নাইট রাইডার্সের সেরা একাদশে সাকিব

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলেছেন অনেক নামি-দামি তারকা। অনেকেই লম্বা সময় খেলেও দলটিকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। আবার অনেকে কয়েক মৌসুম খেলেই শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও কেউ ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। আবার কেউ ভুলে যেতে চাইবেন সোনালী-বেগুনি জার্সির কথা।
সম্প্রতি কলকাতার প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার তাদের অনলাইন সংস্করণে নাইট রাইডার্সের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে। একাদশে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দলটির অধিনায়ক করা হয়েছে গৌতম গম্ভিরকে।
ওপেনিংয়ে রাখা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই বেঙ্গালুরুতে এই কিউই ওপেনারের বিধ্বংসী ১৫৮ রানের ইনিংস আইপিএল ইতিহাসেরই অংশ হয়ে আছে। ২০০৯ সালের আইপিএলে ম্যাককালাম নেতৃত্বও দিয়েছেন দলটিকে।
ওপেনিংয়ে ম্যাককালামের সঙ্গী গম্ভীর। দুইবার গম্ভীরের নেতৃত্বে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের মালিকানাধীন দলটি। কলকাতার হয়ে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান গম্ভীরেরই। ৩১.৬১ গড়ে তিনি করেছেন ৩০৬৫ রান। স্ট্রাইক রেট ১২৪.২৮। সাত আসরে দলটির জার্সি গায়ে খেলেছেন তিনি।

তিন নম্বরে রাখা হয়েছে রবিন উথাপ্পাকে। দলটির উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তাঁকে। নাইটদের হয়ে ৩০.৪৮ গড়ে ২৪৩৯ রান করেছেন উথাপ্পা। স্ট্রাইক রেট ১৩৬.২৫। ২০১৪ সালে কেকেআরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যে বড় অবদান ছিল এই সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটারের।
মিডল অর্ডারে দায়িত্ব সামলাতে রাখা হয়েছে মনিষ পান্ডেকে। তিনি ৩১.৭৫ গড়ে নাইট রাইডার্সের হয়ে করেছেন ১ হাজার ২৭০ রান। স্ট্রাইক রেট ১২৫.১২। দলটিতে চার মৌসুম খেলেছেন তিনি। ২০১৪ সালের আইপিএল ফাইনালে ম্যাচ-জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।
মিডল অর্ডারে অলরাউন্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে ব্যাটে-বলে সমান পারদর্শী ক্যারিবিয়ান তারকা আন্দ্রে রাসেলকে। আইপিএলে নাইটদের হয়ে ১ হাজার ৩৪২ রান করেছেন তিনি। গড় ৩৫.৩১। স্ট্রাইক রেট চোখ কপালে তোলার মতো ১৮৮.৭৪। বল হাতে শিকার করেছেন ৫৪ উইকেট।
ছয় নম্বরে ফিনিশার এবং বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে রাখা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। ব্যাটে-বলে কার্যকরী ভূমিকার কারণেই তাঁকে এই ভূমিকায় রাখা হয়েছে। সাত মৌসুম সাকিব খেলেছেন নাইট রাইডার্সে। দলটির হয়ে দুইবার শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন তিনি। দুই বারই দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তাঁর।
সাত নম্বরে রাখা হয়েছেন আরেক ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার সুনীল নারিনকে। প্রয়োজনের ওপেনিংয়ে নেমেও দলের জন্য অবদান রাখতে পারদর্শী তিনি। নাইট রাইডার্সের জার্সিতে ১২২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই পরিসংখ্যানই তাঁর বোলিং শক্তির প্রমাণ দেয়।
লেগ স্পিনার হিসেবে একাদশে জায়গা পেয়েছেন পীযুষ চাওলা। কলকাতার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। চাওলা ২৭.৮০ গড়ে তিনি নিয়েছেন ৬৬ উইকেট। পাশাপাশি, ব্যাট হাতেও চাপের মুখে দলকে জেতানোর ক্ষমতা রাখেন তিনি। ২০১৪ সালের আইপিএল ফাইনালে দারুণ এক ইনিংস খেলে কলকাতাকে জিতিয়েছিলেন তিনি।
নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও একাদশে রাখা হয়েছে চায়নাম্যান কুলদীপ যাদবকে। ২৯.৩৩ গড়ে তিনি দলটির হয়ে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট। গত বছর অবশ্য আইপিএলে ভাল বল করতে পারেননি। তবে যেকোনো কন্ডিশনে উইকেট নেয়ার ক্ষমতাই তাঁকে একাদশে জায়গা করে দিয়েছে।
নতুন বলে ইনিংস শুরুর জন্য বেছে নেয়া হয়েছে পেসার উমেশ যাদবকে। তিনি কলকাতার হয়ে চতুর্থ সর্বাধিক উইকেট শিকারী। ২৯.০২ গড়ে তাঁর ঝুলিতে আছে ৪৮ উইকেট। এই একাদশের বাইরেও মোহাম্মদ শামি, সূর্যকুমার যাদব এবং শোয়েব আখতারকে পারফরম্যান্স বিবেচনায় রিজার্ভ প্লেয়ার হিসেবে রাখা হয়েছে।