ঘরের মাঠের সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নেই মাশরাফির

ছবি: মাশরাফি বিন মর্তুজা

|| ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট ||
ঘরের মাঠে ক্রিকেট মৌসুম শুরুর আগে প্রতিবারই মিরপুরের উইকেট নিয়ে নানান বিতর্ক জন্ম নেয়। একই ম্যাচ জুড়ে মিরপুরের উইকেটের বৈচিত্র্যময় আচরণ খবরের শিরোনাম কাড়তে বাধ্য। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে আচমকা উইকেটের চরিত্র বদলে যাওয়ায় বেশ কয়েকবার ম্যাচ হারতেও হয়েছে বাংলাদেশকে।
চাহিদা অনুযায়ী উইকেট না পাওয়ার ঘটনাও খুব পেছনের কথা না। চলতি বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে প্রত্তাসিত উইকেট পায় নি বাংলাদেশ দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ফাইনালে বাংলাদেশের হারের পেছনে মিরপুরের চিফ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার দিকে আঙ্গুল তুলেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। নয় মাসের আগে সর্বশেষ হোম সিরিজের স্মৃতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও স্পষ্ট।

তবে এবার বাংলাদেশ দল মানসিক ভাবে প্রস্তুতি, মিরপুরের উইকেট অদ্ভুত আচরণ করবে, এমন মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। অন্য সব দেশের মত, ঘরের মাঠে নিজেদের চাহিদা মত উইকেট পাবে, এমন আশাও করছে না মাশরাফির বাংলাদেশ।
'মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা খুবই কঠিন, আমরা সবাই জানি। মিরপুরের উইকেট ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ শুরু করে। আগে থেকে বলা খুবই কঠিন হবে। তবে প্রত্যাশা তো অবশ্যই করছি, সাধারণত ২৫০-৬০ রান হলে ম্যাচ ভাল হয়, আগে ব্যাট করা দলের জেতার সুযোগ বেশি থাকে। শুরুতেই যে স্লো বা টার্ন হবে, এমন আশা অবশ্যই করছি না। ভাল উইকেটে খেলতে চেয়েছি, এখন ভাল উইকেট হলেই হয়। কিন্তু মিরপুরের উইকেট তো, আগে থেকে অনুমান করা একটু কঠিন,' মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
উইকেট বিতর্কে গা ভাসিয়ে নয়, বরং উইকেটের 'আনপ্রেডিক্টেবল' আচরণকে নিজের শক্তি হিসেবে দেখতে চান মাশরাফি। এমন উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করায় কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।
'আমি আমাদের প্লেয়ারদের ধন্যবাদ দিব। আমরা নিজেরাও জানি এখানকার উইকেট আনপ্রেডিক্টেবল। আমরা নিজেরাও বিশ্বাস করি। আমরা আপনারাও দেখেন, ম্যাচে হঠাৎ করে টার্ন, বা বল নিচু হয়ে আসা শুরু করে। তখন যারা ব্যাট করছে তাদের মানসিকতা বদলে ফেলতে হয়, যারা বাইরে আছে তাদেরও। এইসব ক্ষেত্রে আমরা আনপ্রেডিক্টেবল বলি। আমরা এটার সাথে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। আমাদের সিনিয়র প্লেয়াররা প্রায় ১০-১২ বছর এই উইকেটে খেলছে।
'এটা আমাদের জন্য এক ক্ষেত্রে সুবিধাও বটে। অনেক সময় উইকেটের চরিত্র যখন বদলে যেতে থাকে, তখন প্রতিপক্ষের জন্য একটু কঠিনও হয়। ২০১৫ সাল থেকে এই মাঠে আমাদের রেকর্ড অনেক ভাল। আমরা মানসিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছু ম্যাচ হেরেছি। এমন কিছু ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত এই উইকেটে আমাদের মানিয়ে নেয়ার ব্যাপারটা খুব একটা খারাপ না। চিটাগংয়ে সাধারণত ব্যাটিং উইকেট হয়। স্পিন উইকেট বানালে স্পিন করে না হলে হয় না। মিরপুর এমন না। কিন্তু আমাদের ছেলেরা এখানে এতদিন খেলার পর উইকেট নিয়ে অজুহাত না দেয়াই উচিত।'