promotional_ad

ভাঙা হাতে ব্যাটিংয়ের বীরত্বগাঁথা শোনালেন তামিম

ছবিঃ সংগৃহীত
promotional_ad

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||


সময়টা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসেছিল এশিয়া কাপের ১৪ তম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলংকার। দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে এশিয়া কাপে ব্যাট করতে নামেন তামিম ইকবাল।


কিন্তু বিধিবাম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে সুরাঙ্গা লাকমলের এক বাউন্সারে ওলট-পালট হয়ে যায় সবকিছু। হাতে আঘাত পেয়ে ব্যাট ফেলে তামিমকে ছুটে যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। এক হাতে প্লাস্টার বেঁধে তামিম ফেরেন স্টেডিয়ামে। টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয় তামিম ‘আউট অব এশিয়া কাপ’।


সেই ম্যাচে ব্যাটিং ধ্বসে পড়ে বাংলাদেশ। উইকেটের এক প্রান্ত মুশফিক আগলে রাখলেও অপরপ্রান্তে ছিল আসা যাওয়ার মিছিল। সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মুশি। কিন্তু আসা যাওয়ার মিছিলে সেটি অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। উপায়ন্তর না দেখে ভাঙা হাত নিয়ে ২২ গজে নেমে পড়েন তামিম। খেলেন একটি বল। কিন্তু কোনো রান নেননি সেই বলে। কোনোমতে ঠেকিয়েছিলেন শুধু। কিন্তু তামিমের ওই এক বলের কারণে পরের ১৬ বলে মুশফিক তোলেন ৩২ রান।


দলের রান এক লাফে ২২৯ থেকে ২৬১। যদিও ব্যাট করতে নেমে রান তাড়া করে জিততে পারেনি লংকানরা।



promotional_ad

সেঞ্চুরি করে সেই ম্যাচের নায়ক হয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু ড্রেসিংরুমের নায়ক ছিলেন তামিম। সেদিনের ভাঙা হাতে ব্যাট করতে নামার পেছনে রয়েছে অসীম বীরত্বের এক গল্প। শনিবার (২ মে) রাতে মুশফিককে ইনস্টাগ্রাম লাইভে সেই গল্প শুনিয়েছেন তামিম।    


তামিম বলেন, ‘আমি হাসপাতাল যাচ্ছিলাম ও মোবাইলে স্কোর দেখছিলাম। আমাদের দুই-তিনটা উইকেট খুব তাড়াতাড়ি পড়ে গেলো। তোর আর মিথুনের একটা দারুণ জুটি হলো। ডাক্তারের কাছে যাবার আগে এ পরিস্থিতি ছিল। আমি যখন আবার ফেরত আসছিলাম তখন আবার একটা ধ্বস নামলো। দুই -তিনটা উইকেট পড়ে গেল। ব্যাটসম্যানরা সবাই আউট। ড্রেসিংরুমে ঢুকে দেখি তুই ব্যাটিংয়ে। আর দলের স্কোর কোনোমতে এগিয়ে যাচ্ছে।’


‘ড্রেসিংরুমে কথা বলতে বলতে মাশরাফি ভাই (তখন অধিনায়ক ছিলেন) আমাকে বলে যা ব্যাটিং কর! আমি শুরুতে ফাজলামো হিসেবে নিয়েছিলাম। আমাদের ফিজিও থিহান আবার মাশরাফি ভাইকে বলছিল, ‘‘তুমি কি পাগল নাকি! ওর স্লিং লাগানো। কিভাবে ব্যাটিং করবে।’’ এটা নিয়ে আলোচনা করতে করতে দেখি তুই মারা শুরু করছিস। একশ’র কাছাকাছি হয়ে গেছে তোর। তখন আলোচনা সিরিয়াস হয়ে গেল। আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসলাম যদি মুশফিক স্ট্রাইকে থাকে এবং ওভার বাকি থাকে তাহলে আমি ব্যাটিংয়ে যাবো ওভাবেই। আমাকে ডাক্তার বলেছিল, ওটা নিয়ে দৌড়ানো যাবে না। কারণ মাত্রই হাত ভেঙেছিল। রিপ্লেসমেন্টের ব্যাপার আছে। দূর্ভাগ্যবশত চার বা পাঁচ নম্বর (পাঁচ নম্বর) বলে মুস্তাফিজ আউট হয়ে গেল।’


