কি বলেছিলেন আকবররা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে?

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে ১৩১ রানের বড় হারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই ধারা অব্যাহত থাকে পরের বছরের এশিয়া কাপেও। ফাইনালে সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেও ৫ রানে হেরে ধূলিস্যাৎ হয় এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্নও। কিছুতেই যেন কাটছিল না ভারত জুজু। পরাজয়ের গ্লানি পিছু ছাড়েনি ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালেও। ৬ উইকেটের হারে সেবারও স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের জুবাদের।
কথায় আছে ক্রিকেটে খারাপ সময় বেশিদিন স্থায়ী হয়না। ক্রিকেট বিধাতা এক সময় না এক সময় মুখ তুলে তাকায়ই। যখন তাকায় তখন সেরাটাই যেন দিয়ে দেয় দলে। যেমনটাই দেখা গেছে গেল যুবা বিশ্বকাপে।
গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ে এবং স্কটল্যান্ডকে একপ্রকারে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে টাইগার যুবারা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সেমি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আকবর আলীরবাহিনী। ফাইনালে আবারও সেই চিরচেনা প্রতিপক্ষ ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টানা তিনবার শিরোপা হাতছাড়া হলেও এবার আর ভুল করেনি খালেদ মাহমুদ সুজনের শিষ্যরা।

অভিষেক দাসের বোলিং তোপে ১৭৭ রানে গুটিয়ে যাবার পর ভারতের ছুড়ে দেয়া লক্ষ্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয় ইমন-আকবররা। ফাইনালে প্রিয়াম গার্গের ভারতকে বৃষ্টিআইনে ২৩ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে বসে টাইগার যুবারা।
ম্যাচের আগের কিছু ঘটনা প্রভাব ফেলে ম্যাচের সময়। ইতিহাস গড়া এই ম্যাচের সময়কার এবং তাঁর আগের অনেক কথাই রয়ে গেছে ক্রিকেট প্রেমীদের অগোচরে। সেই বিষয়ে খোলাসা করলেন খোদ খালেদ মাসুদ সুজন। জানালেন কি হয়েছিল আসলে সেদিন ম্যাচের আগে। যা কিনা সহজেই ভারত জুজু কাটিয়ে দিয়েছে টাইগার যুবাদের।
রবিবার (১০ মে) জাতীয় দলের ওয়ানডে দলপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে সেদিনকার বিষয়ে জানান জুবা দলের এই কোচ। তিনি জানান, জয়ের পেছনে অবদান রয়েছে দলের সবার।
খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, 'প্রথমেই আমি খেলোয়াড়দের কথা বলবো, ওরা খুব কষ্ট করেছে। জয়ের অদম্য নেশা ছিল ছিল। সাথে কোচ ট্রিনার ফিজিও যারাই ছিল সবাই জড়িত ছিল একে অপরের সঙ্গে। ছেলেগুলা ডিভিশনাল লেভেল থেকে যারা উঠে এসেছে, সবারই একটা অবদান আছে।'
সেই সঙ্গে সাবেক এই ক্রিকেটার মনে করেন বিশ্বকাপের আগে অনেক ম্যাচ খেলায় দলের ভেতর একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছিল। সেই সঙ্গে কিছু সহজ হার থেকে খেলোয়াড়রা শিক্ষা নিয়েছে এবং সেখান থকে উঠে আসার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করেছে।
সুজন এই প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা দুই বছরে অনেক নিয়মে ছিলাম, ছেলেরা প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। ৩৫-৪০টা ম্যাচ খেলেছে। একটা জিনিস মনে করি, এশিয়া কাপের ফাইনাল হারাটা ইতিবাচক ছিল আমাদের জন্য। ছেলেরা শক্ত শিখেছে, একটা ক্লোজ ম্যাচ আমরা চেজ করতে পারিনি, ১০৫-১০৬ রান। এখান থেকে ওরা আরও শক্ত হয়েছে। আমি যখন ওদের বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে দেখি, ওরা অনেক শক্ত।'
তিনি আরও বলেন, 'তিনটা টিম মিটিংই আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কোন সময় ওরা বিশ্বাস হারায় নি যে ওরা পারবে না। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগে ওরা বলেছিল, এটা আমাদের শেষ সুযোগ, অনূর্ধ্ব-১৯ দল হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। এটাই শেষ সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার যে ভারতকে হারাতে পারি আমরা।'