বোলার মিরাজের মনোযোগ 'ব্যাটিংয়ে'

ছবি: ছবিঃ সংগৃহীত

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডারে সাত-আট নম্বরের সমাধাণ হতে পারেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করার পর এবার নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিণত করে তুলতেই কাজ শুরু করেছেন তিনি। দলের প্রত্যাশা অনুযায়ী লোয়ার অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করার লক্ষ্য নিয়েই নিজের ব্যাটিং আরও ঝালাই করে নিচ্ছেন এই তরুণ। তাই তো স্পিনার মিরাজের মনোযোগ এখন ব্যাটিংয়ের দিকেই বেশী।
যুব বিশ্বকাপে মিডেল অর্ডারে ব্যাট করলেও জাতীয় দলে ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়ার খুব বেশী সুযোগ পান না মিরাজ। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডের কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের ফিল্ডিং প্ল্যান অনুযায়ী ব্যাটিং অনুশীলন চালাচ্ছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে আয়ারল্যান্ড সিরিজ এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন মিরাজ। নিউজিল্যান্ড সফরে নিজের ব্যাটিংয়ে সেকল জায়গায় নিজের ঘাটতি খুঁজে পেয়েছেন সেগুলই এখন পূরণ করার করার জন্য কাজ করছেন তিনি। মিরাজের ভাষায়,
'আমি বিশ্বাস করি আমাদের দলটা অনেক ভালো এবং বিপদের সময় ২০-৩০টা রান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা নিয়েই কাজ করছি, অনেক বড় ইনিংস খেলার সুযোগ আমি পাবো না। আমার কাছ থেকে দল আশা করে ২০-৩০-৪০ এমন রান যদি স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পারি বা শেষের দিকে একটা জুটি গড়তে পারি তাহলে দলের জন্য অনেক সাহায্য হবে। এটা নিয়েই কাজ করছি শেষের ২০-৩০টা রান কিভাবে করতে হবে।

'কারণ সে সময় অনেক ভালো বোলাররা বোলিং করেন, ভিন্ন ভিন্ন ফিল্ডিং সেট আপ থাকে। এইগুলাই এখানে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই পরিস্থিতি গুলা যেন ওইখানে সামাল দিতে পারি। নিউজিল্যান্ডে যখন খেলেছি তখন দেখেছি। ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন অনেকটাই একই। তাই আমাকে কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে সেটা নিউজিল্যান্ড থেকেই অনেক কিছু ধরতে পেরেছি। দেশে এগুলো কাজে লাগাতে চাই এখন।'
ইংল্যান্ডের মাটিতে এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মিরাজের। ১ ম্যাচ খেললেও সেখানকার উইকেট কেমন হবে সেটার সম্পর্কে ধারণা আছে তাঁর। তাঁর মূল লক্ষ্য দলের পেসারদের সাহায্য করা এবং স্পিনার হিসেবে ইকোনমিক বোলিং করা।
'ইংল্যান্ডে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছি, যেখানে দলের সঙ্গে আমিও ছিলাম। যদিও একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল। উইকেট খুব কাছ থেকেই দেখেছি, অনেক ভালো উইকেট থাকে। আমি যদি চেষ্টা করি ভালো জায়গায় বোলিং করার তাহলে ব্যাটসম্যান অনেক সময় ভুল করে বসতে পারেন।
'ওইখানে তেমন স্পিন থাকবেনা, সুন্দর ভাবে বল ব্যাটে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে হবে সেটা নিয়েই এখন থেকে কাজ করবো। কিভাবে পরিপলনা সেখানে বাস্তবায়ন করা যায়। আশা করি সবাই মিলে একসাথে করলে ভালো কিছুই হবে।'
আয়ারল্যান্ড সিরিজ শুরু হতে বেশী সময় নেই। তাই নিজেদেরকে দ্রুত প্রস্তুতি করে তোলার সময় এখনি বলে মনে করছেন মিরাজ। ডিপিএল চলাকালীন সময় যেটুকু সময় পাচ্ছেন সে সময়টুকুর মধ্যেই নিজেকে বিশ্বকাপ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
'সামনে আমাদের আয়ারল্যান্ড সিরিজ আছে এরপর আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাবো। আমার কাছে মনে হয় আমরা প্রিমিয়ার লীগ চলাকালীন যে ১ মাস সময় পাবো এই সময়ের মধ্যেই নিজেদেরকে গুছিয়ে নিতে হবে কারণ আমাদের হাতে ওইরকম সময় নেই। ওইরকম সময় পাবোও না, প্রিমিয়ার লীগের ফাকে ফাকে জতটুক প্রতুতি নেয়া সম্ভব ততটুকই নিব।
'আর অবশ্যই আমাদের স্পিনারদের যে দায়িত্ব সেটা হলো পেসারদের সহযোগিতা (সাপোর্ট) করা। কারণ উপমহাদেশে খেলা হলে স্পিনারদের ভূমিকাটা (রোল) বেশী থাকতো। কিন্তু ইংল্যান্ডে পেসারদের সাপোর্ট করতে হবে। এই কাজটা মিনিমাইজ করতে পারলে আমাদের টিম আরও ভালো করবে।'