‘আমাদের সবার জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন পাগলামি ভর করে। হয়তোবা তুই নিজেও জানিস না যে, তুই কি করতে যাচ্ছিস! ওই পাঁচ সেকেন্ড আমার ওটাই হয়েছিলো। আমি ব্যাট নিয়ে হাঁটা শুরু করেছিলাম। আমাদের কোচ স্টিভ রোডস পেছনে দৌড় দিয়ে এসেছিলো। আমাকে থামিয়ে বলে, ‘‘তুমি ক?? করতে যাচ্ছো? আমি বললাম, ‘আমি যাই।’ ও আমায় আবার বলল, ‘এটা তো পরিকল্পনা ছিলো না।’ আমি বললাম, ‘আমি ম্যানেজ করতে পারবো।’ তখন ও আমাকে আমার দায়িত্ব নিতে বলে।’


‘আমার মতে ওই মুহূর্তে আমি ঠিক কাজটা করেছি। আর ওই সময়ে আমাকে সবচেয়ে সহজ বলটাই ওরা করেছে। বোলার যদি আমাকে ইয়র্কার বা উইকেটে বল করতো তাহলে কঠিন হয়ে যেতো। তুই জানিস যে, আমার সব পরিসংখ্যান, সব ইনিংস মনে থাকে। কিন্তু তোর ওই ইনিংস আমার মনে নেই। এতো ব্যথায় ছিলাম যে আমি কিছু মনে রাখতে পারিনি। যেভাবে চার-ছয় মেরেছিলি আমার কোনো ধারণাতেও ছিল না।’



মুশফিক ব্যাটিংয়ে থাকায় জানতে পারেননি কিভাবে কি হয়েছিল। আর মুশফিকও ব্যাটিংয়ে থাকায় প্রকাশ করতে পারেননি তাঁর তখনকার অনুভূতি। কাল সুযোগ পেয়ে উগড়ে দিলেন সব।


মুশফিক বলেন, ‘তোকে আসতে দেখে মনে হয়েছিলো আমি এখন রাজা। আমাকে শাসন করতে হবে। এরকম আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছিলো। পরের ওভারে দেখি থিসারা পেরেরা আসছে। ওকে দেখে আরও মন ভালো হয়ে যায়। যে যে জায়গায় বলগুলো চেয়েছিলাম সেখানে সেখানে বলগুলো দিয়েছে। ডেথ ওভারে যেসব জায়গায় বল খুঁজি ও সেগুলোই করেছে। যে স্কোর হয়েছিলো ওটা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। সবাই খুব ভালো বোলিং করেছিলো।’


এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে বাংলাদেশের দেয়া ২৬১ রানের জবাবে টাইগার বোলারদের বোলিং শাসনে ১২৪ রানেই গুটিয়ে যায় লংকানদের ইনিংস। ফলে ১৩৭ রানের দুর্দান্ত জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ফর্মে থাকার পরও ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটের হারে সেবার শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি বাংলাদেশের।



আরো খবর

সম্পাদক এবং প্রকাশক: মোঃ কামাল হোসেন

বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে এক অপার আস্থার নাম ক্রিকফ্রেঞ্জি। সুদীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্রিকেট বিষয়ক সকল সংবাদ পরম দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রকাশ করে আসছে ক্রিকফ্রেঞ্জি। প্রথমে শুধুমাত্র সংবাদ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে ক্রিকফ্রেঞ্জি একটি পরিপূর্ণ অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

মেইল: cricfrenzy@gmail.com
ফোন: +880 1305-271894
ঠিকানা: ২য় তলা , হাউজ ১৮, রোড-২
মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি,
মোহাম্মাদপুর, ঢাকা
নিয়োগ ও বিজ্ঞপ্তি
বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ
নিয়ম ও শর্তাবলী
নীতিমালা
© ২০১৪-২০২৪ ক্রিকফ্রেঞ্জি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
footer ball