ইংলিশদের লজ্জায় ডুবিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেলো কিউইরা

ছবি:

অকল্যান্ডে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে সফরকারী ইংল্যান্ডকে এক ইনিংস এবং ৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। আর এরই সাথে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গিয়েছে কিউইরা।
এই টেস্টের শুরু থেকেই ইংলিশদের ওপর রীতিমত ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দুই কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট এবং টিম সাউদির বোলিং তোপের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ইংলিশ ব্যাটসম্যানেরা।
ফলে মাত্র ৫৮ রানে অলআউটের লজ্জায় ডুবতে হয়েছিলো তাদের যা ছিলো ইংলিশদের ক্রিকেট ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বনিম্ন স্কোর। বোল্ট মাত্র ৩১ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৬টি উইকেট। আর সাউদির শিকার ছিলো ২৫ রানে ৪ উইকেট।
এরপর জবাবে প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এবং মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটের ৪২৭ রানের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড।
উইলিয়ামসন ১০২ রানে আউট হলেও ইনিংস ঘোষণার আগে পর্যন্ত ১৪৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন নিকোলস। এই দুই ব্যাটসম্যান ছাড়াও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বিজে ওয়াটলিং ৩১,অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ২৯ এবং ওপেনার টম ল্যাথাম ২৬ রান করেন।
ইংলিশদের পক্ষে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন দুই পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড এবং জেমস অ্যান্ডারসন। আর এরই সাথে টেস্টের ৪০০ উইকেটের মাইলফলকেও পা রেখেছেন পেস তারকা ব্রড।

কিউইদের থেকে ৩৬৯ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলো সফরকারী ইংল্যান্ড। তবে প্রথম ইনিংসের মতো এবার তাসের ঘরে পরিনত হয়নি তাদের ব্যাটিং লাইন আপ। পঞ্চম দিন ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান নিয়ে খেলা শুরু করা ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলো।
ওপেনার মার্ক স্টোনম্যান, অধিনায়ক জো রুট এবং অলরাউন্ডার বেন স্টোকস তুলে নিয়েছিলেন দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি। আর এর ফলে লিড নেয়ার স্বপ্ন বড় হচ্ছিলো তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হতে দেননি নিল ওয়াগনার এবং ট্রেন্ট বোল্ট।
দারুণ খেলতে থাকা স্টোনম্যানকে (৫৫) আগের দিনই ফিরিয়েছেন। এরপর আজ স্টোকসকেও (৬৬) ফিরিয়ে দিয়ে ইংলিশদের বিপর্যয়ে ফেলেন ওয়াগনার। অপরদিকে ইংলিশ অধিনায়ক রুটের উইকেটটি তুলে নিয়েছেন বোল্ট।
অবশ্য শেষের দিকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলের আশা কিছুটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। বিরুদ্ধ স্রোতে দাঁড়িয়ে তিনিও তুলে নিয়েছেন হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আবারো হন্তারক রুপে আবির্ভূত হয়ে ওকসকে ফিরিয়ে দিয়ে ইংলিশদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ওয়াগনার।
এর ফলে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড অলআউট হয় ৩২০ রানে। এরই সাথে বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন নিল ওয়াগনার, ট্রেন্ট বোল্ট এবং টড অ্যাস্টেল। পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করার দরুন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন পেস তারকা ট্রেন্ট বোল্ট।
নিউজিল্যান্ড একাদশ-
জিত রাভাল, টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেইলর, হেনরি নিকোলস, বিজে ওয়াটলিং (উইকেটরক্ষক), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, টড অ্যাস্টেল, টিম সাউদি, নিল ওয়াগনার, ট্রেন্ট বোল্ট।
ইংল্যান্ড একাদশ-
অ্যালিস্টার কুক, মার্ক স্টোনম্যান, জো রুট (অধিনায়ক), ডেভিড মালান, বেন স্টোকস, জনি বেয়ারস্টো (উইকেটরক্ষক), মইন আলি, ক্রিস ওকস, ক্রেইগ ওভারটন, স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসন।