কখনও জীবন থেকে পালাতে চাননি প্রিয়াম গার্গ

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
শত কোটি মানুষের দেশ ভারত। ক্রিকেট যাদের কাছে একটা ধর্ম। শচীন টেন্ডুলকার নামে এক ক্রিকেটার তাদের কাছে হয়ে উঠেন ঈশ্বরসম। এখানে ক্রিকেট নিয়ে উৎসবে ভাসে পুরো জাতি। বেশির ভাগ কিশোরেরই স্বপ্ন থাকে ক্রিকেটার হওয়ার। আর অধিনায়ক হতে পারলে? তার চেয়ে সম্মানের আর বোধ হয় কিছু থাকে না।
জাতীয় দল হোক বা বয়সভিত্তক। ভারতের কোনো ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করা মানে শত কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ বয়ে বেড়ানো। প্রিয়ম গার্গ যেটা করে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই। অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপে রানার্স হয়েছেন। এবার খেলছেন আইপিএলেও।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিও। স্বপ্ন দেখছেন জাতীয় দলে খেলার। দলের ব্যাটিং ভরসা হয়ে ওঠার। গার্গ তার জীবনের গল্প শুনিয়েছেন হায়দরাবাদের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।
শুরুতে বাবা রাজি না থাকলেও, মায়ের অনুপ্রেরণাতেই এতটুকু আসা। নিজের গল্প গার্গ বলেছেন এভাবে, 'আমার কখনো ধারণা ছিল না ক্রিকেটার হবো। আমার খেলাটা ভালো লাগতো। পাঁচ বছর বয়সে মার কাপড় ধোয়ার লাঠি দিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে।'

'শুরুতে বাবা না করতো, কিন্তু মা কিছুটা সাপোর্ট করতো। বাবা ভোরে উঠে যেত। আমি তার থেকে বাঁচার জন্য উনার আগে ঘুম থেকে উঠে যেতাম আর বাবার খাটের নিচে লুকিয়ে থাকতাম। কারণ বাবা উঠে গেলে আর খেলতে যেত দিত না' আরও যোগ করেন গার্গ।
বাবার মতো প্রথমে রাজি ছিলেন না গার্গের মামাও। হঠাৎ একদিন একটা ম্যাচ দেখলেন। তার পর মুগ্ধ হলেন গার্গের ব্যাটিং দেখে। একাডেমিতে ভর্তি হতে পেরেছিলেন তার কল্যাণেই। যাতে বদলে গিয়েছিল এই তরুণের জীবন।
এই বিষয়ে গার্গ বলেন, 'একদিন আমার মামা এসে মাকে জিজ্ঞেস করলো প্রিয়াম কোথায়? মা তাকে বললো ও তো সকাল থেকে বিকেল অবধি ক্রিকেট খেলে। তারপর উনি খুব রেগে গেলেন আর এসে আমাকে বুঝালেন ক্রিকেট না খেলতে।'
'একদিন মামা আমার খেলা দেখলেন। সেদিন আমি আমার দলকে জেতালাম। তখন বললেন ক্রিকেটে তোর ভবিষ্যৎ আছে। উনি এরপর বাবাকে রাজি করিয়ে আমাকে নিয়ে একাডেমিতে ভর্তি করে দিলেন' গার্গের ভাষ্যমতে।
এরপর নানা বাধা পেরিয়েছেন গার্গ। ট্রায়াল দিতে গিয়ে রিজেক্ট হয়েছেন একে একে তিনবার। যে মায়ের কল্যাণে স্বপ্ন দেখার শুরু, তার মৃত্যুর পর আশা ছেড়ে দিচ্ছিলেন নিজেও। তবে শেষ পর্যন্ত কোচ সঞ্জয় তার বাবাকে ডেকে নিয়ে চেয়েছিলেন ৩ মাস সময়।
এরপরই ধীরে ধীরে অনুর্ধ্ব-১৯ থেকে আইপিএল। গার্গ এতে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেন কোচ সঞ্জয়ের। নিজের সেই ব্যর্থতার গল্প শুনিয়ে গার্গ বলেন, 'আমি মিরাটে প্রথমবার ট্রায়াল দিলাম রিজেক্ট হলাম। তারপর আরও কঠোর পরিশ্রম করলাম।'
'দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ট্রায়াল দিয়েও রিজেক্ট হলাম। এরপর পরিবার থেকে বললো এই কাজ আর হবে না। তখন মা খুব অসুস্থ। এরপর উনি মারা গেলেন। উনি সবসময় চাইতেন আমার স্বপ্ন যাতে সত্যি হয়। উনি মরে যাওয়ার পর আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল' গার্গ বলেন।
শেষ পর্যন্ত ঠিকই জীবনে সফলতার পথে ছুঁটছেন গার্গ। আর এটা খুঁজে পেতে মূল ভূমিকা রেখেছে তার হাল না ছাড়া মানসিকতা। গার্গ আরও যোগ করেন, 'জীবনে সফলতা ব্যর্থতা থাকবেই। কখনো হয়তো আপনি খুব নিচে থাকবেন, কখনো খুব উপরে।'
'আমি কখনো জীবন থেকে পালাতে চাইনি। আমি কোনো কিছু না পারলে ছেড়ে দেইনি বা শর্টকাট রাস্তা চাইনি। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজের রাস্তায় ঠিক থাকতে হবে' গার্গ আরও যোগ করেন।