ক্রিকেটে তৃণমূল থেকেই পরিবর্তন চান বিজয়

ছবি: ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হচ্ছে বা হয়েছে বলে বুলি ওড়ানো হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। দেশের ক্রিকেটের বিবেচনায় উন্নতি কিছুটা চোখে পড়লেও সামগ্রিক অর্থে তেমন কিছুই করতে পারেনি বাংলাদেশ। যার একটা কারণ দুই দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ও মানের উন্নতি করতে না পারা। হাতে-গোনা কয়েকজন ক্রিকেটারকে বাদ দিলে ম্যাচ জেতাবেন এমন কাউকে নিয়ে একাদশ সাজানো বড্ড কঠিন।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) রানের ফোয়ারা ছুটানোর পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না বেশিরভাগ ক্রিকেটার। মানের দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখের মতো ক্রিকেটাররা হয়ে উঠতে পারছেন না ম্যাচ উইনার। কখনও কখনও ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে ‘পিকনিক’ লিগও বলা হয়ে থাকে। প্রতিবেশি দেশ ভারত যেখানে ঘরোয়াতে মন দিচ্ছেন সেখানে বাংলাদেশ পড়ে আছে কেবলই জাতীয় দল নিয়ে।
কদিন আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে না খেলার কারণ কেন্দ্রীয় চুক্তি হারিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার, ইশান কিশানের মতো ক্রিকেটাররা। দেশের সরকারে পরিবর্তন আসায় ক্রিকেটেও নতুন কিছুর প্রত্যাশা করছেন সমর্থকরা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এনামুল হক বিজয়ের চাওয়া তৃণমূল পর্যায়ের পরিবর্তন। সেখানটা মজবুত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার।

মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, ‘সামনে আমরা কতটুকু পাব বা আগে কতটুকু পেয়েছি, এসব নিয়ে চিন্তা করার চেয়ে বর্তমান নিয়ে থাকাটা জরুরি। ক্রিকেট শুধু একক কোনো ক্রিকেটারের কথা দিয়ে পরিচালিত হয় না। এখানে আপনারা থাকবেন, সিনিয়র মানুষরা থাকবে, নিচের মানুষ থাকবে। আমি মনে করি, ক্রিকেটটাকে উন্নতি করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করতে হয়। সেটার ফল আমরা পাই।’
‘আমার মনে হয়, তৃণমূল পর্যায়টা মজবুত করা জরুরি। সেটা দল নির্বাচন হতে পারে, উইকেট হতে পারে, আর্থিক হতে পারে, অনুপ্রেরণা হতে পারে, চিকিৎসা হতে পারে, সুবিধাদি হতে পারে। আমাকে যদি বলেন, আমি মনে করি, তৃণমূল থেকে দারুণ গোছালো ক্রিকেট হওয়া জরুরি।’
দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মতো ক্রিকেটও অনেকটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। আরও খানিকটা নির্দিষ্ট করে বললে একেবারেই মিরপুরকেন্দ্রিক। যার ফলে একটা সময় বিভিন্ন জেলা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসলেও বর্তমানে সেটার প্রবণতা কমে গেছে। তূণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রতি ভালো ফেরাতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন বিজয়।
তিনি বলেন, ‘ঢাকাকেন্দ্রিক, মিরপুরকেন্দ্রিক ক্রিকেট আসলে আমরা খেলি। এই ইনডোর, এই আউটডোর... আমার মনে হয়, প্রতিটা জেলায় জেলায় এই সুবিধাদি তৈরি করা, জেলায় জেলায় যে আমরা আগে ক্রিকেটকে পছন্দ করে, ভালোবেসে ক্রিকেট খেলেছি, সেটাতে আসলে চলে যাওয়াটা জরুরি। তাহলে ভালোবাসা থেকে ক্রিকেটটা শুরু হবে। যেটা আসলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির পেছনে মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের পাঁচজনকে দেখে নতুন করে ক্রিকেটে আসার স্বপ্ন দেখছেন দেশের হাজারো তরুণ। তাদের দেখে যারা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন তাদের জায়গাটা মজবুত করতে বলেছেন বিজয়। বিশেষ করে যারা প্রথম থেকে শুরু করেছে কিংবা বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১০, ১২ কিংবা ১৪ দলে খেলছেন।
বিজয় বলেন, ‘আমি মনে করি না যে, বর্তমান জাতীয় দলের এটা লাগবে, ওটা লাগবে। আমার মনে হয়, তৃণমূলটা খুব জরুরি। যারা প্রথম থেকে শুরু করছে। অনূর্ধ্ব-১৩, ১৪ বা ১০... যারা খেলতে চাচ্ছে। মাশরাফি (বিন মুর্তজা), সাকিব (আল হাসান), তামিম (ইকবাল), (মাহমুদল্লাহ) রিয়াদ, মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) ভাইকে দেখে যারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। তাদেরটা মজবুত করা অনেক জরুরি।’