যেদিন ক্রিকেটার হওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন তামিম

ছবি: বিসিবির বিশেষ স্মারক নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তামিম ইকবাল, ক্রিকফ্রেঞ্জি

দলের প্রয়োজনে, বাংলাদেশের প্রয়োজনে সেদিন ভাঙা আঙুল নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম। ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরি বাঁহাতি ওপেনারের সেই সাহসিক গল্পটাই সামনে আনলেন। পাশাপাশি তামিমের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর গল্প জানানো হচ্ছিল একটু একটু করে। পাশাপাশি জাকির হাসান, জাকের আলী অনিক, ইয়াসির আলী রাব্বি, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা মোহাম্মদ আশরাফুলরা স্মৃতিচারণ করলেন।
কেপিজে হাসপাতালের সবাইকে আজীবন হৃদয়ে লালন করব: তামিম
২৯ মার্চ ২৫
জাকিরের কাছে তামিমের সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করার স্বপ্নপূরণ, তানজিম সাকিবের কাছে তামিমের ফিয়ারলেস ব্যাটিং, জাকেরের ড্রেসিং রুমে ভাগাভাগি করতে না পারার আক্ষেপ, সাইফউদ্দিনের কাছে কাছ থেকে শেখার অনুভূতি আর আশরাফুল শোনালেন ২০০০ সাল থেকে ছোট্ট তামিমকে চেনার গল্প। সাবেক ক্রিকেটার আশরাফুল তামিমকে রাখলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তিদের তালিকায়। সবাই যখন বড় পর্দায় এমন সব কথা বলছিলেন তখন মাঠে দাঁড়িয়ে এসব দেখছেন তামিম।
বিদায়ী সম্মাননা পাওয়ার দিনে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের চোখে পানি ছলছল করছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ও তার সন্তানরা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমকে ডেকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে বলতেই শুরুতে তামিমকে অভিনন্দন জানালেন রিয়াদ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জানালেন, তামিমের ব্যাটিংয়ের কারিশমার কথা। বন্ধু মুশফিকের কাছে তামিমই বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটার।

একটু পর তামিমকে ডেকে তিন সংস্করণের স্মারক জার্সি তুলে দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া ক্রীড়া উপদেষ্টা একটি ক্রেস্টও তুলে দিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের হাতে। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ক্রিকেটের শুরুর গল্পটাই বললেন তামিম।
এক বছর এগিয়ে এলো বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর
১৬ ঘন্টা আগে
তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য দারুণ একটা জার্নি ছিল। আমার দেশকে ১৭ বছর প্রতিনিধিত্ব করলাম। এটা যখন শুরু হয়েছিল তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম। আমার চাচা তখন বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিল আমি দেখিলাম তখন বাংলাদেশ শিরোপা (১৯৯৭) জিতেছিল। তখন দেশের মানুষের আনন্দ, উদযাপন দেখেছিলাম। ওইদিনই আমি ঠিক করেছিলাম আমি ক্রিকেটার হতে চাই।’
বাবা ইকবাল খানের কথাও মনে করলেন তামিম। বাঁহাতি ওপেনার বলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল কোন একদিন আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি আমাদের সঙ্গে নেই। আমি নিশ্চিত দেশের হয়ে আমি যা করেছি সেটা নিয়ে সে অবশ্যই গর্বিত বোধ করবে।’
চাচা আকরাম খানের দেখানো পথে ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছিলেন তামিম। ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবসময় তামিমের পাশে ছিলেন আকরাম। বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রায়শই চাচার ক্ষমতা বলে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন এমন সমালোচনাও শুনতে হয়েছে বাঁহাতি ওপেনারকে। শেষ বেলায় স্ত্রাী, সন্তান, পরিবার-পরিজনদের পাশাপাশি চাচা আকরামকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘কয়েকজন মানুষকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। শুরুটা করতে হবে আমার পরিবারকে দিয়ে। আমার চাচা আকরাম খান পথ দেখিয়েছে। এরপর ১৭ বছর আমার এবং আমার চাচাকে সমালোচনা সইতে হয়েছে। আমরা সবাই জানি সেটা কী ছিল। ক্রিকেট এতটা সহজ নয়। আপনি হয়ত সবচেয়ে ক্ষমতাবান লোকের সন্তান হতে পারেন কিন্তু আপনি পারফর্ম না করলে খেলাটা কখনই আপনার হবে না।’