promotional_ad

এক কিংবদন্তির সাফল্য গাঁথা 

ছবিঃ সংগৃহীত
promotional_ad

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||


বিদায়ের করুণ সুর বেজে উঠলো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটি দিয়ে গোধূলি লগ্নে চলে এল বাংলাদেশের ক্রিকেটের গৌরবময় এক অধ্যায়। কেননা এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই বিদায় নিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের দিন বদলের কান্ডারি মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে এই বিদায় ক্রিকেট থেকে নয়। এই বিদায় জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশের অধিনায়ক হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামেন মাশরাফি। 


বাংলাদেশের ক্রিকেটের দিন বদলের রূপকার হিসেবে মাশরাফিকে অভিহিত করাটা অমূলক নয় মোটেই। একটা সময় যখন বাংলাদেশের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল বড় দলগুলোর বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হওয়া, এমন সময়েই দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি। 


২০১০ সালে ওয়ানডেতে পথ হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের দায়িত্বভার তুলে নেন নিজের কাঁধে। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরি তাকে থাকতে দেয়নি বেশিদিন দলের অধিনায়কের পদে। যদিও ২০১৪ সালে আবারো অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বর্তায় তাঁর ওপর। 


মাশরাফি দায়িত্ব নেয়ার পর এর ফলাফলও চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করে ক্রিকেটবিশ্ব। দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ তে হারিয়ে প্রথম কোনো বড় সাফল্য পায় মাশরাফি এন্ড কোং। সেই থেকে শুরু। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।


বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। পথ হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সম্মানজনক জায়গা করে দিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চে।


বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চার, তিনটি এশিয়া কাপের ফাইনাল, একটি ত্রিদেশীয় ট্রফির শিরোপা সবই এসেছে দিন বদলের এই কারিগরের হাত ধরে। সেই সাথে নতুন করে রচনা করেছেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাস।



promotional_ad

দলে তার উপস্থিতি মানে প্রাণের সঞ্চার। ম্যাশ যেন ভয়ডরহীন নির্ভীক এক সেনা, যিনি সামনে থেকে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন দলকে। যা কিনা একজন যোগ্য নেতার পরিচয় বহন করে।


ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় ইনজুরির সাথে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। একের পর এক ইনজুরি আঘাত হেনেছে পায়ে। শুধু তাই নয়, ছুরি কাচির নিচেও যেতে হয়েছে তাঁকে বহুবার। কিন্তু মাশরাফিকে দমাতে পারেনি কিছুই। প্রবল প্রতাপ এবং বিক্রমে বারবার ফিরে এসেছেন তিনি। আঘাত হেনেছেন প্রতিপক্ষের স্টাম্পে। ভয়ের সঞ্চার করেছেন প্রতিপক্ষ শিবিরে। 


বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর কৃতিত্ব কিংবা অবদান কখনো বলে শেষ করা যাবে না। ভাঙ্গা পা নিয়ে দিন বদলের এই কাপ্তান খেলে যাচ্ছেন যুগের পর যুগ, মুখ ফুটে কখনো প্রকাশ করেননি ভাঙ্গা পায়ের যন্ত্রণা, কখনো বের হয়নি ক্রিকেটের প্রতি কোনো অনীহা। এত কিছু নিয়েও এনে দিয়েছেন অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহুর্ত, দেশকে পৌছে দিয়েছেন অসংখ্য জয়ের বন্দরে, সতীর্থদের মুখে এনে দিয়েছেন হাসির আভা।


অভিষেকটা তাঁর হয়েছিল ২০০১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে জিতলেও প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের হাঁটুতে কাপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। 


ক্যারিবীয় ওপেনার গ্রান্ট ফ্লাওয়ারকে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে পাঠিয়ে নিজের উইকেটের খাতা খুলেছিলেন তিনি। ৩.১২ ইকোনমি রেটে অভিষেক ম্যাচেই ৩ মেইডেনের সাথে ২টি উইকেট পুরেছিলেন নিজের ঝুলিতে।


