রেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কার জয়

ছবি:

বাংলাদেশঃ ১৯৩/৫, মুশফিকঃ ৬৬* সৌম্যঃ ৫১।
ওভারঃ ২০, মেন্ডিস ২/ ২১।
শ্রীলঙ্কাঃ ১৯৪/৪, মেন্ডিস ৫৩, পেরেরা ৩৯* শানাকা ৪২*।
ওভারঃ ১৬.৪, নাজমুল ইসলাম ২/২৫।
ফলাফলঃ ছয় উইকেটে জয়ী শ্রীলঙ্কা।
কঠিন পুঁজির মুখে বাংলাদেশঃ
আগে ব্যাট করে সৌম্য ও জাকিরের ব্যাটে দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। ওভার প্রতি দশ করে রান তুলে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। সৌম্যর ফিফটির পর মুশফিক ও রিয়াদের জুটি মিডেল অর্ডারে বাংলাদেশের রাজত্ব বজায় রাখে।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাহমুদুল্লাহ ৪০ রান যোগ করে আউট হলেও লঙ্কান বোলারদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে মুশফিক। তার হার না মানা ৬৬ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে পাঁচ উইকেটে ১৯৩ রানের বড় পুঁজি গড়তে সাহায্য করে। লঙ্কানদের হয়ে সেরা বোলার ছিলেন জীবন মেন্ডিস। তিন ওভারে ২১ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়েছেন তিনি।
লঙ্কানদের স্বাধীন ব্যাটিংঃ
বড় পুঁজি তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই হাত খুলে খেলে দুই লঙ্কান ওপেনার। গুনাথিলাকা ও মেন্ডিসে ওভার প্রতি দশ রান করে তুলে শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম ওভারেই দলের স্কোর অর্ধশত রান ছাড়া করে।
কাঙ্ক্ষিত উইকেটের দেখাঃ

ম্যাচে ফিরতে উইকেটের দরকার ছিল বাংলাদেশের। ব্যাটিং পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে এসে প্রথম উইকেট জুটি ভাঙ্গে বাংলাদেশ। অভিষিক্ত নাজমুল আপুর বলে ১৫ বলে ৩০ রান যোগ করা গুনাথিলাকা স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন।
আফিফ থামালেন মেন্ডিস ঝড়ঃ
উইকেট পতনে অবশ্য ছন্দ পতন হয়নি মেন্ডিসের। ২৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তবে বেশিদূর এগোতে পারেন নি তিনি। আফিফের বলে অষ্টম ওভারে বাউন্ডারিতে সৌম্যর হাতে ক্যাচ তোলেন তিনি। ২৭ বলে ৫৩ রান করে আউট হন মেন্ডিস।
ব্যর্থ থারাঙ্গাঃ
মেন্ডিসের বিদায়ের ঠিক পরের ওভারেই বড় শট খেলতে গিয়ে বিপদে পড়েন অভিজ্ঞ উপল থারাঙ্গা। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুলের বলে মিড উইকেট বাউন্ডারি ছাড়া করার চেস্টায় ব্যর্থ হন থারাঙ্গা। ৪ রান যোগ করে বাউন্ডারি থাকা আফিফের হাতে ক্যাচ আউট হন তিনি।
শানাকা ঝড়ঃ
পর পর দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ে পিছপা হয় নতুন ব্যাটসম্যান ধানুশ শানাকা। উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কানদের চাপে ফেললেও টাইগারদের দাপট দেখাতে দেয়নি শানাকা। ক্রিজে এসেই হাল খুলে খেলতে থাকেন তিনি।
রুবেলের আঘাতঃ
ম্যাচে ফিরতে উইকেট আবশ্যক ছিল বাংলাদেশের জন্য। অভিজ্ঞ রুবেলের করা ১২তম ওভারেই আসে কাঙ্ক্ষিত উইকেট। ৯ বলে ১১ রান যোগ করে বাউন্সারে ডিকওয়েলাকে ফেরান তিনি। দলের স্কোর তখন ১২৯ রান চার উইকেটে।
শানাকার পর পেরেরার ঝড়ঃ
ম্যাচে ফিরতে চাপ বজায় রাখা দরকার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু অভিজ্ঞ পেরেরার সাথে শানাকার অর্ধশত রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে। অধিনায়ক রিয়াদ মুস্তাফিজ ও রুবেলকে শেষের জন্য বাঁচিয়ে রাখলেও সেটা কাজে দেয় নি।
শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়ঃ
ইনিংসের ১৭তম ওভারে ২০ বল ও ছয় উইকেট হাতে রেখেই রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কা। পেরেরা ৩৯ ও শানাকা ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে আসেন। মাত্র ৩০ বলে ৬৫ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কাকে টি-টুয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে দেয় শানাকা-পেরেরা জুটি।
বোলারদের ভুলে যাওয়ার দিনঃ
একমাত্র বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল হাসান অপু ছাড়া বাকী বোলাররা সবাই ওভার প্রতি দশ রান খরচা করেছেন। অপু, রুবেল ও আফিফ উইকেটের দেখা পেলেও লঙ্কান ব্যাটসম্যানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে খেই হারায় বাংলাদেশ বোলিং অ্যাটাক।
শ্রীলংকা একাদশঃ
নিরোশান ডিকওয়েলা, উপুল থারাঙ্গা, দিনেশ চান্দিমাল (অধিনায়ক), কুশাল মেন্ডিস, জীবন মেন্ডিস, দানুস্কা গুনাথিলাকা, থিসারা পেরেরা 8, দাসুন শানাকা, আকিলা ধনঞ্জায়া, এস মাধুসাংকা, ঈশুর উদানা।
বাংলাদেশ একাদশঃ
জাকির হোসেন, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, আফিফ হোসেন, আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাজমুল ইসলাম অপু, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন।