শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও অসহায়দের পাশে মহসিন
ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং হুইল চেয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি মাঠের খেলা থেকে। একই সঙ্গে দমাতে পারেনি সমাজের দুর্গত মানুষদের সেবার ক্ষেত্রেও।
করোনাকালে বিপাকে পড়া খেটে খাওয়া মানুষদের সাহায্যার্থে শুরু থেকেই ছিলেন মহসিন বেশ তৎপর। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি দুর্যোগের সময় নিজের কর্তব্য পালনে। বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তহবিল গঠন করে পাশে দাঁড়িয়েছেন চার হাজারেরও বেশি পরিবারের।
নিজ শহর টঙ্গি, গাজীপুরে প্রতিবন্ধী মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এই ক্রিকেটার, খাবার পৌঁছে দিয়েছেন ৩২৫০টি পরিবারের কাছে। সেই সঙ্গে উত্তরা, মিরপুর, কালশি, পল্লবী, বাড্ডা, রামপুরাসহ আরো বিভিন্ন এলাকায় চার হাজার প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

সম্প্রতি ক্রিকফ্রেঞ্জিকে মহসিন জানান তাঁর আর্তমানবতার খাতিরে এগিয়ে আসার আদ্যোপান্ত।
এ প্রসঙ্গে মহসিন বলেন, 'শুরুতে আমি আমার ভাবনাটা কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে শেয়ার করি। প্রথমে আমার এলাকার ১০টা ওয়ার্ডের প্রায় তিন হাজার অসহায় মানুষদের খাবার বিতরণ করেছিলাম। এরপর ইয়ুথ পলিসি ফোরাম এবং বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেটের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালে ৫০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, অরিয়ন, এপিলন, বিদ্যানন্দ, সেভ মিশন বাংলাদেশ, বিওয়াইএলসি, হিরোস ফর অল, অল ফর ওয়ান, এম স্পোর্টস, ইউসিডি এ সকল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসে প্রতিবন্ধী ও অসহায় দরিদ্র মানুষদের দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে ব্র্যাকের সহায়তায় ৩০০ প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে নগদ ১৫০০ টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।'
করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপ দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের। ইতোমধ্যেই রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মহসিনের এলাকা টঙ্গী। এতো কিছু স্বত্ত্বেও থেকে নেই মহসিন। চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর সমাজসেবা। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, থামতে তিনি পারবেন না। বৃহৎ পরিসরে অসহায়দের পাশে দাড়াতে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করার।
এ প্রসঙ্গে মহসিন বলেন, 'ইতোমধ্যেই আমার এলাকা (টঙ্গী) রেড জোনের ভেতর পড়ে গেছে। আমাকে এর ভেতর অনেকেই ফোন দিচ্ছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আমি কিন্তু কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যোগাযোগ করছি সাপোর্টের জন্য। ইতোমধ্যেই সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কথা চলছে। ঢাকার বাইরে আরও এক হাজার প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।'
শুধু খাবার পৌঁছে দিয়েন ক্ষান্তি দিচ্ছেন না মহসিন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন মহসিন। লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টানানো, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, নিজ এলাকায় এবং আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন এই ক্রিকেটার।