সৌম্য বীরত্বে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ছবি:

আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। টি২০ সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আয়ারল্যান্ড উলভসকে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এ দল। তারা আইরিশদের ৪ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে।
এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। দলের জয়ে ব্যাট হাতে দারুণ অবদান রেখেছেন অধিনায়ক সৌম্য সরকার। হাঁকিয়েছেন দারুণ এক অর্ধশতক। এর আগে দারুণ বোলিং করে আইরিশদের মাত্র ১৫১ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
এই মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরেন বাংলাদেশের ওপেনার জাকির হাসান। তিনি ম্যাক ব্রেইনের বলে বোল্ড হয়ে আউট হয়েছে। দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার সৌম্য সরকারের সাথে যোগ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুজনে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন।
এই দুজনের ব্যাটেই ৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ পঞ্চাশ ছাড়ায়। দলীয় অর্ধশতকের পর শান্ত ৩৮ রান করে পিটার চেজের বলে টাকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন। এরপর সৌম্য সরকারের সাথে যোগ দেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মিথুন।
তাকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৩২ বলে দারুণ এক অর্ধশতক তুলে নেন সৌম্য। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে তিনি ম্যাকব্রেইনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে আউট হয়েছেন। মিথুন ৮ রান করে ম্যাক ব্রেইনের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন।
আল-আমিন ৫ রান করে হয়েছেন রান আউটের শিকার। শেষ দিকে মিজানুর ২ রান করে আউট হলেও ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশ দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আফিফ হোসেন।
এর আগে, দিনের শুরুতে, ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে ইতিমধ্যে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আয়ারল্যান্ড উলভসের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবিরনি। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করেন আয়ারল্যান্ডের দুই ওপেনার স্টুয়ার্ট থম্পসন ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড।

এই দুজন ওপেনিং জুটিতে যোগ করেন ৩৪ রান। এরপর ১৪ রান করে বাংলাদেশ দলের স্পিনার আফিফ হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে আউট হয়েছেন পোর্টারফিল্ড। দ্বিতীয় উইকেটে থম্পসনের সাথে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক বালবিরনি।
তবে এই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বালবিরনিকে ব্যক্তিগত ৯ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আউট করেছেন আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ২৮ রান করা থম্পসন শিকার হয়েছেন নাঈম হাসানের।
ম্যাকব্রেইনকে কট এন্ড বোল্ড আউট করেছেন পেসার সাইফিউদ্দিন। এরপর সিমি সিং ও কেভিন ও ব্রায়েনের ব্যাটে দলীয় সংগ্রহ শতক ছাড়ায় আয়ারল্যান্ডের। দলীয় শতকের পর ২১ রান তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হন কেভিন ও ব্রায়েন।
সিমি সিং একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকলেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। টাকার ১১ রান করে শরিফুলের বলে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। এরপর সিমি সিং ৪১ রান করে শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার হলে আর কেউই দাঁড়াতে পারেনি।
কেন ১ রান করে কেন ও পিটার চেজ কোনো রান না করেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে আইরিশরা অল আউট হয়ে যায় মাত্র ১৫১ রানে।
আয়ারল্যান্ড উলভসঃ ১৫১/১০ (২০ ওভার)
(সিমি সিং ৪১, স্টুয়ার্ট থম্পসন ২৮, কেভিন ও ব্রায়েন ২১, তাইজুল ইসলাম ৩৫/২, শরিফুল ৩১/২, সাইফিউদ্দিন ২০/২, নাঈম হাসান ৩১/১)
বাংলাদেশঃ ১৫৫/৬ ( ১৮ ওভার)
(জাকির ০, সৌম্য ৫৭, শান্ত ৩৮, মিথুন ৮, আফিফ ৩৫*)
আয়ারল্যান্ড এ (একাদশ):
অ্যান্ড্রু বালবিরনি (অধিনায়ক), উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড, অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন, সিমি সিং, লোরাকান টাকার (উইকেটরক্ষক), টায়রন কেন, স্টুয়ার্ট থম্পসন, কেভিন ও ব্রায়ান, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাকার্থি, পিটার চেজ।
বাংলাদেশ এ (একাদশ):
মিজানুর রহমান, জাকির হাসান, সোম্য সরকার (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিথুন (উইকেটরক্ষক), নাজমুল হোসেন শান্ত, ফজলে মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, আফিফ হোসেন, নাঈম হাসান, সাইফ হাসান।