রোমাঞ্চ ও বিতর্কের পর অস্ট্রেলিয়ার জয়

ছবি:

ডারবান টেস্ট সব কিছুই দেখল পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ব্যাটে বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মত্ত থাকা ক্রিকেটারদের অক্রিকেটীয় আচরন সব কিছু ছাপিয়ে পঞ্চম দিনের প্রথম সকালে ১১৮ রানের বড় জয় নিয়ে ডারবানে দাপট অব্যাহত রাখল স্টিভ স্মিথরা।
এর আগে ডারবানে খেলা দুই টেস্টেও জয় পেয়েছিল অজিরা। অন্যদিকে ডারবান দিনে দিনে দুঃস্বপ্নের ভেন্যুতে পরিনত হচ্ছে প্রোটিয়াদের জন্য। ডারবানে খেলা শেষ আট টেস্টে ছয়টিতেই হার দক্ষিণ আফ্রিকার।
কিন্তু টেস্টের শুরুটা অনেকটা স্বপ্নের মত হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। আগে ব্যাট করা স্মিথদের ৩৫১ রানে থামাতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। স্লো উইকেটে ওয়ার্নার ও স্মিথের মত ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যানদের উইকেটে জমে যাওয়ার পরও থামাতে সক্ষম হয় প্রোটিয়ারা।
তবে মিচেল মার্শের লড়াকু ৯৬ রানের ইনিংস অজি ক্যাম্পে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বল হাতে নায়ক ছিলেন কেশব মহারাজ। ফিলান্ডার (তিন), রাবাদার (দুই) সাথে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত বাঁহাতি স্পিনে।

কিন্তু কে জানত মাঝারি পুঁজি নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদে ফেলবে অস্ট্রেলিয়া! নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহ্য করতে হয় মিচেল স্টার্কের বোলিং তান্ডব।
রিভার্স সুইং বিষে পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়া ক্যাম্পে ধ্বস নামান এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। তিন উইকেট নিয়ে স্টার্ককে সঙ্গ দেন নাথান লায়ন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একা লড়েছেন ৭১ রানে অপরাজিত থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্স।
ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ানরা। অনেকটা এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাঙ্কক্রফটের ফিফটিতে ২২৭ রান যোগ করে লিড বাড়িয়ে নেন ৪১৬ রানে। প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও ফাফ ডু প্লেসিসের হয়ে উইকেট নিয়েছেন মহারাজ।
হাতে দুই দিন থাকলেও চারশ ছাড়ানো স্কোর তাড়া করার কঠিন লক্ষ্য বৈকি। তার উপর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা আরও কঠিন বিপদে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকানদের। স্কোর বোর্ডে ৫০ রান তোলার আগেই টপ অর্ডারের চার উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।
শুন্য রানে প্রথম ইনিংসের নায়ক ডি ভিলিয়ার্সের রান আউট সবচেয়ে বড় ক্ষত তৈরি করে। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকেই অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় দলকে জয়ের আশা দেখান তরুন ওপেনার এইডেন মার্করাম। প্রথমে আরেক নতুন মুখ ডে ব্রাউন ও পরে ডি ককের সাথে জুটি গড়ে মৃতপ্রায় ম্যাচে প্রান ফিরিয়ে আনেন তিনি।
স্মরণীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ার ইঙ্গিত দিয়েও শেষ পর্যন্ত পঞ্চম বোলার মিচেল মার্শে পরাস্ত হন মার্করাম। ১৪৩ রান যোগ করা মার্করামের বিদায়ে লোয়ার অর্ডারের দুয়ার খুলে যায়। সেখান থেকে ফিলান্ডার, রাবাদারা ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ককে সামলাতে ব্যর্থ হয়।
সতীর্থদের অসহায় আসা যাওয়া দেখে যান অন্য প্রান্ত থেকে দারুন খেলতে থাকা ডি কক। মূলত এই তরুন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই ম্যাচটি পঞ্চম দিনে নিতে সক্ষম হয় প্রোটিয়ারা। তবে নয় উইকেট নেয়া অজিদের জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। পঞ্চম দিনের শুরুতে ডি ককের জয় সূচক উইকেটটি নেন জস হ্যাজেলউড। ম্যাচ সেরা হয়েছেন দুই ইনিংস মিলিয়ে নয় উইকেট নেয়া মিচেল স্টার্ক।