ঐতিহ্য হারাতে যাচ্ছে ক্রিকেট?

ছবি:

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ছাড়তে যাচ্ছেন ইংলিশ লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ। ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিই খেলবেন তিনি, এই ভাবনা থেকে ২০১৮ সালে কাউন্টি দল ইয়র্কশায়ারের সাথে শুধু ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলার চুক্তি করেছেন রাশিদ।
ঘরের মাঠে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও অস্ট্রেলিয়ায় ২০২০ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেট নিয়েই ভাবছেন এই ইংলিশ লেগি। টেস্ট দলে নিয়মিত নন রাশিদ, তবে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি দলে অন্যতম সদস্য তিনি।
সব কিছু মিলিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে লাল বলের ক্রিকেট বাদ দিচ্ছেন আদিল রাশিদ। শুধু রাশিদ নন, ইংল্যান্ড ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি দলের একটি বড় অংশ টেস্ট ও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
কারন ২০২০ সাল থেকেই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ হতে যাচ্ছে আইপিএলের আদলে গড়া তরুন টুর্নামেন্ট। সব দিক বিবেচনা করে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি স্পেশালিস্ট ক্রিকেটাররা শুধুমাত্র সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে পারে।
ঘোষণা না দিলেও ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক ইয়ন মরগান গত দুই বছর ধরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলছেন না। মিডেলসেক্সের হয়ে ২০১৫ সালে চার দিনের ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। আদিল রাশিদের মত ঘোষণা দিয়ে মরগানও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ছুটি নিতে পারেন, যা ক্রিকেট কর্তাদের ভাবনার বিষয় হবে বৈকি।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের ওপেনার অ্যালেক্স হেইলস, মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান জস বাটলার, অলরাউন্ডার ডেভিড উইলি, জফরা আর্চার, লিয়াম প্ল্যাঙ্কেটও একই পথে হাঁটতে পারেন। হেইলস ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলেছেন।
টেস্ট ওপেনার হিসেবে ব্যর্থ হলেও মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে টেস্ট অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার চেস্টা করেছিলেন এই হার্ড হিটার। কিন্তু সেখানেও তেমন সাফল্য আসে নি। শর্ট বলের বিপক্ষে তার দুর্বলতা সবার জানা। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে সম্পূর্ণ বিপরীত রেকর্ড হেইলসের।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনারদের একজন তিনি। আগামী দুই বছরে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি বিবেচনা করলে হেইলসকেও রাশিদের পথ ধরতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
জস বাটলার সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। কিছুদিন আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে টি-টুয়েন্টিকে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বলেছেন তিনি। গত দুই বছরে মাত্র পাঁচটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা বাটলারের ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার কোন পরিকল্পনা নেই বললে ভুল হবে না।
একই ভাবনা লালন করছেন অলরাউন্ডার ডেভিড উইলি। বিগ ব্যাশের নিয়মিত মুখ উইলি কিছু দিন আগেই বলেছেন, 'গত কয়েক বছর ধরে সময় সূচির কারনে চার দিনের ম্যাচ খেলা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে টেস্ট দলে জায়গা করে নেয়ার জন্য যেই পরিমান প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা দরকার সেটা সম্ভব না।' লম্বা কাউন্টি মৌসুম আবার বোলারদের ভেঙ্গে পড়ার বড় কারন বলেও মনে করেন তিনি। সেক্ষেত্রে সাদা বলের ক্রিকেটেই ক্যারিয়ার গড়তে চান উইলি।
রাশিদের মতোই ইংল্যান্ড ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সেট আপের অন্যতম সদস্য লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ শিকার করেছেন তিনি। কিন্তু পুরো বছরে মাত্র দুটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে দেখা গেছে তাকে। ৩৩ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার এখন শুধুই ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে চেয়ে আছেন।
বলার অপেক্ষা রাখে না, আদিল রাশিদের মত ইংল্যান্ডের বাকি ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি স্পেশালিস্টরা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ছুটি নিলে ভবিষ্যতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট সর্বপরি টেস্ট ক্রিকেট হুমকির মুখে পড়বে।