দর্শক পিটিয়েও নিজেকে নির্দোষ দাবি সাব্বিরের

ছবি:

গত জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আসরের শেষ রাউন্ড চলাকালীন সময়ে এক ক্ষুদে দর্শককে পিটিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন টাইগারদের হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে বিসিবি তাঁকে ছয় মাসের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে।
ফলে গত ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ (ডিপিএল) আসরে তো বটেই সাব্বির খেলতে পারছেন না চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) আসরেও। সতীর্থরা যখন ব্যস্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে নিজেদের প্রমাণ করতে তখন অনেকটাই ঘরে বসে কাটাতে হচ্ছে সাব্বিরকে।
সুতরাং খুব একটা ভালো থাকার কথা নয় তাঁর। সম্প্রতি দেশের শীর্ষ বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর সাথে আলাপকালে সাব্বির নিজেও জানিয়েছেন এমনটা। বিশেষ করে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে না পারার যন্ত্রণাই বেশি পোড়াচ্ছে তাঁকে। সাব্বির বলেছেন,
'একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সব সময়ই মাঠে থাকতে পছন্দ করি। অনুশীলন-ম্যাচে থাকতে চাই সব সময়ই। সেটি যে ধরনের ম্যাচই হোক না কেন। অনেক মিস করেছি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আর বিসিএল। প্রতিবছরই এই লিগগুলো খেলে থাকি। আমার কাছে অনেকে জানতে চেয়েছে, কেন খেলতে পারছি না। তাদের বলতে পারছি না আমি নিষিদ্ধ!'
অবশ্য সাব্বির মুখ খুলেছেন তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েও। তিনি জানিয়েছেন যেই ক্ষুদে দর্শকের সাথে তাঁর ঝামেলা হয়েছে সে নাকি তাঁর পরিচিত ছিলো! এমনকি তাঁকে সাহায্য পর্যন্ত করতেন সাব্বির বলে জানান। এই প্রসঙ্গে সাব্বিরের ভাষ্য,

'এক হাতে তালি বাজে না! যে ছেলেকে মেরেছি বলে শোনা গেছে, সে আমার অপরিচিত নয়। আমার বাড়ির পাশেই থাকে। দরিদ্র পরিবারের ছেলে। নানাভাবে তাকে আমি সহায়তা করি। পড়াশোনা যাতে করতে পারে বা ঈদের সময় আর্থিক সহায়তা করি। জামাকাপড় থেকে শুরু করে নানাভাবে সহায়তা করি। আমার সঙ্গে অনুশীলনও করেছে অনেক সময়।'
তবে এই বিষয় নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত বলতে চাননি সাব্বির। বরং সকল দায়ভার চাপিয়েছেন গণমাধ্যমের ওপরেই। তাঁর মতে সবাই পুরোপুরি না জেনেই গুরুতরভাবে বিষয়টি নিয়েছে। সাব্বির বলছিলেন,
'সে (ছেলেটি) আমাকে বিরক্ত করেনি, বিরক্ত করেছিল দর্শকেরা। এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাইছি না। হুট করে তো একজনকে মারধর করা যায় না। ইয়ার্কি-ফাজলামো করে হয়তো দু-একটা চড়-থাপ্পড় মারা যায়। এটাই হয়েছে। কিন্তু সবাই তো অনেক গুরুতরভাবে নিয়েছে বিষয়টা।'
শুধু তাই নয়, টাইগার এই ব্যাটসম্যান আরো জানান ঘটনাটিকে তিলকে তাল করা হয়েছে। এমনকি যা রটেছে তার পুরোটা সত্য নয় বলেও দাবি তাঁর। এক্ষেত্রে নিজের সতীর্থ এবং বন্ধুদের সাক্ষী মানছেন তিনি। বলছেন,
'আমার পরিচিত, তাকে ও তার পরিবারকে অনেক সহায়তা করি। যেভাবে ঘটনাটা ছড়িয়েছে, এটা পুরোপুরি সত্য না-ও হতে পারে, তিলকে তাল করা হতে পারে। ঘটনার সময়ে আমার সতীর্থরা, কাছের বন্ধুরাও ছিল। সবার কাছে যাচাই-বাছাই না করে এভাবে একজনের বিরুদ্ধে খবর ছড়ানো...।'
এমনকি সাব্বির বিষয়টিকে মজা করে করেছেন বলেও দাবি করেন। আর এই ঘটনার কারণে নিজেও বেশ অনুতপ্ত তিনি। তাঁর বক্তব্য,
'সবার সামনে একজনের গায়ে হাত তুলেছি, এটা হয়তো চোখে পড়েছে অনেকের। এভাবে মারধর করাটা বড় ভুল হয়েছে। বুঝতে পারছি, ইয়ার্কি-ফাজলামো করেও কাউকে মারা ঠিক না। পরে বুঝতে পেরেছি, অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। এই ভুল দ্বিতীয়বার হবে না। ওই সময়ে ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটে গেছে। এ ঘটনা নিয়ে আমি দুঃখিত।'