এরপর একে একে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ২১৯টি ওয়ানডে। উইকেট নিয়েছেন ২৬৯টি। যেখানে সেরা বোলিং ফিগার তাঁর ৬/২৬। ২০১০ সালে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ জিততে না পারলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা ঠিকই বাগিয়ে নেন বাংলাদেশের এই দলপতি।


২০১১ সালে দেশের মাটিতে হয় তার অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর বসেছিল বাংলাদেশে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ সেবার বিদায় নিলেও ২ উইকেটে মাশরাফিবাহিনী হারায় ইংল্যান্ডকে। একই সাথে জয় পায় নেদারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও।



২০১৫ বিশ্বকাপে আবার সেই ইংল্যান্ডকে হারিয়েই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো পৌছে যায় বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে। দলকে তখন নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ম্যাশ। ভারতের কাছে হেরে দ্বিতীয় পর্বেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ।


দিন বদলের ধারা অব্যাহত রেখে একে একে মাশরাফিবাহিনী বধ শুরু করে ক্রিকেটের পরাশক্তি দেশগুলোকে। যার প্রথম শিকার হতে হয় নিউজিল্যান্ডকে। এরপর একে একে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মত ক্রিকেট পরাশক্তি হার মানে মাশরাফির দলের কাছে। বিশ্ব ক্রিকেট র‍্যাঙ্কিংয়ে ওয়ানডেতে সেরা ১০এ ঢুকে পরে বাংলাদেশ।


কিন্তু গেল বিশ্বকাপে ফর্মহীন হয়ে পড়ায় জোরেশোরে গুঞ্জন উঠে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দিন বদলের এই কারিগরের অবসর নিয়ে। এতো এতো ক্রিকেটের জন্য যার অবদান, সব কিছুই যেন উবে গেল কয়েকটি ম্যাচে উইকেট না পাবার কারণে। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসতে থাকে।


সব কিছু সহ্য করে দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন এই কান্ডারি অধিনায়ক। কিন্তু এবারো নেতার পরিচয় দিলেন তিনি। দায় নিলেন নিজের ঘাড়ে। অধিনায়কত্ব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত পুরোটাই নিজের ব্যক্তিগত বলে রেহাই দিলেন সবাইকে।


শুরুটা জয় দিয়ে রাঙাতে না পাড়লেও শেষটা রাঙিয়েছেন ঠিকই। দিন বদলের এই নায়ক জয় দিয়েই রাঙিয়েছেন নিজের শেষটা। আর এই জয় আর মধুর হয়ে থাকবে কেননা কাপ্তান হিসেবে এটি তার ৫০তম জয় যে। ৮৮ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে অধিনায়কত্বের শেষ দিনেও দুর্দান্ত এক জয় দলকে এনে দিয়ে শেষটা স্মরণীয় করে রাখলেন মাশরাফি। 


মাশরাফি থাকবেন সবসময়। তিনি থাকবেন অ্যাডিলেড ওভালের পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে; মাথায় লাল সবুজের পতাকা বেঁধে। মাশরাফি থাকবেন দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ড্রেসিং রুম বুক চাপড়ে লিটনকে ইনিংস লম্বা করার সাহস জোগাতে। মাশরাফি থাকবেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ড বধের মূহুর্তে কার্ডিফের ব্যালকনিতে। মাশরাফি আপনি থাকছেন।  



আরো খবর

সম্পাদক এবং প্রকাশক: মোঃ কামাল হোসেন

বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে এক অপার আস্থার নাম ক্রিকফ্রেঞ্জি। সুদীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্রিকেট বিষয়ক সকল সংবাদ পরম দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রকাশ করে আসছে ক্রিকফ্রেঞ্জি। প্রথমে শুধুমাত্র সংবাদ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে ক্রিকফ্রেঞ্জি একটি পরিপূর্ণ অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

মেইল: cricfrenzy@gmail.com
ফোন: +880 1305-271894
ঠিকানা: ২য় তলা , হাউজ ১৮, রোড-২
মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি,
মোহাম্মাদপুর, ঢাকা
নিয়োগ ও বিজ্ঞপ্তি
বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ
নিয়ম ও শর্তাবলী
নীতিমালা
© ২০১৪-২০২৪ ক্রিকফ্রেঞ্জি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
footer ball