাটিং বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয়। ইনজুরি থেকে ফেরার ম্যাচে প্রথম বল থেকেই আক্রমণের পথ বেছে নেন তিনি। ইমরুল ও তামিমের জুটি ওভার প্রতি দশ রান তুলতে থাকে। ইমরুল নবম ওভারে দলীয় ৮১ রানে ২৭ রান করে আউট হন। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচের মোড় বদলে যায়। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়ে ইনিংসের ২০তম ওভারেই।
তামিম ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তুলে নেন ৭০ বলে, ১৩ চার ও ৪ ছক্কায়। তবে ইনিংস লম্বা হয়নি তাঁর। রস্টন চেইজের বলে স্ট্যাম্পিং হন তিনি, ১০৭ রানে। তামিমের বিদায়ে মিডেল অর্ডারে দ্রুত চার উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। তবে একপ্রান্ত আগলে রাখেন সৌম্য, খেলে যান পরিস্থিতির বিচারে মানানসই ইনিংস।

প্রান্ত বলদ করে খেলার সাথে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মিশ্রণ ছিলো সৌম্যর ইনিংসে। পুল শটে পেসারদের শাসন করার সাথে স্পিনেও ছিলেন সাবলীল। সেঞ্চুরি তুলেছেনও বিশাল ছক্কায়, কিমার রোচের শরীর তাক করা বাউন্সারে। তামিমের পর সৌম্যর ঝড়ো ব্যাটিং শেষ বেলায় মাশরাফির ২২ রানের ক্যামিওতে বিসিবি একাদশের ইনিংস থামে ৪১ ওভারে ৩১৪ রানে। উইন্ডিজদের হয়ে দুই স্পিনার রস্টন চেইজ ও দেবেন্দ্র বিশু দুইটি করে উইকেট নেন।
এদিকে বিকেএসপির মাঠে রান হবেই, বিসিবি একাদশের বিপক্ষে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের ৩৩১ রান করার পর প্রচলিত কথাটি আরও পক্ত হয়। বিসিবি একাদশের বোলিং আক্রমণে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সহ ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকা রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু, সৌম্য সরকাররা ছিলো। একমাত্র অধিনায়ক মাশরাফি ছাড়া সবাই রান দিয়েছে ৫০ এর ওপর। ১০ ওভার বল করে দুই উইকেট তুলে নিতে রুবেল খরচা করছেন ৫৫ রান।
দুই উইকেট নেয়া আরেক স্পিনার নাজমুল ইসলাম ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬১ রান দিয়েছেন। পার্ট-টাইম বোলার সৌম্য বল করেছেন আট বোলার। ৭২ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন তিনি। এছাড়া বাঁহাতি পেসার মেহেদি হাসান রানা ১০ ওভার বল করে দুই উইকেট নিতে দিয়েছেন ৬৫ রান। ব্যতিক্রম ছিলেন মাশরাফি। দুই স্পেলে আট ওভার বল করে মাত্র ৩৭ রান দিয়েছেন তিনি, উইকেট নিয়েছেন একটি।
প্রস্তুতি ম্যাচ বলেই হয়তো বিসিবি একাদশের বোলারদের এমন পারফর্মেন্স খুব একটা আমলে নেয়া হবে না। তবে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের রান ফেরা ওয়ানডে সিরিজের আগে সফরকারীদের স্বস্তি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে দুই ওপেনার শাই হোপ ও কিরন পাওয়েলের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ ওপেনিং জুটির সমস্যা সমাধান করবে। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা শাই হোপের ৮৪ বলে খেলা ৮১ রানের আগ্রাসী ইনিংসের জবাব ছিলো না বিসিবি একাদশের পেসারদের কাছে।
শেষ পর্যন্ত নাজমুল ইসলাম অপুর বাঁহাতি স্পিনে ওপেনার পাওয়েলের পর হোপের বিদায় নেন। ড্যারেন ব্রাভো, স্যামুয়েলসরা উইকেটে বেশীক্ষণ সময় কাটাতে ব্যর্থ হন। মিডেল ওভারে মাশরাফি তাঁর দ্বিতীয় স্পেলে এসে অভিজ্ঞ স্যামুয়েলসকে ফেরান। তরুন মেহেদির বলে আউট হয়েছেন ব্রাভো। তবে বিকেএসপির মাঠে জড়ো হওয়া দর্শকদের চোখ ছিল টেস্ট সিরিজে আগ্রাসী ব্যাটিং করে নজর কাড়া শিমরন হেটমায়ারের দিকে।
ক্রিজে এসে আগ্রাসী ব্যাটিং করে টেস্ট সিরিজের ব্যাটিংটাই করে গিয়েছেন তিনি। ২৭ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে সেঞ্চুরি ৩৩ রান করে আউট হয়েছেন ফাস্ট বোলার রুবেলের বলে। হেটমায়ারের আউটে বোলার রুবেলের সাথে বুনো উল্লাস করেছে শ' খানেক দর্শকরাও। মিডেল ওভারে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের রানের ক্ষুধা উপরের সারির পাঁচ উইকেট হারানোর কারণ হলেও ধ্বস প্রলম্বিত হতে দেন নি রস্টন চেইজ ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। অর্ধশত ছাড়ানো জুটি গড়ে উইন্ডিজদের স্কোর তিনশর কাছাকাছি পৌঁছে দেন অ্যালেন।
৩২ বলে ৪৮ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংসের সমাপ্তি আসে রুবেলের ফুল লেন্থের বলে। তবে থামেননি রস্টন চেইজ। এই অলরাউন্ডারের ৫১ বলে ৬৫ রানের ইনিংসটি টেস্ট ক্রিকেটের বা???ে ফর্ম পেছনে ফেলতে সাহায্য করবে। মূলত দলীয় প্রচেষ্টায় তামিমদের জন্য ৩৩২ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।