মাশরাফির মতো অধিনায়ক পৃথিবীর অন্য কোথাও নেইঃ তামিম

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

।। ডেস্ক রিপোর্ট ।।
একটা সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রায় হারিয়ে যেতে বিসেছিল। টানা হারে জর্জরিত ছিল দেশটির ক্রিকেট দল। সেই সময় দলের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে দেয়া হয় মাশরাফি বিন মুর্তজার। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাবার কাহিনীর শুরু এখান থেকেই। খাদের কিনারায় থাকা দলকে টেনে নিয়ে দাড় করিয়েছেন বিশ্বমঞ্চে সম্মানজনক জায়গায়। দলকে পরিণত করেছিলেন এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে।
গেল জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের মধ্য দিয়েই এই ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসি এপিটাফ টেনেছেন তাঁর অধিনায়কত্বের ক্যারিয়ারে। পদ ছাড়লেও তাঁর সতীর্থরা বারবার করছেন তাঁর অধিনায়কত্বের গুণকীর্তন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবালের মতে মাশরাফি একজনই। অধিনায়ক হিসেবে যেমনটা হওয়া উচিৎ, ম্যাশ ঠিক তেমনই। তামিমের মতে, 'ও যেভাবে দলের সব খেলোয়াড়ের সাথে যেভাবে আচরণ করে সেটা খুব একটা দেখা যায় না পেশাদার দলে। আমরা পৃথিবীর অন্য কোথাও খুজলে এমনটা পাব না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দলের অধিনায়ক হিসেবে আমরা এমন একজনকে সবসময়ই চাই যে কিনা সতীর্থের খারাপ সময়ও তাঁর দেখাশোনা করবে। মাশরাফি তেমনই একজন অধিনায়ক।'
সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম এ কথা বলেন।
মাশরাফির অধিনায়কত্বের গুণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই ওপেনার জানান, 'আমি মনে করি তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হল সে সবসময় বলে, আমরা জিততে পারি, আমরা সবসময় জিততে পারি। যখন সে বলেছিল ২০১৫ সালে আমরা ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে দিতে সমর্থ, সেটা সেই সময় অসম্ভব লেগেছিল। তারা তখন র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে ছিল। কিন্তু তাঁর কথা পুরো দলের ভেতর সুনিশ্চিতভাবে ছড়িয়ে যায়। ধীরে ধীরে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি যে আমরা জিততে পারবো।'
দলে তাঁর উপস্থিতি পুরো দলকে আলাদা একটা শক্তি এনে দেয় বলে মনে করেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, 'আমি মুর্তজা ভাইয়ের সাথে অনেক ম্যাচ খেলেছি। ২০১৮ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনি দলের জন্য বিশেষ কিছু হয়ে উঠেছিলেন। টেস্ট সিরিজে আমাদের বেশ অবনমন হয়েছিল। আমরা কল্পনা করছিলাম মুর্তজা ওয়ানডে দলে এসে পুরো দলের মনোভাবই পাল্টে দিবে। তাঁকে দেখলে দলের ভেতর কি যেন হয়ে যায়।'
২০১০ সালে অধিনায়কত্বের গুরুভার প্রথমবারের মতো পেয়েছিলেন ম্যাশ। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরি তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল তাঁর দায়িত্ব থেকে। এরপর ২০১৪ সালে আবার অধিনায়ক রূপে আবির্ভূত হন নড়াইল এক্সপ্রেস। সেখান থেকেই বাংলাদেশ দলের দিন বদলের সূচনা হয়। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৮৮ ম্যাচে। এর ভেতর লাল সবুজের প্রতিনিধিরা জয়ের দেখা পায় ৫০টি ম্যাচে। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সফলতম অধিনায়কের তকমাটি নিজের করে নিয়ে অধিনায়কত্বকে বিদায় জানান দিন বদলের এই রূপকার।