আরেকটি 'প্রথমের' অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ছবি: বাংলাদেশ দল, বিসিবি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
উইন্ডিজদের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে এখন পর্যন্ত কোন টেস্ট সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। তবে এবার সেই সুবর্ণ সুযোগটিই হাতের কাছে চলে এসেছে তাদের। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্টে জয় অথবা ড্র পেলেই প্রথমবারের মতো এই কীর্তি অর্জন করবে টাইগাররা।
মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় সেই লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামবে সাকিব আল হাসানের দল। এখন পর্যন্ত গত ম্যাচটি সহ ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে মোট ৬টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে চট্টগ্রামের এই জয়টি ছাড়া আর একটিও জয় নেই তাঁদের। সুতরাং জয়ের পরিসংখ্যান আরও উন্নত করারও সুযোগ থাকছে টাইগারদের সামনে।
তবে ঢাকা টেস্টের আগে কিছুটা ইনজুরি সমস্যা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে। চট্টগ্রাম টেস্টে কাঁধে এবং গোড়ালিতে চোট পাওয়া ওপেনার ইমরুল কায়েস থাকছেন না এই ম্যাচে।
সেক্ষেত্রে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করা সাদমান ইসলাম অনিকের অভিষেক অনেকটা নিশ্চিতই বলা চলে। উইন্ডিজদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৭৩ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলার পর নির্বাচকদের সুনজরে আসেন সাদমান। এবার ইমরুলের ইনজুরিই তাঁর ভাগ্য খুলে দিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
অবশ্য শুধু ইমরুলই নন, ইনজুরিতে ভুগছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও। যদিও তাঁর ইনজুরি গুরুতর কিছু নয় বলে জানা গেছে। বুধবার মিরপুরের ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করার সময় বাঁহাতের বুড়ো আঙ্গুলে চোট পেয়েছিলেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান।
পরবর্তীতে এক্স-রে রিপোর্টে কোন চিড় ধরা না পড়লেও তাঁকে একদিনের বিশ্রাম দিয়েছিলেন বিসিবি চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন,
‘ও একটু আঙুলে ব্যথা পেয়েছে। আমরা একটু আগে এক্স-রে করেছি। রিপোর্ট দেখে কোন চিড় পাইনি। আমার মনে হয় এটা গুরুতর কিছু না। তবে যেহেতু একটা ব্যথা পেয়েছে কাজেই আজ পুরোপুরি বিশ্রামে থাকবে।'
তবে শোনা যাচ্ছে হাতের ব্যাথা পুরোপুরি না সারলে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলবেন মুশফিক। সেক্ষেত্রে ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে আসতে পারেন লিটন কুমার দাস। তেমনটি হলে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনের।
এদিকে চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ঢাকাতেও এক পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এক্ষেত্রে মুস্তাফিজুর রহমানের কাঁধেই থাকবে পেস আক্রমণ সামলানোর দায়িত্ব।
যদিও মিরপুরের উইকেট কিরূপ হবে তার ওপরে নির্ভর করেই চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে নিজের অভিষেক টেস্টেই ৫ উইকেট শিকার করা স্পিনার নাইম হাসান এবং দারুণ ফর্মে থাকা তাইজুল ইসলাম যে থাকছেন একাদশে তা অনেকটাই নিশ্চিত।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে মাঠে নামার আগে দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছে সফরকারী উইন্ডিজদেরকেও। চট্টগ্রামে ইমরুল কায়েসের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে ঢাকা টেস্টে নিষিদ্ধ হয়েছেন দলের অন্যতম সেরা পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

মূলত ২৪ মাসের মধ্যে দুইবার আইসিসির কাছ থেকে ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ায় এক টেস্টের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। সুতরাং 'ভয়ঙ্কর' এই পেসার না থাকায় অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ।
মুখোমুখি- এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম টেস্টটি সহ মোট ১৫টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ এবং উইন্ডিজ। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও পাল্লাটি কিন্তু বেশি ভারি ক্যারিবিয়ানদেরই। ১৫টি টেস্টে তাদের জয়ের সংখ্যা ১০টিতে। অপরদিকে মাত্র ৩টি তে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এবং ২টি ড্র হয়েছে।
