সরে দাঁড়াচ্ছেন লেহম্যানও?

ছবি:

বল টেম্পারিং ইস্যুতে এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের দায়িত্ব থেকে স্টিভ স্মিথকে অব্যাহতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এবার শোনা যাচ্ছে শুধু স্মিথই নয়, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে যাচ্ছেন কোচ ড্যারেন লেহম্যানও।
যদিও সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ জানিয়েছিলেন এই টেম্পারিং ইস্যুতে কোচিং স্টাফদের কারো হাত ছিলো না। কিন্তু স্মিথ যতো কিছুই বলুন না কেন উপরের কারো নির্দেশেই এই যে কান্ড ঘটানো হয়েছে সেটি সহজেই অনুমেয়। আর সেই কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন লেহম্যানও।
তবে লেহম্যানের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বল টেম্পারিং ইস্যুর সুষ্ঠু তদন্তের উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে জোহানেসবার্গে রওয়ানা হয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। সেখানে পৌঁছে তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এই বিষয়ে।

এদিকে এই ঘটনায় সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক জানিয়েছেন দলের ওপর হেড কোচের সেভাবে নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণেই এমনটা হতে পারে। নাইন নেটওয়ার্ককে ক্লার্ক বলেছেন, 'যদি আসলেই এমনটা হয়, তাহলে বলতে হবে অস্ট্রেলিয়ান হেড কোচের তাঁর দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। সে যদি এই সম্পর্কে জেনে থাকে, তাহলে অন্যদের থেকে সবথেকে বেশি সেই দায়বদ্ধ থাকবে এই ব্যাপারে।'
অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ডেভিড পিভারের সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। টেম্পারিংকে একটি জঘন্যতম অপরাধ আখ্যা দিয়ে টার্নবুল বলেছেন, 'অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি অনেক বড় একটি আঘাত। প্রতারণার আশ্রয় নেয়া অবশ্যই অপমানজনক। আমরা সবাই এটা জানি, এটি জঘন্যতম অপরাধ।'
শুধু তাই নয়, স্লেজিংকেও নিষিদ্ধ করার পক্ষে কথা বলেছেন টার্নবুল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বেশ কয়েকবার স্লেজিংয়ে লিপ্ত হতে দেখা গেছে দুই দলের ক্রিকেটারদের। স্মিথের সাথে বিবাদে জড়িয়ে এমনকি দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন পেসার কাগিসো রাবাদা।
পরে যদিও তদন্তে নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় পার পেয়ে যান তিনি। শুধু তাই নয়, কুইন্টন ডি কক এবং ডেভিড ওয়ার্নারও জড়িয়েছিলেন স্লেজিংয়ে। টার্নবুল তাই এই ধরণের আচরণের বিপক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন,
'আমার মতে এই ধরণের স্লেজিংয়ের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে, খেলায় এটা থাকা উচিৎ নয়, আমি স্পষ্টভাবে এটা বলতে চাই। ক্রিকেট খেলা এমন হওয়া উচিৎ যেটাকে রোল মডেল হিসেবে সবাই বিবেচিত করবে। আমি মনে করি কিছু স্লেজিং আছে যেগুলো আসলেই ন্যাক্কারজনক আমরা দেখেছি, সেগুলোও রিভিউ করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'