পাশ করেছেন সাদমান

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
১৯৯ বল ও ৩৮ স্ট্রাইক রেটে ৭৬ রান, সময়ের হিসেবে ২১৯ মিনিট ক্রিজে ছিলেন অভিষিক্ত ওপেনার সাদমান ইসলাম। শুরুতে সময় নিয়েছেন, সোজা ব্যাটে খেলছেন, রান নিয়েছেন বাজে বলে। দিন শেষে অভিষেক ম্যাচে খেলা প্রথম ইনিংসে দেখিয়েছেন অনেক আশা।
অভিষেক টেস্টে দেখিয়েছেন পরিণত মনোভাব। টেস্ট ক্রিকেটের জন্যই তৈরি করা সাদমান খেলেছেন সত্যিকারের টেস্ট ওপেনারের মত। বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেস্ট মেজাজের সাথে মানানসই ব্যাটসম্যানের খোঁজ যে বহুদিনের। সাদমানে বাংলাদেশের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বললে ভুল হবে না।
গত চার বছর ধরে হাই পারফর্মেন্সের প্রতিটি প্রোগ্রাম থাকা সাদমানকে গড়া হয়েছে অভিজাত ক্রিকেটের জন্যই। ২৪ বছর বয়সী সাদমান ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে সঠিক প্রক্রিয়ায় টেস্ট ক্যাপ পাওয়া গুটিকয়েক ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪২ ম্যাচ খেলে প্রায় ৪৭ গড়ে রান তুলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বল। শেষ ১০ ইনিংসে ৬৪ গড়ে রান করেছেন সাতশ'র কাছাকাছি। তবে বড় মঞ্চের পরীক্ষায় পাশ করা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু সাদমান পাশ করেছেন খুব ভালোভাবেই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসেই নিজের নামের পাশে 'পরিণত' শব্দটি আদায় করে নিয়েছেন তিনি। টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার পর সাদমান বলেছিলেন, 'আমি তো প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলছি অনেক দিন থেকেই, প্রায় চার পাঁচ বছর হয়ে গিয়েছে। আমি যেমন পারফর্মেন্স করে আসছি হয়তো তা ঠিক আছে। একজন ব্যাটসম্যান যখন জাতীয় দলে খেলতে যায় তখন একটু পরিপক্ব হয়ে যাওয়াই ভালো। আমার মনে হয় আমি যেমন খেলেছি হয়ত আমি একটু পরিপক্ক হয়েছি। পরিণত হয়ে আসাটা আসলে অনেক জরুরী।'
২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করা সাদমান প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পরীক্ষায় লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করা ব্যাটসম্যান। ঘরোয়া ক্রিকেটের ইনিংস গড়ার প্রক্রিয়া মেনেই টেস্ট অভিষেকে সফল হয়েছেন তিনি।
প্রথম দিন শেষে সাংবাদিকদের নিজের অভিষেক ইনিংস সম্পর্কে সাদমান বলছেন, 'আমি যেরকম ব্যাটিং করি আমি চিন্তা করেছি যে, বল আসবে...আমি যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলি ঠিক সেভাবে এখানে খেলতে। আর কিছু আমি চিন্তা করিনি।'
উইন্ডিজ বোলারদের অবশ্য এর আগেও ভুগিয়েছেন তিনি। টেস্ট অভিষেকের আগে চট্??গ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলেছেন ম্যারাথন ইনিংস। ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ১৬৯ বল সামলে। কিমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, রস্টন চেইজ ও দেবেন্দ্র বিশুদের বিপক্ষে উইকেটে টিকে ছিলেন তিনি।
চট্রগ্রামে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে সাদমানের। তাঁর বক্তব্য, 'প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে। আমার ওদের বোলার সম্পর্কে জানা ছিল। আমি যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম শেষ ম্যাচে (প্রস্তুতি ম্যাচে), ওই পরিকল্পনা এখানে কাজে লেগেছে।'