পাইপলাইন নিয়ে সাকিবের হতাশা

ছবি: সংগৃহীত

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
ডিপিএল থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিলেন সাকিব
২৩ ফেব্রুয়ারি ২৫
কাগিসো রাবাদা, বেন স্টোকস কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের ঋষভ পান্ত- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই তারকাদের সবাই উঠে এসেছেন বয়সভিত্তিক দল থেকে। ক্রিকেটে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বা পাশের দেশ ভারতের যে আধিপত্য দিনদিন বেড়েই চলছে এর পেছনে অন্যতম কৃতিত্ব দেশগুলোর ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ও বয়সভিত্তিক দলের।
প্রতিটি দেশের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিই সেই দেশের উঠতি ক্রিকেট তারকাদের আঁতুড়ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এই ব্যাপারে ভিন্ন বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক বা হাই পারফরমেন্স দল (এইচপি) থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারদের যত্ন নেয়ার ব্যাপারে ব্যর্থ টাইগার ক্রিকেটের ম্যানেজমেন্ট। এইচপি বা ইমারজিং দলের ব্যানারে ক্রিকেট চললেও তা থেকে খুব বেশি উপকৃত হচ্ছে না দেশের ক্রিকেট। ফলাফল হিসেবে লাল-সবুজের জার্সিতে দুর্দান্তভাবে শুরু করলেও তা ধরে রাখতে পারছে না তরুণ ক্রিকেটাররা।
দেশের ক্রিকেটের এই দূর্বলতা নিয়েই আক্ষেপ সাকিব আল হাসানের। গত বছর অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা ছাড়া দেশের ক্রিকেটে অর্জন নেই বললেই চলে। এজন্যে ক্রিকেট বোর্ডকে কৃতিত্ব দিলেও বিগত ৪-৫ বছরে কয়টা ক্রিকেটার এইচপি থেকে উঠে এসে জাতীয় দলে থিতু হতে পেরেছে সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই অলরাউন্ডার।

ক্রিকফ্রেঞ্জির ফেসবুক লাইভে সাকিব বলেন, ‘শেষ ৪-৫ বছরে এইচপি থেকে কয়টা ক্রিকেটার তৈরি করেছে তা আমার জানা নেই। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডে অনেকেই আছেন যারা ক্রিকেট খেলেছেন এর আগে, যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। তবে আমার মনে হয় সুজন ভাই ছাড়া এখানে অন্য কারও সম্পৃক্ততা নেই। যারা অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে তাদের নিয়েই আমরা অনেক বেশি স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি।’
নাজমুল হোসেন শান্ত বা আফিফ হোসেনদের মতো ক্রিকেটাররাও এর আগে বয়সভিত্তিক এবং এইচপি থেকে উঠেছে। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ পাবার পরেও এসব ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে নিজেদের স্থায়ী করতে পারছে না। বয়সভিত্তিক বা এইচপি থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারদের পরিচর্চা করার ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা নিয়েও সন্দিহান সাকিব।
এ প্রসঙ্গে সময়ের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘এর আগের দলগুলোতেও বেশ ভালো কিছু খেলোয়াড় ছিল। তাঁরা যেমন এইচপি-একাডেমির দলগুলোতে থাকবে, ওখান থেকে ভালো করে আসবে। তাদের তৈরি করার যে জায়গাটা- এইচপি বা একাডেমি এই জায়গাওগুলোতে কি কাজটা করেছে গত ৪-৫ বছরে? যদি চেষ্টা করতো তাহলে তো খেলোয়াড় থাকতো।’
এর আগেও বেশ কয়েকবার জাতীয় দলের শক্তিশালী পাইপলাইন রয়েছে বলে দাবি করেছে বিসিবির বিভিন্ন কর্মকর্তা। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এখনও দলের নিয়মিত কোন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে একাদশ সাজাতে হিমশিম খেতে হয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। এত বছর পরেও পর্যাপ্ত বিকল্প ক্রিকেটার তৈরি করতে না পারার জন্য এইচপির ম্যানেজমেন্টকে দায়ী করেছেন তিনি।
সাকিব বলেন, ‘পাইপলাইন মানে হচ্ছে যে, আপনার তৈরি খেলোয়াড় আছে। যখনই জাতীয় দলে কোন জায়গা পূরণ করা লাগবে, তখনই সেই জায়গাটা পূরণ করবে। এমন নয় যে, এসে ২ বছর খেলে সেট হয়ে তারপরে রিটার্ন দেব। তাহলে এইচপির দরকার কি? আমি তো ওরকম কোন কার্যকলাপ বা এমন কিছু দেখলাম না যাতে করে আমি ভালো কিছু আশা করবো।’