'জ্বীন' হতে পেরে ভাগ্যবান শফিউল

ছবি: ছবিঃ ফাইল ছবি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
রুগ্ন দেহের অধিকারী হিসেবে জাতীয় দলে বেশ ভালোই পরিচিতি রয়েছে পেসার শফিউল ইসলামের। কিছুদিন আগে এই পেসারকে জ্বীন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের ওয়ানডে দলপতি তামিম ইকবাল। খাওয়া দাওয়া প্রচুর করলেও শরীরের কোনো উন্নতি হয় না বলেই এমনটা দাবী করছিলেন তামিম।
তবে 'জ্বীন' হতে পেরে এক রকমের খুশিই শফিউল। সেই সঙ্গে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন এতো খাওয়ার পরও ওজন এবং শরীরের পরিবর্তন না হওয়ায়। তাঁর ভাষ্যমতে, ওজন না বাড়ায় তাকে কষ্টও কম করতে হয় ফিটনেস ধরে রাখতে।
শুক্রবার (১৫ মে) ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেয়া এক ফেসবুক লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

শফিউল বলেন, 'এটা (জ্বীন) সবাই বলে আরকি। তামিম ভাইরা বলে। বাইরে গেলে আমি বেশিরভাগ সময় বিরিয়ানি খাই। আমার খুব পছন্দের খাবার। কিন্তু আমার শরীরের কিছুই হয়না। সবাই আশ্চর্য্য হয়ে যায়; আমরা খেলেই মোটা হয়ে যাই, ভাত খেলেই মোটা হয়ে যাই। কিন্তু ওর কিছু হয়না কেন?'
'আসলে এটা আমার জন্ম থেকেই। ছোটবেলা থেকেই এরকম। আমি যখন অনুশীলনে থাকি তখন আমার ওজন যে রকম থাকে, আবার বাসায় বসে থাকলেও আমার ওজন ওইরকমই থাকে। এক দুই কেজি উঠানামা করে। বেশি বাড়েও না কমেও না। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এ দিক দিয়ে। কেননা যখন আমি মাঠে ফিরি তখন আমার কষ্টটা একটু হলেও কম করা লাগে। ফিটনেস ধরে রাখা সহজ হয়। আমি এটা নিয়ে খুব হ্যাপী।'
তবে মোটা হবার চেষ্টা যে একেবারেই করেননি সেটি কিন্তু বলা যাবে না। সরাসরি না হলেও মোটা হবার জন্য একবার জুনিয়র ক্রিকেটারদের দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রোটিনও এনেছিলেন শফিউল।
তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, 'প্রোটিন যেটা আনিয়েছিলাম দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সেটা আসদলে স্ট্যামিনা বাড়ানোর জন্য। হ্যাঁ একটু মোটা হবার জন্যও বটে। একটু মোটা হতে চেয়েছিলাম, যাতে দেখতে একটু ভালো লাগে। কিছুটা যদি বাড়তো ওজন তাহলে ভালো লাগতো। তবে মোটা হবার জন্য ঠিক না, স্ট্যামিনা বাড়ানোর জন্যই মূলত প্রোটিনটা আনা।'
এর আগে তামিম বলেছিলেন, 'ও (শফিউল) একটা জ্বীন। আমার কাছে ওকে জ্বীন মনে হয়। ওকে যদি আপনি তিন বেলা বিরিয়ানি খাওয়ান ও টানা একবছর তা খেতে পারবে। কিন্তু তাতেও ওর শরীরে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ওর যা মনে ইচ্ছা হয় ও তাই খায়। কোক খায়, বিরিয়ানি খায়, সব খায়।'