হ্যালস্যালকে কোচ না করার নেপথ্যের কাহিনী

ছবি:

গত বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সহকারি কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন রিচার্ড হ্যালস্যাল। হেড কোচের অবর্তমানে তাই নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিলো তাঁরই। কিন্তু আদতে ঘটেছে একেবারেই উল্টো।
সোমবার আসন্ন নিদাহাস ট্রফির জন্য খন্ডকালিন কোচ হিসেবে হ্যালস্যালের পরিবর্তে কোর্টনি ওয়ালশের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সহকারি কোচ হিসেবে থাকার পরও হ্যালস্যালকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয়া হলো না কেন এই প্রশ্ন ওঠাটা মোটেই অমূলক নয়।
আর এই প্রশ্নের উত্তর জানা গেছে একটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে। বিসিবির একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে হ্যালস্যালের প্রতি বেশ কিছুদিন আগে থেকেই অসন্তুষ্ট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। আর এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিলো বাংলাদেশ থেকে চূড়ান্ত বিদায় নেয়ার জন্য চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এদেশে আসার পর পরই।
সেসময় বোর্ড সভাপতি এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে হাথুরু সম্পর্কে বেশ কিছু অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন হ্যালস্যাল। সেই হ্যালস্যালই আবার পরবর্তীতে বোর্ড সভায় মাশরাফিদের নিয়ে সমালোচনায় মত্ত হন। হ্যালস্যালের এই দ্বিমুখী আচরণ ভালো লাগেনি ক্রিকেটার এবং বোর্ডের অন্য কর্মকর্তাদেরও।

এরপরেও হয়তো পার পেয়ে যেতেন এই জিম্বাবুইয়ান। কিন্তু ঘটনার তো এখানেই শেষ নয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত টি টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে বাহুর মাংসপেশিতে টান পড়েছিলো তামিম ইকবালের। এরপরেও তামিম খেলতে চাইলে ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহন তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।
এখানেও ভজঘট পাকান হ্যালস্যাল। জানা গেছে সেসময় নাকি তিনি টাইগার ওপেনারকে বলেছিলেন, ‘তুমি খেলো, এটা বোর্ড চায় না।' হ্যালস্যালের এই বক্তব্য কানে গেছে বোর্ড কর্মকর্তাদেরও। তখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বোর্ড।
তামিমের পর হ্যালস্যাল পিছু লেগেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজারও! মাশরাফির বোলিং পরিসংখ্যানের তত্ত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি বলে জানা গেছে। আর এর জন্য বিসিবির ভারতীয় কম্পিউটার অ্যানালিস্টের সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি যিনি ক্রিকেটারদের পরিসংখ্যান নিয়েই ঘাঁটাঘাঁটি করেন
কিন্তু মাশরাফিকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে উল্টো নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল দিয়েছেন হ্যালস্যাল। যেই অ্যানালিস্টকে দিয়ে এই কাজ করাতে চেয়েছিলেন তিনি যিনি আবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের হয়ে কাজ করেছেন। মাশরাফির সাথেও তাঁর যথেষ্ট খাতির ছিলো।
সেই কারণেই স্বাভাবিকভাবে এই অনৈতিক কাজ করতে রাজি হননি তিনি। উল্টো বোর্ডকে বিষয়টি ফাঁস করে দিতেও সময় নেননি। আর এসকল ঘটনার কারণেই হ্যালস্যালে ভরসা রাখছে না বিসিবি।
শুধু তাই নয়, ধারণা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে রিচার্ড হ্যালস্যালকে বিদায় করতে চাইছে বোর্ড। হয়তো আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হ্যালস্যাল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে। যদিও এর সবই নির্ভর করছে বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।
সুত্র- কালের কণ্ঠ