স্পট লাইটে থাকবেন যারাঃ
মমিনুল হক (বাংলাদেশ)-
ব্যাট হাতে দারুণ ফর্মে আছেন টাইগারদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মমিনুল হক। চট্টগ্রাম টেস্টে চলতি বছর নিজের চতুর্থ শতক হাঁকিয়ে ভিরাট কোহলির পাশে উঠে এসেছিলেন তিনি। এবার চট্টগ্রামের সেই ফর্ম ঢাকার মাঠেও বয়ে আনতে চাইবেন তিনি নিঃসন্দেহে।
এখন পর্যন্ত ২৭ বছর বয়সী মমিনুল টেস্ট খেলেছেন ৩২টি। যেখানে ৪৪.৩৫ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ২৪৮৪ রান। রয়েছে ৮টি শতক এবং ১২টি অর্ধশতক। উইন্ডিজদের বিপক্ষেও তাঁর পারফর্মেন্সের পারদ উঁচুতেই রয়েছে।
চট্টগ্রাম টেস্টটি সহ মোট ৫টি ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন মমিনুল। যেখানে ১টি শতক এবং ২টি অর্ধশতক সহ রান করেছেন ২৭০।
তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ)-
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত টেস্ট সিরিজে রীতিমত বিধ্বংসী ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুই টেস্টের সিরিজে মোট ১৮টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এরপর উইন্ডিজদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও যথারীতি ছিলেন আপন আলোয় উজ্জ্বল। চট্টগ্রামে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।
২৬ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার এখন পর্যন্ত উইন্ডিজদের বিপক্ষে ৪টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। মাত্র ৩.০৯ ইকোনমি রেটে ১৮ উইকেট শিকার করেছেন তিনি এই ৪ ম্যাচে। সুতরাং আগামীকাল তাইজুলের স্পিন সামলাতে আটঘাট বেঁধেই নামতে হবে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের।
শিমরন হেটমায়ার (উইন্ডিজ)-
মাত্র ২১ বছর বয়সেই ব্যাট হাতে নিজের জাত চিনিয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ার। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ৪৬২ রান সংগ্রহ করা এই তরুণ গত টেস্টে বাংলাদেশের হুমকির কারণ হয়ে উঠেছিলেন অনেকটাই।
প্রথম ইনিংসে তাঁর ৪৭ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে একটা সময় লিডেরও স্বপ্ন দেখছিল উইন্ডিজরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ১৯ বলে ২৭ রানেড় ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। আগামীকালের ম্যাচেও যে তিনি পাদপ্রদীপের আলোতে থাকছেন তা বলাই বাহুল্য।
জোমেল ওয়ারিকেন (উইন্ডিজ)-
২৬ বছর বয়সী ওয়ারিকেন এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৬টি। কিন্তু এরই মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন দারুণভাবে। ৬ টেস্টে মাত্র ৩.৬৭ ইকোনমি রেটে তিনি শিকার করেছেন ১৯টি উইকেট। যেখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে গত টেস্টেই নিয়েছেন ৬টি উইকেট।
বাঁহাতি এই স্পিনার চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪টি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে টাইগার শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন। এবার একই লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা টেস্টে মাঠে নামবেন ওয়ারিকেন।
পিচ এবং কন্ডিশনঃ
পরিসংখ্যান অনুযায়ী মিরপুর শের-এ বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে স্পিনাররাই বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন। সুতরাং আগামীকালও স্পিন বান্ধব উইকেটেই খেলার সম্ভাবনা রয়েছে জোরদার।
বাংলাদেশ স্কোয়াডঃ
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), আরিফুল হক, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাইজুর রহমান, সাদমান ইসলাম অনিক, নাইম হাসান, খালেদ আহমেদ।
উইন্ডিজ স্কোয়াড :
ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), সুনীল আমব্রিস, দেবেন্দ্র বিশু, রস্টন চেজ, শেন ডওরিচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জাহমার হ্যামিল্টন, শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, শেরমন লুইস, কিমো পল, কাইরন পাওয়েল, রেইফন রেইফার, কেমার রোচ, জোমেল ওয়ারিকেন।