আইসিসির সাহায্য ছাড়া অস্তিত্বের সংকটে পড়বে বিসিবি?

ছবি: ছবিঃ বিসিবি

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকারের স্পোর্টিং ইভেন্ট। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার ক্রিকেটও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ভারতের আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চয়তায় ভুগছে। খেলাধুলা না থাকার ফলে এক প্রকারে আয়হীন হয়ে পড়েছে ক্রিকেট বোর্ডগুলো। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় চোখ রাঙাচ্ছে বোর্ডগুলোকে।
এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাহাজ্য-সহায়তা না পেলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বোর্ডগুলোর 'অস্তিস্ব বাঁচানো' কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বোর্ডগুলোর টিকে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে।
বোর্ডগুলোর আয়ের প্রধান উৎস স্পন্সর এবং টিভি ব্রডকাস্ট। খেলা বন্ধ থাকায় এই দুই খাত থেকে আয়ও বন্ধ রয়েছে বোর্ডগুলোর। তাই বড়সড় আর্থিক ক্ষতি এতেই হয়ে গেছে। এমনটাই মত অর্থনৈতিক পরামর্শক মণীশ দেশাইয়ের।

তিনি বলেন, 'বোর্ডগুলোর আয় মূলত লাইসেন্সিং আর টিভি ব্রডকাস্ট থেকে আসে। যেহেতু খেলা বন্ধ, তাই বেশির ভাগ বোর্ডই বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। ভারতীয় ক্রিকেটের হয়তো তেমন সমস্যা হবে না। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মতো তুলনামূলক ছোট বোর্ডগুলোর সম্প্রচার সত্ত্ব যদি নবায়ন না করা হয়, তবে তাঁরা অবধারিতভাবে বিপদে পড়বে।'
যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন চলমান পরিস্থিতিতে খেলা মাঠে না গড়ালেও কমপক্ষে পাঁচ বছর বসে বসে খেটে পাড়বে বাংলাদেশের বোর্ড।
এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের পথ বাৎলে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কর্মকর্তা হারুন লরগাত। তিনি বলেন, 'এখন অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল দেশগুলোকে অস্তিস্ব বাঁচানোর জন্য লড়তে হবে। অনেক দেশের তো অন্যদের সহযোগিতা ছাড়া মূল খরচগুলো চালানোরও ক্ষমতা নেই। এই অবস্থায় ছোট দেশগুলোকে আইসিসির সাহায্য করা উচিত।'
তবে ক্রিকেটের 'তিন মোড়ল' যে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তাও কিন্তু নয়। একদম দেউলিয়া না হলেও বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে ভারিত এবং অস্ট্রেলিয়ারও।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ভারত সফর না হলে 'তিন মোড়লের' অন্যতম মোড়ল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড পড়বে বিশাল ক্ষতির মুখে। অপরদিকে আইপিএল বাতিল হয়ে গেলে কমবেশি ৬০০ মানুষের আয়ের ক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যাবে। এখানেই শেষ নয়, আইপিএল না হলে সরকারি সম্প্রচারকারী সংস্থাকে ১৫০০ কোটি রুপি ফেরত দিতে হতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে।