স্পিন আক্রমণের খুঁত ধরিয়ে দিলেন সাকিব

ছবি: ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
চার স্পিনারে সাজানো বাংলাদেশ দলের স্পিন আক্রমণের নেতা হয়েও চট্রগ্রাম টেস্টে জয়ের পর প্রশংসার বদলে খুঁত ধরিয়ে দিলেন সাকিব আল হাসান। অতি আক্রমণ নয়, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝে মাঝে রান আটকে রাখার দায়িত্বও পালন করতে হয় বোলারদের, বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছেন টাইগার কাপ্তান।
তরুন নাঈম হাসান থেকে শুরু করে মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম, সবাই উইকেটের সাহায্য পেলে রীতিমত ভয়ঙ্কর বোলারে পরিনত হন। উইকেটের সুবিধা আদায় করে নিতে প্রক্রিয়া ভুলে অতি আক্রমণের পথ বেঁছে নিতে দেখা যায় স্পিনারদের।
যার মূল্য দিতে হয় রান খরচা করার মাধ্যমে। পার্টনারশিপে বল করে যাওয়ার প্রবণতা নেই টাইগার স্পিন আক্রমণে। সাকিবের ভাষায়, 'আমরা যারা আছি স্পিনাররা, সবাই খুব আক্রমণাত্মক বোলার। আমাদের জন্য রান আটকে বল করাটাও অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। আমরা সবসময় আক্রমণের পথটাই করে যাই। আমাদের বুঝতে হবে, জানতে হবে কখন দুই- তিনটা ওভার রান না দিয়ে বল করে যাবো, একটা প্রান্তে যেন আরেকজন আক্রমণ করতে পারে। এই জিনিস গুলো জানাটাই আমাদের জন্য একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য খুবই ভালো যে এমন চারটা স্পিনার আছে, যারা যে কোন সময়ে এসে উইকেট নিয়ে পারে।'

বিস্তারিত ব্যাখ্যা সাকিব বলেছেন, 'আমাদের একটা জিনিসে উন্নতি করা উচিত। আমাদের গেইম সেন্সটা থাকা উচিত। কোন অবস্থায় কি করতে হবে সেটা বুঝতে হবে। হয়তো হতে পারে একজন খুব আক্রমণাত্মক বোলার। ওইদিন হয়তো তাঁর উইকেট নাও আসতে পারে। হয়তো অন্য প্রান্ত থেকে আরেকজন উইকেট পাচ্ছে। সুতরাং অপর প্রান্তে যে রান না দিয়ে বল করে যাবে, দলের জন্য করা, বোলিং পার্টনারের জন্য করা, এই মানসিকতাটা যদি আমরা একটু ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমি মনে করি স্পিনাররা আরও ভালো বল করতে পারবে।'
'আমাদের চারজন প্রথম সারির স্পিনার থাকলেও আমাদের ব্যাটসম্যান কম হচ্ছে না। এটা একটা বড় প্লাস পয়েন্ট। চারজনই আমাদের খুবই আক্রমণাত্মক বোলার। একদিক থেকে খুব ভালো আবার একটু সমস্যাও। সবসময় আক্রমণই করতে থাকে, এই পাশ থেকে একটু ভালো বল হচ্ছে, আরেক দিক থেকে একটু ডিফেন্সিভ বল করবে, ওরা আর করতে পারে না। সেও উইকেট নিতে যায়। অনেক সময় রানটা হয়ে যায়। এটা বোঝাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। '
আবার উইকেটের সাহায্য পেলে বাংলাদেশি স্পিনাররা ভালো বোলার বনে যায়, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন।স্পিন সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশি স্পিনাররা বিষাক্ত হয়ে ওঠে, এর প্রমান পেয়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নতুন করে উইন্ডিজ দল।
চট্রগ্রাম টেস্ট আড়াই দিনেই হার বাংলাদেশ দলের স্পিন আক্রমণের শক্তির প্রমান রাখে। চট্রগ্রাম টেস্টে ২০৪ রানে লক্ষ্যে খেলতে নামা উইন্ডিজ দলকে অল আউট করে ৬৪ রানের জয় তুলে নিতে মাত্র ৩৫.২ ওভার খরচা করেছে বাংলাদেশ। সাকিবের মন্তব্য,
'আমাদের যেই কয়জন স্পিনার আছে, সবাই খুবই কোয়ালিটি সম্পন্ন স্পিনার, বিশেষ করে যদি উইকেটে একটু সাহায্য থাকে। উইকেটে একদম সাহায্য না থাকলে আমাদের বল তেমন কার্যকরী মনে হবে না। একটু যদি উইকেটে সাহায্য পাই, তাহলে আমরা অনেক ভালো বোলার।'