টি-টোয়েন্টির স্ট্যান্ডার্ডে আমরা অনেক পিছিয়ে: নান্নু

ছবি: ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
টি-টোয়েন্টির আবির্ভাবের পর থেকেই ক্রমশই জনপ্রিয়তা বেড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণের। এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ২০ ওভারের ক্রিকেটের সঙ্গে এখনও মানিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এখনও টি-টোয়েন্টি খেলা শিখেনি বাংলাদেশ, বেশিরভাগ সময়ই এমন সমালোচনার মুখে পড়তে তাদের। মারকুটে ব্যাটিংয়ের অভাবের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলতে না পারাও ব্যর্থতার আরও একটি অংশ।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির ইতিহাস ঘাটলে আনন্দের স্মৃতি পাওয়া যাবে কমই। সবশেষ কয়েক বছরে আফগানিস্তান কিংবা অন্যান্য সহযোগী দেশ ২০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের উন্নতির ছাপ রাখলেও বাংলাদেশ এখনও বন্দি হয়ে আছে আগের জায়গাতেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ হার সেটা প্রমাণ করেছে আরও একবার। বিশ্বকাপের আগে এমন হারে তাই হতাশা ছুঁয়ে গেছে সবার মাঝে।

মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কাছেও জানতে চাওয়া হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সমস্যাটা কোথায়, স্কিল নাকি মানসিকতায়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচক অবশ্য অকপটে স্বীকার করলেন নিজেদের স্যান্ডার্ড না থাকাটাকে। নান্নু বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আমাদের যে স্ট্যান্ডার্ড এই জায়গায় আমরা কিন্তু অনেক পিছিয়ে। এটা কিন্তু মানতে হবে।’
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বদৌলতে ক্রিকেটাররা প্রায়শই উন্নতি করে চলেছেন। কদিন আগে গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, আইপিএলের মান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো মন্তব্য করেছেন আরও বেশ কয়েকজন। অথচ বিশ্বের এমন একটা জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের এবারের আসরে বাংলাদেশের খেলেছেন একজন।
চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া বাংলাদেশের আর কাউকে দেখা যায়নি। এর আগে অবশ্য বেশ কয়েকটি মৌসুম খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাকিব আল হাসানের। বাংলাদেশের যেখানে মাত্র একজন খেলছেন সেখানে আফগানিস্তানের ক্রিকেটার ছিলেন বেশ কয়েকজন। বিভিন্ন দলের হয়ে আইপিএল মাতিয়েছেন রশিদ খান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, নূর আহমেদ, নাভিন উল হক, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, মোহাম্মদ নবিরা।
আফগানিস্তানের উদাহরণ দিয়ে নান্নু প্রশ্ন করেছেন, বাংলাদেশের কজন দেশের বাইরের লিগে খেলে। তবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচকের বিশ্বাস, ৩-৪ জন ক্রিকেটার গড়ে ৩-৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলতে পারলে টি-টোয়েন্টিতে শক্তিশালী হওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে নান্নু বলেন, ‘ দেখুন, বাইরের দেশে যে লিগগুলো হয় আমাদের কয়টা খেলোয়াড় খেলে। আমাদের নিচের সারির বা কাছাকাছি মানের দল আফগানিস্তানের ১১-১২ জন বেশিভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে।’
‘ওদের অভিজ্ঞতাটা অনেক। আমরাও যাচ্ছি আস্তে আস্তে আমাদের মুস্তাফিজ এবারের আইপিএলে যথেষ্ট ভালো খেলেছে এবং আমাদের আরও যদি ৩-৪ জন খেলোয়াড় গড়ে ৩-৪ টা লিগ খেলতে পারে তাহলে এই সংস্করণে আমরাও শক্তিশালী হবো। তারপরও এই সংস্করণ নিয়ে আগাম কিছু বলতে পারবেন না। একটা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিকের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে।’