বন্ধ হচ্ছে ক্রিকেট বাণিজ্য

ছবি: একাডেমীতে অনুশীলনরত ক্রিকেটাররা

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
সাকিব-তামিমদের দেখে এদেশের তরুণদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের আনাচে কানাচে গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমী। এগুলোর বেশিরভাগই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি।
অনেকে বাড়তি আয়ের জন্য এগুলো তৈরি করছেন। আবার অনেকে প্রভাব খাটানোর জন্য কাজে লাগাচ্ছেন একাডেমীগুলোকে। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

দেশের ক্রিকেটে উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে চাইলে। বিসিবির অধীনেই কাজ করতে হবে। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবির গেমস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এ ই এম কায়সার আহমেদ। তাই তাদের নির্দিষ্ট একটি নিয়ম নীতির মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।
"প্রাইভেট একাডেমী গুলোকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আয়তায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন তো ব্যাঙের ছাতার মত প্রাইভেট একাডেমী বেড়ে উঠছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত ব্যবসার জায়গা থেকে এইসব করছে, কিছু বাড়তি আয়ের জন্য। কেউ কেউ আবার প্রভাব খাটানোর জন্য করছে। আমরা বোর্ড থেকে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। যারা সত্যিকার অর্থে বোর্ডের অধীনে ক্রিকেটে আসতে চায় তাদের একটি নির্দিষ্ট পলিসির অধীনে থেকে কাজ করতে হবে।"
একাডেমীগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা এখনও তৈরি না হলেও বিসিবির এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন মাঠ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেই নীতিমালা তৈরি হয়ে যাবে, "এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে সব থেকে সব কিছুর সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত কিছু বলা কঠিন।"
একাডেমীগুলো ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করছে ঠিকই। অনেক একাডেমী থেকে মানসম্পন্ন ক্রিকেটারও উঠে আসছে। সেখানকার সুযোগ সুবিধাও অনেক। তবে অনেক একাডেমীই মান ঠিক রাখছে না। তাদের নিয়েই চিন্তায় বিসিবি। এনিয়ে কাজ করছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবকরা।
"এইসব একাডেমীর মধ্যে কিছু অবশ্যই ক্রিকেটে অবদান রাখছে। দেখা যাচ্ছে অনেক একাডেমীর ভালো সুযোগ সুবিধা রয়েছে, ক্রিকেটার উঠে আসছে সেই সব জায়গা থেকে। তবে কিছু একাডেমী রয়েছে তারা প্রিন্সিপ্যাল মানছে না, সুনির্দিষ্ট ষ্ট্যাণ্ডার্ড মেনে চলছে না। তাদের চুক্তির আয়তায় আসতে হলে কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনেই আসতে হবে। আমাদের দেখতে হবে ছেলেমেয়েরা যেন সঠিক ট্রেনিং পায়। ভুল ট্রেনিং হলে ভুল ভাবে বেড়ে উঠবে। আবার একাডেমীতে সঠিকভাবে অনুশীলনের জন্য যেই অবকাঠামো দরকার, সেটা আছে কিনা দেখতে হবে। আর কোচকে শিক্ষিত হতে হবে, এখানে বাচ্চাদের বয়স, মননের ব্যাপার থাকে। আর অর্থনৈতিক ইস্যুতেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। আমরা এইসব নিয়েই কাজ করছি।"