কোয়ারেন্টাইন ইস্যুতে শ্রীলঙ্কার 'দ্বৈত নীতি'

ছবি: ছবি- সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
কিছুদিন আগেই কোয়ারেন্টাইন ইস্যুর জটিলতার কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কা সফর। শ্রীলঙ্কা সরকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে শিথিলতা না আনার কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল সিরিজটি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) শ্রীলঙ্কা সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, লঙ্কায় অবতরণের পরপরই ১৪ দিন হোটেলেবন্দী অবস্থায় থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। এ সময়ে তিনবার করোনা টেস্ট হবে। তিনবারই ফল নেগেটিভ হলে তবেই মাঠে নামার অনুমতি পাবেন তামিম-মুমিনুলরা। নিজেদের দেশে করোনার প্রকোপ যেন ফের না বাড়ে সেই জন্যই এমন কঠোর অবস্থানে ছিল লঙ্কা সরকার।
কিন্তু করোনার এই প্রকোপের কথা যেন লঙ্কা সরকার বেমালুম ভুলে গেল লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) আয়োজনের ক্ষেত্রে। এলপিএলে অংশ নিতে যাওয়া বিদেশি খেলোয়াড়দের কোয়ারেন্টাইন সময়কালে শিথিলতা আনতে যাচ্ছে দেশটির সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরে আসতে যাচ্ছে তাঁদের কঠোর অবস্থান থেকে।

সম্প্রতি এলপিএলের চলতি বছরের অনুষ্ঠিতব্য আসরটি আরব আমিরাত অথবা মালয়েশিয়াতে করার পরিকল্পনা করেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ইস্যুতে বনিবনা না হওয়ায় নিজ দেশে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল বোর্ড।
বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নেবার সঙ্গে সঙ্গেই যেন টনক নড়ে যায় লঙ্কা সরকারের। বিদেশী খেলোয়াড়দের কোয়ারেন্টাইন শিথিল করার ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। একই সঙ্গে জানানো হয় শ্রীলঙ্কাতেই অনুষ্ঠিত হবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের আসরটি।
বৃহস্পতিবার এসএলসির কর্মকর্তারা এবং টুর্নামেন্ট পরিচালক রাভিন বিক্রারমারত্নে একত্রে মিলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। সেখানেই কোয়ারেন্টাইন ইস্যুর শিথিলতা এনে লঙ্কাতেই টুর্নামেন্টের আয়োজনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন লঙ্কা প্রেসিডেন্ট গতবায়া রাজাপাকসে।
শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমের বরাত অনুযায়ী, 'প্রেসিডেন্ট এই অনুষ্ঠানটি (এলপিএল) দেশে অনুষ্ঠিত করতে এবং ক্রীড়া কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় আনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।'
'বিদেশ থেকে আগত খেলোয়াড়রা ৭ দিনের কোয়ারেন্টাইনের সময়কালে ১ বা ২ দিনের জন্য রুমে আবদ্ধ থাকতে হবে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গাইডলাইন জারি করবে।'
মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের সময়কালে শিথিলতা না আসায় দেশের বাহিরে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের চিন্তা করেছিল এসএলসি। বোর্ড চেয়েছিল কোয়ারেন্টাইন সময়কাল ৫-৭ দিন করতে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৪ দিনের সময়কালে অনড় ছিল।