তাসকিন, রাব্বি, সৌম্যদের পাশে মাশরাফি

ছবি:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার সহ মোট ছয়জন ক্রিকেটার। আর এই বাদ দেয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে পারফর্মেন্সকেই তুলে ধরেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
তবে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পরা সৌম্য, ইমরুল, তাসকিনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই ৬ ক্রিকেটারকে আবারো চুক্তিতে ফেরানোর জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন তিনি বলেও জানিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশ দলের সত্যিকারের ভবিষ্যৎ, তাদের সমর্থন করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। আমার জায়গা থেকে আমি পিছপা হব না। যত প্রকার সমর্থন দেওয়ার তাদের দেব।'
ধারাবাহিকতা বাড়াতে পারলে আবারো বাদ পরা ক্রিকেটাররা চুক্তিতে ফিরতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন মাশরাফি। তাঁর ভাষ্যমতে, 'জানি বাংলাদেশের এত বেশি বিকল্প খেলোয়াড় নেই। ধারাবাহিকতা বাড়িয়ে যদি তারা ফর্মে ফিরে আসে, লম্বা সময় ধরে তারা বাংলাদেশকে সেবা দিতে পারবে।'

একটা সময় মাশরাফি, সাকিব, তামিমরা তাসকিনদের মতো পারফর্ম করেও টিকে থাকতেন। মূলত সেসময় প্রতিদ্বন্দ্বীতা কম ছিলো বলেই সেটি সম্ভব ছিলো বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন,
'একসময় সাকিব-তামিম বা আমরা এমনই ছিলাম। বলতে পারেন, ওই সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটা ছিল না বলে আমরা টিকে গেছি। তাদের কাছে প্রত্যাশাটা অনেক। একটু খারাপ করলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সোচ্চার হয়ে ওঠে। ক্রিকেট খেলাটা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ছোটখাটো বিষয়ে অনেক বেশি সমালোচনা হয়।'
টাইগারদের ওয়ানডে দলপতি আরো বলেন, '২২-২৩ বছর বয়সে এত সমালোচনা নিয়ে ধারাবাহিক ভালো খেলা অনেক চ্যালেঞ্জিং। কারও বেড়ে ওঠাও তো এত পেশাদারির মধ্যে হয় না। আমরা সিনিয়ররা যারা আছি, তাদের সহযোগিতা করব। তাদেরও চেষ্টা করতে হবে, তারা যেন নিজেদের সেরা ফর্মে আসতে পারে।’
অবশ্য বাদ পরা ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ালেও নিজে কখনো বেতন নিয়ে চিন্তা করেননি মাশরাফি। বরঞ্চ ক্রিকেটকে প্যাশন হিসেবে নিয়েই খেলে এসেছেন এখন পর্যন্ত। নড়াইল এক্সপ্রেসের ভাষায়,
'প্রথমত, যত দিন ধরে খেলছি, বেতনের ভেতর আছি কি নেই, এসব নিয়ে ভাবিনি। আমার কাছে এটা কখনোই পরিষ্কার নয়। আমার সব সময়ই প্যাশন ছিল ক্রিকেট খেলা। ওই প্যাশন নিয়ে ক্রিকেট খেলছি।'
তবে বোর্ড কতজন ক্রিকেটারদের চুক্তিভুক্ত রাখবে সেটি তাদের ব্যাপার বলে মনে করেন মাশরাফি। এই প্রসঙ্গে মাশরাফির বক্তব্য, 'বেতন একজন খেলোয়াড়ের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বেশির ভাগ খেলোয়াড় এসেছে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। পরিবারের ওপর বেতন বা তার খেলার বিরাট প্রভাব থাকে। তবে সিদ্ধান্তটা বোর্ডের। কজনকে বেতন দেবে না দেবে এটা তাদের সিদ্ধান্ত।'
যদিও ক্রিকেটারদের খেলাটির প্রতি আবেগ নিয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই ম্যাশের। তবে পারফর্মেন্সের গ্রাফ সবসময় ঊর্ধ্বমুখী যে হয় না এমনটা মানছেন তিনি নিজেও। তাই বলছিলেন,
'একটা খেলোয়াড়ের জন্য বেতন (চুক্তিতে থাকা) গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে তাকে ততটুকু আবেগ দিয়েও খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, সবাই সেভাবে খেলছে। পারফরম্যান্স সব সময়ই একই গ্রাফে চলে না। কারও কখনো ভালো যায়, কারও কখনো খারাপ। বেতনের বিষয়টা নির্ভর করে পারফরম্যান্সের ওপর, এটাও সত্য।'