মোহামেডানের জয়রথ থামাল রূপগঞ্জ

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
মোহামেডানঃ ২২৯৫/৭, ওভারঃ ৫০
(আব্দুল মজিদ ১০৭, নাদিফ চৌধুরী ৬৪ ; মোহাম্মদ শহিদ ৩/৩২, রিশি ধাওয়ান ১/৪৮)
শেষ ওভারের খেলায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে অসাধারণ এক জয় তুলে নিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। চার উইকেটের দুর্দান্ত এই জয়ে মোহামেডানের জয়রথ থামাল রূপগঞ্জ। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত চিলেন রূপগঞ্জের অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ৯২ বলে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের মুখ দেখিয়েছেন নাঈম। দলের জয়ে তাঁর ইনিংসটি রেখেছিল সবচেয়ে বড় ভুমিকা। একই সাথে বিদেশি ক্রিকেটার ঋষি ধাওয়ানের অবদানও ছিল চোখে পড়ার মত।

২৯৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে রান আউট হয়ে মাত্র তিন রান করতেই ফিরে যান আজমির আহমেদ। দলীয় ৮ রানেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে রূপগঞ্জ। দলকে চাপমুক্ত করতে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আক্রমণ শুরু করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। তবে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি তিনি, উইকেটরক্ষকের ছুঁড়ে মারা বলে রানআউট হয়ে ২৪ বলে ৩৩ রান করতেই ফিরে যান নাইম।
এরপর মমিনুল হক এবং শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটে ভালো রান তুলে রূপগঞ্জ। ৭৭ রানের জুটি গড়েন দুইজনে। তাঁদের জুটিতে স্বস্তিতে ছিল রূপগঞ্জ। কিন্তু সেই সময় বল হাতে রূপগঞ্জ শিবিরে আঘাত হানেন পেসার শফিউল। ৫৪ বলে ৫৫ রান করা মমিনুলকে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। নিজের পরের ওভারে এসে নিজেই দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে ২৫ রান করা নাফিসকে ফেরান তিনি। কিছুটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে মোহামেডান।
এরপর ঋষি ধাওয়ান এবং অধিনায়ক নাঈম ইসলাম গড়েন ৯৯ রানের জুটি। এই জুটিই রুপগঞ্জকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিল। ধাওয়ান ৫১ করে আউট হলেও নাঈম ছিলেন ৪৯তম ওভার পর্যন্ত। দলকে জয়ের কাছে এনে সাজঘরে ফিরেছিলেন তিনি। সেসের দিকে এসে ২৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়ে নিয়ে মাঠ ছাড়েন জাকের আলী।
মোহামেডানের হয়ে বলে হাতে দুটি উইকেট নিয়েছেন শফিউল, একটি উইকেট নিয়েছেন আলাউদ্দিন বাবু।
মিরপুরে টসে হেরে আব্দুল মজিদ এবং নাদিফ চৌধুরীর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৯৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ব্যাট হাতে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক তুলে নিয়েছেন মজিদ এবং নাদিফ তুলে নিয়েছিলেন ১২তম অর্ধশতক। শেষের দিকে এসে ছোট ক্যামিও চালান মোহামেডানের শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার চতুরাঙ্গা ডি সিলভা।
ইনিংসের শুরুতে যদিও চাপে ছিল মোহামেডান। ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছিল তারা। ওপেনার অভিষেক মিত্র আউট হয়েছেন মাত্র ছয় রান করে। এরপর তুষার ইমরানের সাথে ২৯ রানের ছোট জুটি করেন মজিদ। কিন্তু ১৯ রান তুলেতেই ফিরে যান তুষার ইমরান। এরপর মিডেল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাও তেমন সঙ্গ দিতে পারেননি মজিদকে। রাকিবুল হাসান ২৯ এবং ইরফান শুক্কুর ২৫ রান করে ফিরেছিলেন। পঞ্চম উইকেটে নাদিফ চৌধুরীর সাথে ৮৩ রানের জুটি গড়েন আব্দুল মজিদ।
৯০ বলে অর্ধশতকের ঘরে পৌঁছেছিলেন মজিদ। এরপর বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তিনি। ২৯ বলে ৫০ রান তুলে নিয়ে শতক তুলে নেন তিনি। পাঁচটি চার এবং তিনটি ছয়ে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। ৪৪তম ওভারে মোহাম্মদ শহিদের বলে ফাইন লেগে নাবিল সামাদের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ১২৬ বলে ১০৭ রা করে ফেরেন তিনি। এক প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকেন নাদিফ চৌধুরী। ৪১ বলে তিন চার এবং চার ছয়ে তুলে নেন অর্ধশতক। ৪৭ বলে ৬৪ রানের রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। শেষের দিকে এসে তিন ছয়ে ৯ বলে ২৩ রান সংগ্রহ করেন ডি সিলভা।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে তিনটি উইকেট নেন মোহাম্মদ শহিদ। একটি করে উইকেট নেন রিশি ধাওয়ান এবং মুক্তার আলী।