কৃতজ্ঞতা থেকেই মানুষের পাশে তামিম

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||
করোনায় বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন দেশের বিত্তবানেরা। পিছিয়ে নেই ক্রিকেটাররাও। যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসছেন অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে। সবার স??থে তাল মিলিয়ে করোনায় দুর্গতদের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবালও।
বৈশ্বিক এই দুর্যোগে শুরু থেকেই রয়েছেন ফ্রন্ট লাইনে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সাথে সমণ্বয় করে করোনা দুর্গতদের জন্য তহবিল গঠন করেছিলেন। সেই সঙ্গে সামিউল নামের উদীয়মান এক অসহায় অ্যাথলেটের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল তাকে।
সম্প্রতি সমাজকর্মী নাফিসা খানের ডাকে সাড়া দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) ঢাকা শহরের ৯টি এলাকায় তামিমের পক্ষ থেকে উপহার পৌঁছেছে ১৫০ ঊর্ধ্ব পরিবারের কাছে। যার মধ্যে ৮০ শতাংশ মধ্যবিত্ত এবং ২০ শতাংশ পরিবার ছিলেন দিনের খাবার দিনে যোগাড় করে এমন। একই সঙ্গে দেশের ৯১ জন অসহায় ক্রীড়াবিদের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের এই ওয়ানডে দলপতি।

এতো সব করেও তাঁর কৃতিত্ব নিতে নারাজ তামিম। বিষয়টিকে তিনি নিয়েছেন নিজের দায়িত্ব হিসেবে। সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ কে দেয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
তামিম বলেন, 'এটার জন্য আসলে কৃতিত্ব দাবি করার কিছু নেই। আমি মনে করি, আমার দায়িত্বই এটি। আজকে আমি যা হয়েছি বা যে অবস্থানে আছি, তা এই দেশের কারণেই। দেশের মানুষের কারণে। আমার জায়গা থেকে এখন একটু সহায়তা করতে পারলেও কিছুটা দায়িত্ব পালন করা হবে।'
সেই সঙ্গে তামিম দেশের জনগণের কাছে আহ্বান জানান তাঁরা যেন সংকটময় এই পরিস্থিতিতে দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না ছড়ান। সবাইকে ইতিবাচক থাকতে অনুরোধ করেন জাতীয় দলের এই ওপেনার।
তামিম এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা যতটা নেতিবাচকতা ছড়াই নিজেদের ব্যাপারে, এরকম কিছু পৃথিবীতে খুব কম মানুষই ছড়ায়। কিন্তু যখন থেকে আমরা দেশকে ভালোবাসতে শুরু করব… মুখের ভালোবাসা নয়, মন থেকে ভালোবাসা… বাংলাদেশকে নিয়ে যখন কেউ খারাপ কথা বলবে, আপনি লড়াই করবেন সেটা নিয়ে। দেশের হাজার খারাপ জিনিস থাকতে পারে, কিন্তু নিজের দেশ নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে।'
'আমাদের দেশে যে ভালো জিনিসগুলো আছে, সেসব কেন পৃথিবীর কাছে তুলে ধরব না? আমরা যেভাবে নিজেদের খাবার ভাগাভাগি করি, নিজেদের জমানো টাকায় অপরের উপকার করি, বাংলাদেশে যে লেভেলে এসব হয়, অন্য খুব বেশি দেশে দেখতে পারবেন না। খারাপ-ভালো পৃথিবীর সব দেশেই আছে। এই মুহূর্তে ভালো জিনিসগুলোই তুলে ধরা জরুরি। আমি-আপনি তো নিজের খারাপ জিনিস ফেইসবুকে লিখি না, দেশেরটা কেন লিখব?'