ভোজনরসিক তামিমের চিন্তা ফিটনেস নিয়ে

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। ভোজনরসিক হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে তাঁর। করোনার প্রভাবে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। লকডাউনের কারণে গৃহবন্দী রয়েছেন তিনি। সবসময় বাসায় থাকার কারণে ফিটনেস ধরে রাখাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
বাসায় থাকা স্বত্বেও নিজের ফিটনেস ঠিকই ধরে রেখেছেন তামিম ইকবাল। ওজনতো বাড়েই নি। উল্টো কমেছে ২ কেজি। সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ কে দেয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তামিম এ কথা জানান।
তামিম বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ। আমার ওজন বাড়েনি। হালকা একটু কমেছে। ২ কেজির মতো কমসে। কারণ আমি রেগুলার ট্রেনিংয়ের উপর আছি আর খাওয়া দাওয়াও মেইন্টেইন করছি। এই সময় যদি ওজন নাও কমে, মেইন্টেইন যদি করতে পারি তাহলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। কেননা বাসায় বসে থাকতে হচ্ছে এখন। আর কিছু না করে ওজন ঠিক রাখাটা দুষ্কর।'
বাসায় থাকলেও তামিম খাচ্ছেন না তাঁর পছন্দসই খাবারগুলো। ফিটনেস ধরে রাখার জন্য খেতে হচ্ছে পরিমাণ মতো। অনেক কিছু ত্যাগও করতে হচ্ছে টাইগার এই ওয়ানডে দলপতিকে। সেই সঙ্গে বাসায় টুকটাক ব্যায়ামও করছেন নিয়মিত।

তামিমের ভাষ্যমতে, 'আমার লাইফের সবচেয়ে বড় সেক্রিফাইস এইটাই (খাওয়া কন্ট্রোল করা)। ক্যারিয়ারের জন্য এই সময় একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। আর বাসায় একটা ট্রেডমিল আছে। কিছু না কিছু কাজ করা লাগেই।'
এখন প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে ভোজনরসিক তামিম ফিটনেস ঠিক রেখে খাবার দাবার পরিমাণ মতো বুঝে বুঝে খাচ্ছেন। জবাবটা দিলেন তামিম নিজেই। সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিলেন তাঁর সহধর্মিণীকে। তাঁর স্ত্রী ডায়েটে থাকায় তাঁর জন্য কাজটা বেশ সহজ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
তামিম বলেন, 'আমার স্ত্রী বেশ ভালো রান্না করে। ভালো রান্না করার পাশাপাশি ও খেয়াল রাখে আমি যেন বেশি না খাই। কাজটা বেশ কঠিন, কিন্তু সহজ হয়ে গেছে বিষয়টা কারণ আমার স্ত্রীও ডায়েটে আছে। আমার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেবার পর ও ওর ওজনটা কমানোর চেষ্টা করছে। সেই ডায়েটে থাকার কারণে আমার কাজটা একটু সহজ হয়েছে।'
'সাধারণত ডায়েট ফুড যদি টেবিলে থাকে আর অন্য আরেকজনের প্লেটে যদি দেখেন বিরিয়ানি-রোস্ট রাখা আছেন তখন এটা খুবই কষ্টকর। আমার টেবিলে দুইটাই ডায়েট ফুড থাকে। তাই ওই দিক দিয়ে আমি ঠিক আছি।'
তবে তামিম স্বীকার করেন রোজার ভেতর তাঁর খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এই বিষয়ে অতিসত্বর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বদ্ধপরিকর এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তিনি বলেন, 'রোজার আগ পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয়েছে বেশ ভালো। কিন্তু এই রোজা শুরু হওয়াতে একটু ১৯-২০ হয়ে গেছে। আমি পরিমাপ করতে পারছি না কোন সময় কি খাবো। কম খাবো না বেশি খাবো। মনে করেন ইফতার যদি একটু ভারী কিছু করি তাহলে আমি আর রাতে ডিনার করি না। একবারে সেহরি করে ঘুমায় যাই। আবার ইফতার হালকা করলে ডিনার হালকা করি। সেহরিতে মোটামুটি কিছু খেয়ে ঘুমায় যাই।'
'আমি বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের সাথে আজকে বা কালকে এটা নিয়ে আলাপ করবো যে এক্সাক্টলি কতটুকু খেলে আমি আমার ওয়েট ঠিক রাখতে পারবো। এই রমজান মাসে যেন ওজন না বেড়ে যায় সেটাই আমার লক্ষ্য।'