১৩ই এপ্রিলঃ নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিলো যে দিনে

ছবি:

আগামীকাল বাংলা নববর্ষ, বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব। আর নববর্ষর ঠিক আগের দিনই ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশ যে অবিস্মরণীয় এক সাফল্য গাঁথার জন্ম দিয়েছিলো এই খবর হয়তো অনেকেই রাখেন না।
আজ নতুন প্রজন্মের ক্রিকেট প্রেমীরা হয়তো হালের সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মর্তুজাকেই দেশের ক্রিকেটের আদর্শ বলে মানেন। কেননা বাংলাদেশকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে তাদের অবদান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য।
তবে বিশ্ব ক্রিকেটে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি প্রস্তর যারা স্থাপিত করেছিলো তাদের কথা কয়জন জানি আমরা? আজ থেকে ঠিক ২১টি বছর আগে মালয়শিয়ার কুয়ালালামপুরে আজকের এই দিনে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জিতেছিলো আকরাম খান, আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের বাংলাদেশ দল।
যত সহজে বলা হলো তত সহজ অবশ্য ছিলো না ম্যাচটি জেতা। ফাইনালের সেই ম্যাচটিতে শুরুতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের সামনে ২৪২ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিলো মরিস অদুম্বের কেনিয়া। তখনকার সময় এই লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য অনেকটা পাহাড়সমই বলা চলে।
এরপর সেই লক্ষ্যে খেলতে নামার আগেই বৃষ্টি বাঁধার মুখে পরে আকরাম খানরা। শেষ পর্যন্ত পরদিন রিজার্ভ ডেতে বৃষ্টি আইনে তাদের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২৫ ওভারে ১৬৬ রান। অর্থাৎ জয়ের জন্য বাংলাদেশকে রান করতে হবে ৬ এর উপরে রান রেট রেখে।

এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব করার জন্য রীতিমত মরিয়া হয়েই তখন মাঠে নেমেছিলো টাইগাররা। দেশের জন্য বলা যায় নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ জয় করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন তারা। সেই মহারণে বিজয়ী হওয়ার জন্য কেনিয়াও নিজেদের সর্বশক্তি দিয়েই চেষ্টা করেছিলো।
যার দরুন ম্যাচটি শেষ বল পর্যন্ত গড়ায়। কেনিয়ার তৎকালীন পেসার মার্টিন সুজির করা শেষ ওভারের সর্বশেষ বলে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ১ রান। কুয়ালালামপুর তো বটেই, পুরো বাংলাদেশই যেন স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিলো ঐ মুহূর্তটিতে।
নিশ্বাস প্রশ্বাসও যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো কোটি প্রাণের। যারা সেই ম্যাচটি দেখেছে তাদের পক্ষেই শুধুমাত্র বোঝানো সম্ভব তখনকার পরিস্থিতি। সুজি যখন শেষ বলটি করার জন্য দৌড়ে আসছিলেন তখন হয়তো ক্রিজে থাকা হাসিবুল হোসেন শান্তও নিজের হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন।
উত্তেজনার আতিশয্যে শেষ বলটি তাই ব্যাটে বলে করতে পারেননি শান্ত। বরঞ্চ বলটি তার প্যাডে লেগে বের হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু ব্যাটে লাগেনি, তাতে কি! ফাইন লেগ অঞ্চল থেকে কুড়িয়ে বল পাঠানোর আগেই জয়ের জন্য মরিয়া শান্ত এবং অপরপ্রান্তে থাকা পাইলট ঠিকই প্রাণপণে দৌড়ে এক রান নিয়ে ফেললেন।
ফলে গোটা বাংলাদেশ ফেটে পড়লো আনন্দ উল্লাসে। আর বাংলাদেশও উন্মোচন করলো এক নতুন দিগন্তের। যার আলোকে আজ বাংলাদেশ উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করে চলেছে অবিরত।
এরপর একে একে ২১টি বছর পার হয়ে গেছে। সেদিনের সেই পথিকৃৎ নায়কেরা হয়তো আজ খেলছেন না, কিন্তু তাঁরা যে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মকে সেই পথ ধরেই আগামীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেট।
বদলে যাওয়ার কাব্যগাঁথা এখনও অবিরাম চলছে টিম টাইগার্সদের। ১৯৯৭ সালে বাংলা নববর্ষের ঠিক আগের দিন আইসিসি ট্রফি মাথার উপরে তুলেছিলেন আকরাম খান, বিজেতার বেশে ফিরেছিলেন দেশে।
হয়তো এমন এক দিন আসবে যখন এই ট্রফিটাকেই বিশ্বকাপে পরিণত করবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা কিংবা সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। আর নতুন আরেকটি যুগে পা রাখবে দেশের ক্রিকেট। সেই দিনটির প্রতীক্ষাতেই আছি আমি, আমরাসহ দেশের ১৬কোটি মানুষ।