তিনবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন শামি

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
মোহাম্মদ শামি। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই ভারতের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র তিনি। মাঠে বোলারদের ত্রাস এই বোলারকে ২২ গজে হার মানতে কখনোই দেখা যায়নি। খেলায় কোনো কিছুতে হার না মানলেও বিষণ্নতার কাছে হার মানতে হয়েছিল এই পেসারকে।
বিষণ্নতা এতোটাই জেঁকে বসেছিল তাকে যে তিনি আত্মহত্যা পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। তাও একবার দুইবার নয়। তিন তিন বার। শনিবার (২ মে) জাতীয় দলের সতীর্থ রোহিত শর্মার সঙ্গে ইন্সটাগ্রামের এক লাইভ আলাপচারিতায় নিজের জীবনের অন্ধকার দিনগুলো সম্পর্কে বলেন শামি।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সময় চোটে পড়ে ১৮ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন শামি। নিজের জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যখন ২০১৫ বিশ্বকাপে চোট পাই, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আমার ১৮ মাস লেগেছিল। ওটাই আমার জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্ত। সে সময়টা খুব হতাশাজনক ছিল।’
এরপরই জটিল এক পারিবারিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে হওয়া সেই দ্বন্দ্ব গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। পারিবারিক সেই সমস্যার কারণে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। যদিও তা কাটিয়ে উঠে নিজের পারফর্ম্যান্স দেখিয়ে ফের দলে ফেরেন তিনি।
সেই প্রসঙ্গে শামি বলেন, ‘চোট কাটিয়ে ফেরার পর যখন আমি খেলা শুরু করি, তখন আমাকে কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়েছিল। আমি মনে করি, আমার পরিবার যদি সমর্থন না দিতো তবে আমার পুনরায় ফেরা হতো না। আমি তিনবার আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছিলাম।’
স্ত্রীর তোলা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং ২০১৮ সালের মার্চে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযোগে জীবন তছনছ হয়ে যেতে বসেছিল শামির। তদন্ত চলাকালীন বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তিও স্থগিত হয়ে গিয়েছিল তার। অবশ্য পরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে নিস্তার পান তিনি।
এতো কিছুর পরও পরিবারের সমর্থনে পথ হারাননি শামি। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কেউ না কেউ ৭ দিনের ২৪ ঘন্টাই আমার সঙ্গে থাকতো। মানসিকভাবে আমি ভালো ছিলাম না। আমার পরিবার আমার সঙ্গে ছিল। আপনার পরিবার যদি সবসময় আপনার সঙ্গে থাকে তবে যেকোনো সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন আপনি। যদি পরিবার সঙ্গে না থাকতো তবে কোনো এক খারাপ পদক্ষেপ নিয়ে নিতাম। আমি আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই, আমার সঙ্গে থাকার জন্য।