সত্যিই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ?

ছবি: মাশরাফি বিন মর্তুজা

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
চট্রগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে বাংলাদেশ দলের অবস্থান। ২৪ অক্টোবর জিম্বাবুয়েকে হেসেখেলে হারিয়ে সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ দল। কোথায় দর্শকরা ফুলের তোড়া নিয়ে টিম হোটেলের আশেপাশে ঘুর ঘুর করবে, তা নয়। উল্টো মিললো সুনসান নীরবতা।
জিম্বাবুয়ে দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলনের তড়িঘড়ি ছাড়া কোন শব্দ নেই। পুরো পরিবেশটাই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশ দলের কাছে এই সিরিজ জয় অন্যান্য জয়ের মতনই, বিশেষ কিছু না। সিরিজের শেষ ম্যাচ শুক্রবার, বুধবার ম্যাচ খেলা কোন ক্রিকেটারই নিজের কক্ষ থেকে বের হচ্ছে না।
যারা সেরা একাদশে নেই, তাদেরকেই দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে যেতে দেখা গেল, সাথে ছিলেন সদ্য স্কোয়াডে যোগ দেয়া সৌম্য সরকার। বাকিরা বন্দর নগরীর সুন্দর আবহাওয়ায় সময় কাটাচ্ছেন। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেখে ধারনা আরও স্পষ্ট হলো।

সাংবাদিকদের সাথে ১৮ মিনিটের আলাপকালে একবারও সিরিজ জয়ে তুষ্টি বা তৃপ্ত চেহারা দিতে দেখা যায় নি তাঁকে। বরং কথা গুলো হয়েছে জেতা ম্যাচ দুটির কোন কোন জায়গায় ছোট ছোট খুঁত ছিল, সেটা নিয়ে।
অধিনায়কের দৃষ্টি অনেক দূর, বড় দলের সাথে বড় মঞ্চে কি হবে, এই সিরিজের ছোট ছোট ভুল তখন বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিবে কিনা, তাঁর চিন্তার জগত দখল করে রেখেছে, এই প্রশ্ন গুলো।
দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের কথাই ধরুন না, বাংলাদেশ দল ২৪৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৪ ওভারে কোন উইকেট না দাঁড়িয়ে দেড়শ রানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। দুই ওপেনার লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস অনায়াসে সেঞ্চুরি করতে পারতেন, দলকে দশ উইকেটের জয় এনে দিতে পারতেন।
অধিনায়কেরও প্রত্যাশা এমনই ছিল, দল খেলুক বড় দলের মতন। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠে নি। অধিনায়কের ভাষায়, 'বেশিরভাগ সময়ে আমরা ভুলগুলো করছি, তো এগুলো আমাদের কমাতে হবে। অবশ্যই বড় মঞ্চে এগুলো ক্রাইমের পর্যায়ে চলে যাবে।'
সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল। সাত নম্বরে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের কাছে পারফর্মেন্স চেয়েছিল দল, দুই ম্যাচেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন তিনি।
দাবি ছিল ওপেনিং সমস্যা সমাধানের, ইমরুলের সেঞ্চুরির পর নব্বই রানের ইনিংসে চাওয়া পূর্ণ করার পাশাপাশি বাড়িয়ে দিয়ে প্রতিযোগিতাও। চুপ ছিল লিটনের ব্যাটও। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতা পেছনে ফেলে রানে ফিরেছেন তিনি।
প্রত্যাশার বক্সগুলোর বেশিরভাগেই টিক চিহ্ন বসে গেছে বলা চলে। তবে ছোট ভুল গুলোতেই বার বার চোখ দিতে চান মাশরাফি। আত্মতৃপ্তির লেশমাত্রও নেই অধিনায়কের চোখে মুখে। বরং সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মাশরাফির।